ইরানের ‘ছায়া নৌবহরে’ নতুন নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের তেল পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি, নেটওয়ার্ক ও ১৭টি জাহাজের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় এ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, ইরানের অপরিশোধিত তেল, তেলজাত পণ্য ও পেট্রোকেমিক্যাল পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত এসব ব্যক্তি, নেটওয়ার্ক ও জাহাজকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানো হলো।
‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর আওতায় এসব নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এই অভিযানের লক্ষ্য হলো ইরানের যুদ্ধ, ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণ, সাইবার হামলা এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির অর্থায়ন বন্ধ করা।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের অবৈধ সমুদ্রভিত্তিক তেল বাণিজ্যের অবকাঠামোর ওপর এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় আঘাত। নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানের অবৈধ আয়ের বড় উৎস বন্ধ করা এবং তেহরানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোই এর উদ্দেশ্য।
গত ১৪ জুলাই ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ পুনরায় কার্যকর করার পর দেশটির তেল বিক্রির ওপর চাপ আরও বেড়েছে। এর আগে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতা স্মারক হয়েছিল। পরে সেটি ভেঙে গেলে অবরোধ পুনরায় কার্যকর করে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, অবরোধের বাইরে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও চীনের কাছে থাকা জাহাজগুলোতে ইরানের প্রায় ২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রয়েছে। বিশ্বে প্রতিদিন প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল তেল ব্যবহার করা হয়।
আরেক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান জাহাজে অপরিশোধিত তেল তোলা ও নামানো বন্ধ করে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ নিয়ে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ চলছে। তিনি আরও বলেন, ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাবে না।
তবে একজন বিশ্লেষক বলেছেন, ইরান সমুদ্রে থাকা প্রায় সব তেল ইতোমধ্যে সরবরাহ করে দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র জাহাজগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ফলে এর বাস্তব প্রভাব সীমিত হতে পারে।
অবসিডিয়ান রিস্ক অ্যাডভাইজর্সের ব্যবস্থাপনা প্রধান ব্রেট এরিকসন বলেন, এটি এমন এক ধরনের অর্থনৈতিক যুদ্ধ, যা মূলত ইতোমধ্যে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর নেওয়া হয়েছে এবং এর লক্ষ্য ফলাফলের চেয়ে শিরোনাম তৈরি করা।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা জাহাজগুলোর মধ্যে রয়েছে কোমোরোসের পতাকাবাহী পারিতোষ, পানামার পতাকাবাহী বিটু এবং বাহামাসের পতাকাবাহী গ্যাস লাকি।
ভোরের আকাশ/এম