যুক্তরাষ্ট্রের কথায় আস্থা নেই: বাঘের গালিবাফ

আমেরিকার মৌখিক আশ্বাসের ওপর ইরানের কোনো আস্থা নেই এবং ওয়াশিংটনকে চুক্তির ক্ষেত্রে কথার বদলে বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে তার প্রমাণ দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
শুক্রবার (২৯ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট করেন যে ইরান কোনো ধরনের ফাঁকা নিশ্চয়তা বা কথার ওপর বিশ্বাস করে না, বরং কেবল বাস্তব কার্যক্রমই তাদের মূল্যায়নের একমাত্র মানদণ্ড। আন্তর্জাতিক ডেস্কে প্রকাশিত বিশেষ সংবাদে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে স্পিকার গালিবাফ ইরানের কঠোর সামরিক ও রাজনৈতিক অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘শুধু আলোচনার মাধ্যমে নয়, বরং আমরা নিজেদের অবস্থানকে মাঠপর্যায়ে শক্তিশালী করি এবং প্রয়োজনে তা মিসাইলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করি। আলোচনা টেবিলে আমরা কেবল অপর পক্ষকে বাস্তব পরিস্থিতি বোঝানোর চেষ্টা করি মাত্র।’
তিনি সাফ জানিয়ে দেন, অন্য পক্ষ সুনির্দিষ্ট কোনো বাস্তব পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত ইরানও নিজের অবস্থান থেকে এক চুল নড়বে না বা কোনো পদক্ষেপ নেবে না। ভবিষ্যতের যেকোনো চুক্তির বাস্তবতা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, দিনশেষে জয়ী সেই পক্ষই হবে, যারা চুক্তি করার পরদিন থেকেই যুদ্ধের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রস্তুত থাকে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান তীব্র উত্তেজনা নিরসনের লক্ষ্যে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদির সঙ্গে আজ শুক্রবার এক জরুরি ফোনালাপে অংশ নেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফোনালাপে আরাঘচি জোর দিয়ে বলেছেন যে চূড়ান্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই তাদের ‘অতিরিক্ত দাবি’ এবং ‘পরস্পরবিরোধী ও পরিবর্তনশীল অবস্থান’ থেকে সম্পূর্ণ সরে আসতে হবে। এই সব একতরফা শর্ত ও অযৌক্তিক অবস্থানের কারণেই শান্তি আলোচনার অগ্রগতি মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং স্থায়ী কোনো সমঝোতা অর্জন কঠিন হয়ে পড়ছে।
এর আগে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে নিজের কঠোর অবস্থান ও দাবি-শর্তের একটি দীর্ঘ তালিকা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। আজ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানকে অবশ্যই এই লিখিত প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র বা বোমা তৈরি করবে না।
এর পাশাপাশি কৌশলগত হরমুজ প্রণালী ‘তাৎক্ষণিকভাবে’ উন্মুক্ত করার এবং সেখানে থাকা সব ধরনের সমুদ্র মাইন অপসারণের দাবিও জানান তিনি। একই সঙ্গে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে আটকে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এখন নিজ দেশে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও শর্ত জুড়ে দিয়ে বলেন, ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার ‘আইএইএ’ সরাসরি তত্ত্বাবধানে দেশটির সমস্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ও অন্যান্য পারমাণবিক উপকরণ শনাক্ত করে সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে হবে। তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, চলমান আলোচনায় আরও কিছু কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ইতিমধ্যে সমঝোতা হয়ে গেছে।
ট্রাম্প তাঁর পোস্টে জানান, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য এই চুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে শুক্রবারই তিনি হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসছেন এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের কোনো অর্থ লেনদেন বা অবমুক্ত করা হবে না।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি অনানুষ্ঠানিক সমঝোতায় সম্মত হয়েছে বলে গুঞ্জন থাকলেও দুপক্ষের তরফ থেকেই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু ঘোষণা করা হয়নি।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই বিষয়ে জানিয়েছেন যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি করার এই খসড়া প্রস্তাবটিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো তাঁর চূড়ান্ত অনুমোদন বা স্বাক্ষর দেননি। সূত্র: আল জাজিরা
ভোরের আকাশ/এম