গুপ্তচরের দায়ে শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল ইরান

ইসরায়েলের কাছে গোপন তথ্য পাচারের দায়ে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের এক পরমাণু বিজ্ঞানী রুজবেহ ভাদির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটির সরকার। বুধবার (৬ আগস্ট) ইরানের বিচার বিভাগ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, তিনি ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে কাজ করতেন।
স্থানীয় গণমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনালের অনুসন্ধান অনুযায়ী, রুজবেহ ভাদি ছিলেন ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার অধীন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সদস্য। গুগল স্কলার প্রোফাইলে দেখা গেছে, তিনি রিঅ্যাক্টর ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি ডিগ্রিধারী এবং ২০১১ সালে ইরানের সিনিয়র পারমাণবিক বিজ্ঞানীদের সঙ্গে একটি গবেষণাপত্রে সহ-লেখক ছিলেন। ওই গবেষণায় যাঁদের সঙ্গে কাজ করেন, তাদের কেউ কেউ সাম্প্রতিক সংঘাতে নিহত হন।
আমির কবির বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য মতে, নিহত বিজ্ঞানী আব্দুলহামিদ মিনুচেহর ও আহমেদ জোলফাগারির সঙ্গে ভাদি ঘনিষ্ঠভাবে গবেষণায় যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের সম্পর্কে গোপন তথ্যই ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন তিনি।
বিচার বিভাগের দাবি, ভাদিকে অনলাইনে নিয়োগ দেয় মোসাদ এবং যাচাই-বাছাই শেষে ‘কেভিন’ ছদ্মনামের এক কর্মকর্তা তাকে পরিচালনা করতেন। মূল্যায়নের ভিত্তিতে তাকে উচ্চ-মূল্যবান সম্পদ হিসেবে চিহ্নিত করে মোসাদ এবং একাধিক প্রযুক্তি সরঞ্জাম সরবরাহ করে—যেমন: এনক্রিপ্টেড ফোন, বিশেষ ল্যাপটপ ও ফ্ল্যাশ ড্রাইভ। প্রতিটি মিশনে সফলতার ভিত্তিতে নয়, মাসিক ভিত্তিতে তাকে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ দেওয়া হতো।
সরকারি তথ্য অনুসারে, ভাদি ইচ্ছাকৃতভাবে শত্রু রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলেছিলেন। এর আগেও সাম্প্রতিক সংঘাতে ইসরায়েলকে সহায়তার অভিযোগে একাধিক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে ইরান।
ভোরের আকাশ/হ.র