বিদেশি শিক্ষার্থী কমায় চাপে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ভর্তি কমতে শুরু করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি, বাড়তি ভিসা জটিলতা এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারি বৃদ্ধির কারণে অনেক শিক্ষার্থী এখন যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যেতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। একই সময়ে এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আকর্ষণে এগিয়ে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ক মার্কিন অলাভজনক সংস্থাসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের বসন্ত সেমিস্টারে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ভর্তি আগের বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ কমেছে।
১৪৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রায় ৬২ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর—উভয় পর্যায়েই বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। শুধু স্নাতকোত্তর পর্যায়েই গড়ে ভর্তি কমেছে ২৪ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে। বিদেশে জন্ম নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অর্থায়ন কমিয়ে দেওয়ার হুমকিও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
গত আগস্টে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত আগের বছরের তুলনায় ১৯ শতাংশ কমে যায়। একই সঙ্গে নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ভর্তি কমেছে প্রায় ১৭ শতাংশ। তিন বছরের মধ্যে এই প্রথম দেশটিতে বিদেশি শিক্ষার্থীর মোট সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা বিশেষজ্ঞ সাইমন মার্জিনসন বলেন, প্রশাসন যতদিন বিশ্বকে হুমকিপূর্ণ জায়গা হিসেবে দেখবে, ততদিন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যা আরও কমবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা সাধারণত পূর্ণ টিউশন ফি পরিশোধ করেন। ফলে তাদের সংখ্যা কমে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাজেটে চাপ বাড়বে এবং শিক্ষাঙ্গনের বৈচিত্র্যও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
অন্যদিকে, এশিয়া ও ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এই পরিস্থিতির সুবিধা পাচ্ছে। জরিপ অনুযায়ী, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ৮২ শতাংশ এবং ইউরোপের ৪৭ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ভর্তি বেড়েছে।
বিশেষ করে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও থাইল্যান্ডে চীনা শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। কম খরচ, ভৌগোলিক সুবিধা ও তুলনামূলক বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশের কারণে অনেক শিক্ষার্থী এখন এসব দেশের দিকে ঝুঁকছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত খাতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে এশিয়ার উত্থান আরও শক্তিশালী হবে। সূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস
ভোরের আকাশ/সু.পা