কোমোর কাছে বিধ্বস্ত ইউনাইটেড, নিকো পাজের জোড়া গোল

ইউরোপীয় ফুটবলে বড় অঘটনের সাক্ষী হলো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ইতালিয়ান ক্লাব কোমোর কাছে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হেরেছে ইংলিশ জায়ান্টরা। ম্যাচে আর্জেন্টাইন তরুণ নিকো পাজের জোড়া গোল ও একটি অ্যাসিস্টে দিশেহারা হয়ে পড়ে ইউনাইটেডের রক্ষণভাগ। লিওনেল মেসির সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় থাকা পাজের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে স্মরণীয় জয় পেয়েছে কোমো।
কোমোর জিউসেপ্পে সিনিগালিয়া স্টেডিয়ামে ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই গোল করে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন পাজ। বক্সের বাইরে থেকে তাঁর বাঁকানো শট ঠেকাতে পারেননি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের গোলরক্ষক সেনে ল্যামেন্স। শট নেওয়ার সময় সামনে হ্যারি ম্যাগুয়ার থাকলেও পাজকে আটকাতে পারেননি তিনি।
বিরতির পর মাঠে ফিরেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে কোমো। দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর চার মিনিটের মাথায় পাজের নিখুঁত পাস ধরে এগিয়ে আসা গোলরক্ষক ল্যামেন্সের ওপর দিয়ে বল জালে পাঠান আনাস্তাসিওস দুভিকাস। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটি তাঁর টানা তিন ম্যাচে তৃতীয় গোল।
এরপর পাজের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে আরও বিপাকে পড়ে ইউনাইটেড। ডান দিকের টাচলাইনের কাছে কার্লোস বালেবার কাছ থেকে বল কেড়ে নেন আর্জেন্টাইন এই তরুণ। এরপর ৩০ মিটারের বেশি দূরত্ব থেকে বল নিয়ে প্রতিপক্ষের বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে দূরের পোস্ট ঘেঁষে জালে পাঠান তিনি। এতে কোমোর ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ৩-০।
৭৬ মিনিটে কোমোর চতুর্থ গোলটি করেন জ্যাকোবো রামোন। বদলি হিসেবে মাঠে নামা কাইকি ব্রুনোর ক্রস থেকে হেডে লক্ষ্যভেদ করেন এই সেন্টারব্যাক। ততক্ষণে ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে পড়ে ইউনাইটেড। যোগ করা সময়ে আমাদ দিয়ালোর ক্রস থেকে গোল করে ব্যবধান কমান জশুয়া জির্কজি। তবে তাতে হারের ব্যবধান ছাড়া ম্যাচের ফল পরিবর্তন হয়নি।
আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে লিওনেল মেসির প্লেমেকারের ভূমিকায় ভবিষ্যতে জায়গা করে নেওয়ার সম্ভাব্য দাবিদার হিসেবে নিজেকে তুলে ধরছেন নিকো পাজ। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে তাঁর পারফরম্যান্স সেই আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে।
এই ম্যাচে দ্বিতীয় মিনিটেই গোল হজম করে অনাকাঙ্ক্ষিত এক রেকর্ডেও নাম লিখিয়েছে ইউনাইটেড। গত সপ্তাহে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের কাছে ২-০ গোলে হারের ম্যাচে প্রথম মিনিটেই গোল হজম করেছিল দলটি। এবার কোমোর বিপক্ষেও দুই মিনিটের মধ্যে গোল খেয়েছে তারা। ফলে টানা দুই ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার ম্যাচে প্রথম দুই মিনিটের মধ্যে গোল হজম করা প্রথম ইংলিশ দল হয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের সর্বশেষ ১১টি অ্যাওয়ে ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে ইংলিশ ক্লাবটি। অন্যদিকে, এই জয়ে পয়েন্ট তালিকার নবম স্থানে উঠে এসেছে কোমো। বিপরীতে ইউনাইটেড নেমে গেছে ২০তম স্থানে।
ভোরের আকাশ/সু.পা