দুর্নীতির অভিযোগে পদত্যাগ করলেন লিথুয়ানিয়ার প্রধানমন্ত্রী

দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত চলাকালে পদত্যাগ করেছেন লিথুয়ানিয়ার প্রধানমন্ত্রী গিনতাউতাস পালুকাস। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তিনি নিজেই পদত্যাগের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি দেশটির সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রধানের পদ থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
বিবৃতিতে পালুকাস বলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আজ এক ঘণ্টা আগে আমি এই সিদ্ধান্তের কথা প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছি।”
তবে পদত্যাগের পেছনে চলমান দুর্নীতির তদন্তকে দায়ী করলেও পালুকাস নিজের নির্দোষত্বে অনড়। তিনি বলেন, “আমি সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার জন্য লড়াই চালিয়ে যাব। আমি তদন্তের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছি, যা তথ্য ও অনুমানের মধ্যে প্রকৃত পার্থক্য তুলে ধরবে।”
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যমে জানানো হয়, লিথুয়ানিয়ার ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইমস ইনভেস্টিগেশন সার্ভিস (এফএনটিটি) প্রধানমন্ত্রী পালুকাসের শ্যালিকার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ডানকোরার অফিসে তল্লাশি চালিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) তহবিল ব্যবহার করে গারনিস নামের একটি কোম্পানি থেকে ব্যাটারি সিস্টেম ক্রয় করে—যার আংশিক মালিকানা রয়েছে পালুকাসের।
গত মে মাসে লিথুয়ানিয়ার অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা প্রথমবারের মতো প্রকাশ করেন, পালুকাসের মালিকানাধীন ওই কোম্পানি সরকারি ভর্তুকিসহ ঋণ পেয়েছে। এরপর থেকেই দেশটির কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগে তদন্ত শুরু করে।
সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে আরও কিছু নতুন অভিযোগ উঠে আসে, যা বর্তমানে যাচাই করছে দেশটির আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো।
উল্লেখ্য, গিনতাউতাস পালুকাস এর আগে ভিলনিয়াস শহরের পৌর প্রশাসনের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।
সূত্র: এএফপি
ভোরের আকাশ//হ.র