রুশ হামলায় ইউক্রেনের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত

রাশিয়ার তীব্র হামলায় ইউক্রেনের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বিমানটির পাইলট লেফটেন্যান্ট কর্নেল ম্যাকসিম উস্তিমেনকো। রোববার (২৯ জুন) মধ্যরাতে ইউক্রেনজুড়ে চালানো বড় পরিসরের রুশ হামলার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাতভর রাশিয়া সাড়ে পাঁচশ’র বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে একযোগে হামলা চালায়। ওই হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে সাতটি আকাশ হামলা সফলভাবে রুখে দেওয়ার পর এফ-১৬ বিমানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও পরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যায়।
১৯৯৩ সালে জন্ম নেওয়া ম্যাকসিম উস্তিমেনকো ইউক্রেনের আধুনিক এয়ারফোর্সের একজন প্রশিক্ষিত ও দক্ষ পাইলট ছিলেন। পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে পাওয়া উন্নত এফ-১৬ যুদ্ধবিমান চালাতে পারদর্শী ছিলেন তিনি। তার এই মৃত্যু ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর জন্য একটি “অপূরণীয় ক্ষতি” বলেই বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশ থেকে বহু তদবির ও অনুরোধের পর ইউক্রেন কিছু সংখ্যক এফ-১৬ যুদ্ধবিমান সংগ্রহ করেছিল। যদিও ইউক্রেন সরকার কখনো স্পষ্ট করে জানায়নি, তাদের হাতে ঠিক কতটি এফ-১৬ রয়েছে। এই নিয়ে যুদ্ধ শুরুর পর দেশটি মোট তিনটি এফ-১৬ হারাল।
ইউক্রেনীয় সংবাদমাধ্যম কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, রোববার মধ্যরাতের ওই হামলায় দক্ষিণের মাইকোলাভ, দক্ষিণ-পূর্ব জাপোরিঝিয়া, এবং পশ্চিম লভিভ অঞ্চলে ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
এর আগেও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই বড় হামলার কথা জানিয়েছিলেন, তবে যুদ্ধবিমান ধ্বংস ও পাইলট নিহতের বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।
যুদ্ধ শুরুর আগে ইউক্রেনের বিমানবাহিনী তুলনামূলকভাবে পুরোনো মডেলের যুদ্ধবিমান ব্যবহার করত। রাশিয়ার সঙ্গে সমানে সমানে প্রতিযোগিতা করতে কয়েকজন পাইলটকে পশ্চিমা মিত্ররা প্রশিক্ষণ দেয় আধুনিক প্রযুক্তির বিমান চালানোর জন্য। এই প্রশিক্ষিত পাইলটদের মধ্যে একজন ছিলেন উস্তিমেনকো। ফলে তার মৃত্যু ইউক্রেনের জন্য শুধু একটি জীবনহানিই নয়, একটি কৌশলগত ক্ষতিও।
সূত্র: আলজাজিরা
ভোরের আকাশ//হ.র