পাকিস্তানের আজাদ কাশ্মিরে সংঘর্ষে ২ পুলিশসহ নিহত ৯

পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মিরের পুঞ্চ জেলায় নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএকে) এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুইজন পুলিশ সদস্য এবং সাতজন জেএএকে কর্মী রয়েছেন।
বুধবার (১৫ জুলাই) আজাদ কাশ্মিরের রাজধানী মুজাফফরাবাদ অভিমুখে জেএএকের ঘোষিত লংমার্চের একদিন আগে, মঙ্গলবার পুঞ্চ জেলার রাওয়ালকোটের মুতিয়ালমেরা এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন জানায়, মঙ্গলবার সকালে মুতিয়ালমেরা এলাকায় পুলিশ অভিযান শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে আজাদ কাশ্মির পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, জেএএকে সেখানে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত করেছে—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান চালানো হয়।
পুঞ্চের জেলা প্রশাসক সরদার ওয়াহিদ খান জানান, অভিযানের সময় জেএএকে সমর্থক ও কর্মীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ও পাথর নিক্ষেপ করে। এতে বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হন।
অন্যদিকে, পৃথক এক সংবাদ সম্মেলনে আজাদ জম্মু-কাশ্মিরের স্বরাষ্ট্র সচিব চৌধুরি গুফতার হুসেইন দাবি করেন, জেএএকের কর্মীরাই প্রথমে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালায়, যার জের ধরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
এদিকে সংঘর্ষের পর জেএএকের শীর্ষ নেতা খাজা মেহরান তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারকে আরও দুই দিন সময় দিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে চৌধুরি গুফতার হুসেইন বলেন, "কোনো ব্ল্যাকমেইলারের দাবি রাষ্ট্র মেনে নেবে না এবং সব ব্ল্যাকমেইলারকে লৌহকঠিন হাতে দমন করা হবে।"
আন্দোলনের পটভূমি
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর জম্মু-কাশ্মির অঞ্চলের আজাদ কাশ্মির ও গিলগিট-বাল্টিস্তান পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে অঞ্চল দুটি পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত প্রশাসনিক অঞ্চল হিসেবে পরিচালিত হয় এবং উভয় এলাকায় পৃথক আইনসভা রয়েছে।
আজাদ কাশ্মিরের বিধানসভায় মোট ৪৫টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে ১২টি আসন ভারতের জম্মু-কাশ্মির থেকে আসা উদ্বাস্তুদের জন্য সংরক্ষিত।
বিধানসভার সংরক্ষিত আসন ব্যবস্থা বাতিল এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির দাবিতে গত ৫ জুন আন্দোলন শুরু করে জেএএকে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে ৯ জুন হরতালের ডাক দিলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সংঘর্ষে ২৪ জন নিহত হন। পরবর্তীতে দাবিগুলো বাস্তবায়নে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেয় জেএএকে। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পরই নতুন করে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল। সূত্র : ডন
ভোরের আকাশ/সু.পা