শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশে পাঠানো মমতাজকে ক্ষতিপূরণ দিতে ও ভারত ফেরানোর নির্দেশ আদালতের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৩ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের আসাম রাজ্যের নাগরিক মমতাজ বেগমকে ‘বিদেশি’ ঘোষণা করে আপিলের সুযোগ না দিয়েই বাংলাদেশে পাঠানোর ঘটনায় আসাম সরকারকে দুই লাখ রুপি অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন গুয়াহাটি হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মমতাজ বেগমকে খুঁজে বের করে ভারতে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

গত ৩ সেপ্টেম্বর গুয়াহাটি হাইকোর্টের বিচারপতি কল্যাণ রাই সুরানা ও বিচারপতি সুস্মিতা ফুকন খান্ডের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন বলে জানিয়েছে ভারতের দৈনিক ‘দ্য হিন্দু’।

মমতাজ বেগমের স্বামী মুজাম্মেল হকের করা হেবিয়াস কর্পাস আবেদনের শুনানি শেষে আদালত এ নির্দেশ দেন। হেবিয়াস কর্পাস হলো অবৈধভাবে আটক ব্যক্তিকে আদালতের সামনে হাজির করার জন্য করা একটি আইনি আবেদন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নির্বাসনসংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘন করে কোনো ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ঘটনায় রাষ্ট্রের ওপর ক্ষতিপূরণ আরোপের এটিই প্রথম ঘটনা।

মামলার নথি অনুযায়ী, আসামের মধ্যাঞ্চলীয় নগাঁওয়ের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল গত ৩০ মে মমতাজ বেগমকে ‘বিদেশি’ ঘোষণা করে। ট্রাইব্যুনালের এই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট ‘আইনি বিদ্বেষ’ প্রকাশ পেয়েছে বলে পর্যবেক্ষণ করেছেন হাইকোর্টের বিচারকেরা।

এর আগে মামলাটি পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। আদালতের মতে, মমতাজ বেগমের জমা দেওয়া সব প্রমাণ ট্রাইব্যুনাল বিবেচনায় নেয়নি। পুনর্বিবেচনার পর গত ৩০ মে ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে নিজেকে ‘বিদেশি’ ঘোষণার আদেশ পান মমতাজ। তবে ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার সুযোগ পাওয়ার আগেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মমতাজকে গ্রেপ্তারের সময় ও পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাইব্যুনালের সদস্য ও পুলিশের দেওয়া তথ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ডিভিশন বেঞ্চের বিচারকেরা।

আদালত বলেছে, মমতাজ বেগমের ক্ষেত্রে অনুসরণ করা প্রক্রিয়া ঘোষিত বিদেশি নাগরিকদের বহিষ্কারসংক্রান্ত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরের (এসওপি) ‘সরাসরি লঙ্ঘন’। এসওপি অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে বহিষ্কারের আগে তার আইনি প্রতিকার পাওয়ার সব সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করেন, রাষ্ট্রযন্ত্রই মমতাজ বেগমকে ট্রাইব্যুনালের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যাওয়ার অধিকার প্রয়োগে বাধা দিয়েছে। এ কারণে আসাম সরকারকে মমতাজের স্বামী মুজাম্মেল হককে দুই লাখ রুপি অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত আরও বলেছে, এই ক্ষতিপূরণ দেওয়ানি আদালতে অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ চাওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর অধিকার খর্ব করবে না। বরং এটি অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য হবে।

গত ৩০ মে ট্রাইব্যুনালের আদেশটি ঠিক কবে ও কখন প্রস্তুত করা হয়েছিল, তা তদন্ত করে জানাতে আসামের স্বরাষ্ট্র ও রাজনৈতিক বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আদেশে বলা হয়েছে, মতামতটি কখন লেখা হয়েছিল, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনাল সদস্যের কম্পিউটারও জব্দ করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন

হরমুজে ১০ জাহাজে হামলার দাবি আইআরজিসির

একই সঙ্গে জেলা পুলিশ সুপারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোনো ঘোষিত বিদেশি নাগরিককে হেফাজতে নেওয়ার আগে তাকে ট্রাইব্যুনালের আদেশ সম্পর্কে জানাতে হবে। কাউকে জেলা থেকে সরিয়ে নেওয়ার আগে তার পরিবারের একজন প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যকেও বিষয়টি জানাতে হবে।

নগাঁওয়ের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল মমতাজ বেগমের মামলা যেভাবে পরিচালনা করেছে, তা নিয়েও কঠোর মন্তব্য করেছেন বিচারকেরা। নথিপত্র পর্যালোচনায় ট্রাইব্যুনালের কর্মকাণ্ডে ‘আইনের দৃষ্টিতে বিদ্বেষমূলক উদ্দেশ্যের’ ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে পর্যবেক্ষণ করেন তারা। সবশেষে মামলায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পক্ষভুক্ত করেছেন গুয়াহাটি হাইকোর্ট।

ভোরের আকাশ/সু.পা

শেয়ার করুন: