সব জিম্মিকে মুক্তির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইসরায়েলের, দীর্ঘ যুদ্ধের হুঁশিয়ারি হামাসের

গাজায় চলমান সংঘাত নিরসনে হামাসের দেওয়া সব ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তির বিনিময়ে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল। শুক্রবার এক ভিডিও বার্তায় এই তথ্য জানান হামাসের সামরিক শাখা কাসেম ব্রিগেডের মুখপাত্র আবু ওবাইদা।
২০ মিনিটের ওই ভিডিওতে আবু ওবাইদা বলেন, হামাস সম্প্রতি ইসরায়েলকে একটি পূর্ণ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয়, যেখানে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, অবরোধ তুলে নেওয়া এবং সব বন্দিকে মুক্তির প্রস্তাব ছিল। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার ডানপন্থী মন্ত্রিসভা তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
আবু ওবাইদা বলেন, "নেতানিয়াহু সরকার বন্দিদের মুক্তি বা যুদ্ধের অবসানে কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছে না। হামাস একটি পূর্ণ যুদ্ধবিরতি, সেনা প্রত্যাহার এবং ত্রাণ প্রবেশের নিশ্চয়তাসহ একটি চুক্তির পক্ষপাতী।"
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইসরায়েল যদি কাতারে চলমান আলোচনায় অংশ না নেয়, তবে হামাসও কোনো আংশিক চুক্তিতে ফিরবে না। এমনকি ১০ বন্দি মুক্তির বিনিময়ে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবেও তারা রাজি হবে না।
বর্তমানে হামাসের হাতে গাজায় অন্তত ৫০ জন ইসরায়েলি বন্দি রয়েছে, যাদের মধ্যে প্রায় ২০ জন জীবিত বলে দাবি করেছেন তিনি। আবু ওবায়দা জানান, হামাসের যোদ্ধারা দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত এবং গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীকে পরাস্ত করতে তাদের অভিযান চালিয়ে যাবে।
আরব ও মুসলিম দেশগুলোর নীরব ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, "তোমাদের নীরবতায় হাজার হাজার নিরীহ ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছেন। তাদের রক্ত তোমাদের কাঁধে।"
এদিকে শুক্রবার গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আরও অন্তত ৪১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আলজাজিরা। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত ৫৮ হাজার ৬৬৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ।
ভোরের আকাশ//হ.র