বাবা কখনো ইংল্যান্ড ম্যাচকে সাধারণভাবে নেননি : ম্যারাডোনা জুনিয়র

ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে মাঠের বাইরের বিতর্ক ও আবেগকে দূরে রেখে ফুটবলে মনোযোগ দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি ও মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পল। তবে এমন ম্যাচকে সাধারণভাবে দেখতে নারাজ কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার ছেলে ম্যারাডোনা জুনিয়র। তার ভাষায়, ‘আমার বাবা কখনোই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচকে অন্য সব ম্যাচের মতো স্বাভাবিকভাবে নিতেন না।’
ম্যারাডোনা জুনিয়র ইংল্যান্ড ম্যাচের পেছনের আবেগ ও উত্তেজনার প্রসঙ্গে স্মরণ করেছেন ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের কথা। দক্ষিণ আটলান্টিকের ওই দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ৭৪ দিনব্যাপী যুদ্ধ হয়েছিল। সেই সংঘাতে প্রাণ হারান ৯০৭ জন। এর চার বছর পর ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয় দুই দেশ। সেই ম্যাচে ম্যারাডোনার দুই ঐতিহাসিক গোল—‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’—আর্জেন্টিনাকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে স্মরণীয় জয় এনে দেয়।
বিশ্বকাপজয়ী সেই আসরের স্মৃতি টেনে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কাকে ম্যারাডোনা জুনিয়র বলেন, ‘সব আর্জেন্টাইন এবং ম্যারাডোনা-ভক্তদের জন্য এটি বিশেষ একটি ম্যাচ। এই লড়াই আমাদের ফকল্যান্ড যুদ্ধ এবং সেখানে প্রাণ হারানো দেশবাসীর কথা মনে করিয়ে দেয়। একই সঙ্গে ১৯৮৬ সালে আমার বাবার সেই ঐতিহাসিক পারফরম্যান্সের স্মৃতিও ফিরিয়ে আনে। এরপর থেকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোনো ম্যাচই আর সাধারণ থাকেনি।’
স্কালোনি ও ডি পল যতই মাঠের বাইরের উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করুন না কেন, ম্যারাডোনা জুনিয়রের বক্তব্যে সেই আবেগই যেন আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা কখনোই এটিকে সাধারণ ম্যাচ হিসেবে দেখতেন না। আমরা অনেক কিছু বলতে পারি, কিন্তু সত্য হলো—এটি কোনো সাধারণ ম্যাচ নয়।’
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আজ রাতে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। আটলান্টায় বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় শুরু হবে ফাইনালে ওঠার এই মহারণ। ম্যাচটি যে দুই দলের জন্যই কঠিন হতে যাচ্ছে, সেটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন ম্যারাডোনা জুনিয়র।
তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য এটি কঠিন ম্যাচ হতে যাচ্ছে। ইংল্যান্ড ভালো খেলছে, তবে তাদেরও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মোকাবিলা করতে হবে। তাই এটি দুই দলের জন্যই কঠিন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই হবে।’
বিশ্বকাপে এ নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। আগের পাঁচ দেখায় ইংল্যান্ড জয় পেয়েছে তিনবার, আর আর্জেন্টিনা জিতেছে দুইবার। তবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দুই দলের তিনটি সাক্ষাতে দু’বার জয় নিয়ে এগিয়ে আছে আলবিসেলেস্তেরারাই।
ভোরের আকাশ/সু.পা