অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেলে আলজেরিয়ার বিশ্বকাপ অভিযান

‘লেস ফেনেকস’—অর্থাৎ মরুভূমির শিয়ালরা আবারও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের অপেক্ষায়। ভ্লাদিমির পেটকোভিচের নেতৃত্বে আলজেরিয়া এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে বড় কোনো চমক দেখানোর স্বপ্ন নিয়ে উত্তর আমেরিকায় পা রাখছে।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর পেটকোভিচ আলজেরিয়ার ফুটবলে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছেন। এর আগে সাত বছর সুইজারল্যান্ড জাতীয় দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি দলটিকে ২০১৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো এবং ইউরো ২০২০-এর কোয়ার্টার ফাইনালে নিয়ে গিয়েছিলেন। এছাড়া ২০১৩ সালে ইতালিয়ান ক্লাব লাৎসিওকে কোপা ইতালিয়া শিরোপা জেতানোর অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার ঝুলিতে।
তার অধীনেই আলজেরিয়া ২০২৫ আফ্রিকান কাপ অব নেশনস এবং ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে। অভিজ্ঞতা, কৌশলগত শৃঙ্খলা এবং প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গড়া দলটি এবার বিশ্বমঞ্চে নিজেদের নতুন করে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।
আলজেরিয়ার বিশ্বকাপ সূচি
১৬ জুন: আর্জেন্টিনা বনাম আলজেরিয়া – কানসাস সিটি স্টেডিয়াম
২২ জুন: জর্ডান বনাম আলজেরিয়া – সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়াম
২৭ জুন: আলজেরিয়া বনাম অস্ট্রিয়া – কানসাস সিটি স্টেডিয়াম
আলজেরিয়ার বিশ্বকাপ ইতিহাস
কনফেডারেশন: সিএএফ
সেরা বিশ্বকাপ: ২০১৪ (শেষ ষোলো)
সর্বশেষ বিশ্বকাপ: ২০১৪ (শেষ ষোলো)
প্রথম বিশ্বকাপ: ১৯৮২ (গ্রুপ পর্ব)
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ: ৫ বার (১৯৮২, ১৯৮৬, ২০১০, ২০১৪, ২০২৬)
সামগ্রিক বিশ্বকাপ রেকর্ড: ম্যাচ-১৩, জয়-৩, ড্র-৩, হার-৭, গোল দিয়েছে-১৩, গোল খেয়েছে-১৯
ফিফা র্যাঙ্কিং: ২৮তম
আলজেরিয়ার প্রথম বিশ্বকাপ
১৯৮২ সালে স্পেনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার অভিষেক ঘটে। শুরুতেই তারা শক্তিশালী পশ্চিম জার্মানিকে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দেয়। প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে তারা কোনো ইউরোপিয়ান প্রতিপক্ষকে হারায়। যদিও পরবর্তী ম্যাচে অস্ট্রিয়ার কাছে হেরে যায় তারা। শেষ ম্যাচে চিলির বিপক্ষে ৩-২ গোলে জয় পেলেও গোল ব্যবধানের মারপ্যাঁচে তারা প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেয়। পশ্চিম জার্মানি ও অস্ট্রিয়ার মধ্যকার একটি বিতর্কিত ম্যাচের ফলে আলজেরিয়াকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যেতে হয়েছিল। ওই আসরেই প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে এক আসরে দুটি জয়ের ইতিহাস গড়ে তারা।
আলজেরিয়ার শেষ বিশ্বকাপ
২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে আলজেরিয়া তাদের ইতিহাসের সেরা সময় পার করে। গ্রুপ পর্বে বেলজিয়ামের কাছে হারলেও দক্ষিণ কোরিয়াকে ৪-২ গোলে উড়িয়ে দেয় তারা। এরপর রাশিয়ার সাথে ১-১ ড্র করে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয়। শেষ ষোলোতে তারা পরাশক্তি জার্মানির সাথে সমানে সমান লড়াই করে ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যায়। যদিও শেষ পর্যন্ত তারা ২-১ ব্যবধানে হেরে যায়, কিন্তু তাদের লড়াকু ফুটবল সবার প্রশংসা কুড়ায়।
আলজেরিয়ার বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা
আলজেরিয়ার ১৩টি বিশ্বকাপ গোলের মালিক ১০ জন ভিন্ন খেলোয়াড়। তবে তিনজন খেলোয়াড় দুটি করে গোল করেছেন। সালাহ আসাদ ১৯৮২ সালে চিলির বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন। ইসলাম স্লিমানি ২০১৪ বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়া ও রাশিয়ার বিপক্ষে গোল করেন। আবদেলমুমেন জাবৌ ২০১৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়া ও জার্মানির বিপক্ষে গোল করে আসাদের রেকর্ডে ভাগ বসান।
আলজেরিয়ার রেকর্ড বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়
ডিফেন্ডার রাফিক হালিচ আলজেরিয়ার হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ৭টি ম্যাচ খেলেছেন। ২০১০ এবং ২০১৪—এই দুটি আসরের প্রতিটি ম্যাচেই তিনি মাঠে ছিলেন। ২০১৪ আসরে রাশিয়ার বিপক্ষে এবং জার্মানির বিপক্ষে ঐতিহাসিক ম্যাচে তিনি দলের অধিনায়কের দায়িত্বও পালন করেছিলেন। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে তার করা একটি দর্শনীয় হেডারের গোলও রয়েছে।
আলজেরিয়ার বিশ্বকাপ স্কোয়াড
গোলকিপার- ওসামা বেনবট, মেলভিন মাস্টিল, লুকা জিদান
ডিফেন্ডার- আশরাফ আবাদা, রায়ান আইত-নুরি, জিনেদ্দিন বেলাইদ, রাফিক বেলঘালি, রামি বেনসেবাইনি, সামির শেরগুই, জাওয়েন হাদজাম, আইসা মান্দি, মোহামেদ তুগাই
মিডফিল্ডার- হৌসেম আওয়ার, নাবিল বেনতালেব, হিচাম বুদাউই, ফারেস শাইবি, ইব্রাহিম মাজা, ইয়াসিন তিত্রাউই, রামিজ জেরুকি
ফরোয়ার্ড- মোহামেদ আমুরা, নাধির বেনবুয়ালি, আদিল বুলবিনা, ফারেস ঘেদজেমিস, আমিন গুইরি, রিয়াদ মাহরেজ, আনিস হাজ মুসা।
ভোরের আকাশ/সু.পা