জেনেভায় নির্ধারিত চুক্তি অনুষ্ঠান বাতিল, জানাল ইরান

আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডের রাজধানী জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে নির্ধারিত ‘ইসলামাবাদ মেমোর্যান্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং (এমওইউ)’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান আর অনুষ্ঠিত হচ্ছে না বলে দাবি করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম আইআরআইবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়েই এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, “ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পর্যায়ে ইতোমধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়ে গেছে। তাই আলাদাভাবে কেবল আনুষ্ঠানিকতার জন্য জেনেভায় প্রতিনিধি পাঠানোর প্রয়োজন দেখছে না ইরান সরকার।”
এর আগে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে ইসলামাবাদ এমওইউ-এর একটি খসড়া প্রস্তাব পাঠায়। ১৪ দফা সম্বলিত প্রায় ৮০০ শব্দের ওই খসড়া নিয়ে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে আলোচনা-পর্যালোচনার পর সেটি চুক্তি হিসেবে গ্রহণে সম্মত হয় ইরান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি প্যারিসে জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। পরে তেহরানে নিজ কার্যালয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বলে দাবি করা হয়, যার ছবি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, স্থায়ী শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরবর্তী আলোচনার জন্য দুই দেশ ৬০ দিনের সময় পাবে। এই সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জাহাজের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা হবে এবং এর বিনিময়ে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ শিথিল করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিরসনে ভূমিকা রেখে আসছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, চুক্তির শর্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়েই আরও বলেন, “ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত ছিল এই পর্যায়ে পারমাণবিক বিষয় নিয়ে আলোচনা না করা। আমাদের লক্ষ্য ছিল যুদ্ধের অবসান ঘটানো, যা আমরা অর্জন করেছি।” সূত্র : সিএনএন
ভোরের আকাশ/সু.পা