শিরোনাম
হত্যা করা হয়েছে তাহসিফ সাউরিকে, প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত পুলিশমাদক ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে তরুণদের আন্দোলনের আহ্বান রাষ্ট্রপতিররাজধানীবাসীর জন্য সুখবর, ৬ রুটে একক কোম্পানির বাস চালু হচ্ছে রবিবাররোববার নতুন কাঠামোয় বেতন পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরাফ্যাসিবাদ উত্থানের পথ বন্ধ করতে রাজনৈতিক ঐক্যই বেশি প্রয়োজন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসুস্পষ্ট লঘুচাপ রূপ নিল নিম্নচাপেগাজীপুরের কোনাবাড়ি থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত সব পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণাআশুলিয়ায় শ্রমিক-পুলিশ ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, টিয়ারশেল নিক্ষেপহত্যা করা হয়েছে তাহসিফ সাউরিকে, প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত পুলিশমাদক ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে তরুণদের আন্দোলনের আহ্বান রাষ্ট্রপতিররাজধানীবাসীর জন্য সুখবর, ৬ রুটে একক কোম্পানির বাস চালু হচ্ছে রবিবাররোববার নতুন কাঠামোয় বেতন পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরাফ্যাসিবাদ উত্থানের পথ বন্ধ করতে রাজনৈতিক ঐক্যই বেশি প্রয়োজন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসুস্পষ্ট লঘুচাপ রূপ নিল নিম্নচাপেগাজীপুরের কোনাবাড়ি থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত সব পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণাআশুলিয়ায় শ্রমিক-পুলিশ ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, টিয়ারশেল নিক্ষেপ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে অর্থ ঢেলেছে কারা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১ নভেম্বর ২০২৬, ১:৫১ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে অর্থ ঢেলেছে কারা?
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে অর্থ ঢেলেছে কারা?

২০২৬ সালের যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মূল অর্থায়ন করছেন শীর্ষ ধনকুবের, বিভিন্ন ব্যবসায়ী এবং বড় বড় রাজনৈতিক সংগঠন। ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের (এফইসি) তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনী চক্রে শীর্ষ ৫০ জন ব্যক্তি ও সংগঠন মিলে মোট ২৭৭ কোটি ডলার (২.৭৭ বিলিয়ন) অনুদান দিয়েছেন।

নির্বাচনে বিপুল অর্থ দিচ্ছেন ধনকুবের, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন। তাদের অনুদানের বড় অংশ যাচ্ছে প্রার্থীদের সরাসরি প্রচারে নয়, বরং সুপার পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি বা সুপার প্যাকের মাধ্যমে।

আলজাজিরার এক বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের (এফইসি) তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ৫০ জন ব্যক্তি ও সংগঠন মোট ২৭৭ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছে।

এর মধ্যে রিপাবলিকানপন্থী অনুদানদাতারা দিয়েছেন ১৬৭ কোটি ডলার, যা মোট অনুদানের প্রায় ৬০ শতাংশ। ডেমোক্র্যাটপন্থীরা দিয়েছেন ৮৩ কোটি ২০ লাখ ডলার বা প্রায় ৩০ শতাংশ। বাকি ২৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার এসেছে দুই দলের প্রতি সমর্থন জানানো এবং বিশেষ স্বার্থসংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর কাছ থেকে। এসব সংগঠনের মধ্যে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ক্রীড়াভিত্তিক বাজি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠী রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি অনুদান ইলন মাস্কের

এবারের নির্বাচনচক্রে সবচেয়ে বড় ব্যক্তি অনুদানদাতা বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান মাস্ক এখন পর্যন্ত ৪৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার দিয়েছেন।

রিপাবলিকানপন্থী অন্য বড় অনুদানদাতাদের মধ্যে রয়েছেন জাহাজে পণ্য পরিবহনের সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইউলাইনের প্রতিষ্ঠাতা এলিজাবেথ ও রিচার্ড ইউহলিন। তারা দিয়েছেন ১৫ কোটি ডলার। ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান সুসকেহানা ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপের সহপ্রতিষ্ঠাতা জেফ ইয়াস ও তার স্ত্রী জেনিন ইয়াস দিয়েছেন ১১ কোটি ডলার।

অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটপন্থী সবচেয়ে বড় ব্যক্তি অনুদানদাতাদের মধ্যে রয়েছেন ধনকুবের বিনিয়োগকারী ও ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা জর্জ সরোস, নিউইয়র্কের সাবেক মেয়র মাইক ব্লুমবার্গ এবং লিংকডইনের সহপ্রতিষ্ঠাতা রিড হফম্যান ও তার স্ত্রী মিশেল ই।

ডেমোক্র্যাটপন্থী অনুদানদাতাদের মধ্যে সরোস দিয়েছেন ১০ কোটি ২০ লাখ ডলার, ব্লুমবার্গ ৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার এবং হফম্যান ও তার স্ত্রী ৪ কোটি ১০ লাখ ডলার।

সুপার প্যাকের মাধ্যমে যাচ্ছে বড় অঙ্কের অর্থ

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে একজন ব্যক্তি কোনো প্রার্থীকে প্রতি নির্বাচনে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ ডলার অনুদান দিতে পারেন। কিন্তু এবারের তালিকায় থাকা কয়েকজন ব্যক্তি শত শত মিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছেন।

এর কারণ, এসব অর্থের বেশির ভাগ সরাসরি প্রার্থীদের দেওয়া হয়নি। দেওয়া হয়েছে সুপার প্যাকগুলোকে। এসব সংগঠন কোনো প্রার্থীকে সমর্থন বা বিরোধিতা করতে সীমাহীন অর্থ সংগ্রহ ও ব্যয় করতে পারে। তবে প্রার্থী বা তার নির্বাচনী প্রচার দলের সঙ্গে সমন্বয় করে অর্থ ব্যয় করার সুযোগ নেই তাদের।

২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি আদালতের রায়ের পর সুপার প্যাকের কার্যক্রম শুরু হয়। ওই রায়ের ফলে প্রার্থীদের থেকে স্বাধীন সংগঠনগুলোর নির্বাচনী ব্যয়ের ওপর সীমাবদ্ধতা উঠে যায়।

সুপার প্যাকগুলোকে তাদের অনুদানদাতাদের তথ্য ফেডারেল নির্বাচন কমিশনকে জানাতে হয়। তবে ওয়ান নেশন ও মেজরিটি ফরোয়ার্ডের মতো কিছু অলাভজনক সংগঠন নিজেদের অর্থের উৎস প্রকাশ করতে বাধ্য নয়। ফলে রাজনৈতিক অনুদানের প্রকৃত উৎস অনেক সময় আড়ালে থেকে যায়। এ ধরনের অর্থায়নকে বলা হয় ‘ডার্ক মানি’।

হার্ভার্ড ল স্কুলের অধ্যাপক লরেন্স লেসিগের মতে, এই অর্থের উৎস রাজনীতিবিদদের কাছে গোপন নয়, বরং ভোটারদের কাছেই অজানা থাকে। তার ভাষায়, রাজনীতিবিদরা জানেন অর্থ কোথা থেকে আসছে এবং তাদের কী করতে হবে।

অনুদানে এগিয়ে রাজনৈতিক সংগঠন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান

সংগঠনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনুদান দিয়েছে রাজনৈতিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলো। রিপাবলিকানপন্থী সংগঠনগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ওয়ান নেশন। সংগঠনটি সিনেটের রিপাবলিকান নেতৃত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এরপর রয়েছে প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত আমেরিকান অ্যাকশন নেটওয়ার্ক।

ডেমোক্র্যাটপন্থী সংগঠনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনুদান দিয়েছে মেজরিটি ফরোয়ার্ড ও হাউস মেজরিটি ফরোয়ার্ড। এগুলো সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

রিপাবলিকানপন্থী সংগঠনগুলোর মধ্যে ওয়ান নেশন দিয়েছে ১৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার, আমেরিকান অ্যাকশন নেটওয়ার্ক ৬ কোটি ৪৩ লাখ ডলার এবং আমেরিকান প্রসপারিটি অ্যালায়েন্স ৫ কোটি ৭ লাখ ডলার।

অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটপন্থী মেজরিটি ফরোয়ার্ড দিয়েছে ১০ কোটি ২০ লাখ ডলার, হাউস মেজরিটি ফরোয়ার্ড ৯ কোটি ৩৭ লাখ ডলার এবং ইকোনমিক অপরচুনিটি ফান্ড ৪ কোটি ১৫ লাখ ডলার।

ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোও বড় অঙ্কের অর্থ দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ কয়েনবেস দিয়েছে ৫ কোটি ৭৮ লাখ ডলার। ব্লকচেইনভিত্তিক অর্থ লেনদেন প্রতিষ্ঠান রিপল দিয়েছে ৪ কোটি ৯৬ লাখ ডলার এবং ক্রিপ্টো ডটকমের মূল প্রতিষ্ঠান ফরিস ডিএএক্স দিয়েছে ৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

এ ছাড়া শিল্পগোষ্ঠী কোচ দিয়েছে ৪ কোটি ৬৮ লাখ ডলার এবং ক্রীড়াভিত্তিক বাজি ধরার প্রতিষ্ঠান ড্রাফটকিংস দিয়েছে ৪ কোটি ৪ লাখ ডলার।

অনুদানের অর্থের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগ

এবারের নির্বাচনে চারজন ব্যক্তি প্রত্যেকে ১০ কোটি ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছেন। অধ্যাপক লরেন্স লেসিগের মতে, নির্বাচনে মোট কত অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তার চেয়ে বড় উদ্বেগ হলো অল্প কয়েকজন ধনীর হাতে বিপুল অনুদানের অর্থ কেন্দ্রীভূত হওয়া।

তার মতে, যাদের হাতে বিপুল অর্থ নেই, নির্বাচনী রাজনীতিতে তাদের প্রভাব বিস্তারের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ছে। ফলে গণতন্ত্রে সাধারণ মানুষের মতামত ও প্রভাব কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।

ভোরের আকাশ/আ.র

শেয়ার করুন: