এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশকে হারিয়ে ফাইনালে পাকিস্তান

নাগোয়ার নিশিন করোগি স্পোর্টস পার্কের ধীরগতির উইকেটে ১৩ ওভারে ১১২ রানের লক্ষ্য খুব বড় মনে হয়নি। কিন্তু বোলিংয়ে মুস্তাফিজুর রহমানের হতাশাজনক পারফরম্যান্সে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি হাতছাড়া হয়েছে বাংলাদেশের। মুস্তাফিজের মাত্র ২ ওভারে ৪১ রান তুলে ৯ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটের জয় পেয়েছে পাকিস্তান। এ জয়ে এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে তারা।
এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের প্রথম সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হেরে ফাইনালের স্বপ্ন শেষ হয়েছে বাংলাদেশের। তবে এখনও পদক জয়ের সুযোগ রয়েছে লিটন দাসের দলের সামনে। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার ম্যাচের পরাজিত দলের বিপক্ষে ৩ অক্টোবর সকালে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে খেলবে বাংলাদেশ। জয় পেলে মিলবে ব্রোঞ্জ পদক।
নাগোয়ার আশিন সিটিতে বাংলাদেশি প্রবাসীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। লিটন-মুস্তাফিজদের জয় দেখতে মাঠে এসেছিলেন তারা। পাকিস্তানকে হারাতে পারলে বাংলাদেশ ফাইনালে উঠে অন্তত রৌপ্য পদক নিশ্চিত করতে পারত। কিন্তু ৬ উইকেটের হারে এখন ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে নামতে হবে তাদের।
টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৩ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১১১ রান করে বাংলাদেশ। বৃষ্টিতে চার দিনের বেশি সময় উইকেট কাভারের নিচে থাকায় পিচে স্পিনাররা বাড়তি সুবিধা পেয়েছেন। বাংলাদেশ চারজন স্পিনার নিয়ে খেললেও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে বোলিংয়ে ব্যবহার করেননি অধিনায়ক লিটন দাস।
জবাবে শুরুতে স্পিন দিয়ে পাকিস্তানকে চাপে রাখে বাংলাদেশ। দুই প্রান্ত থেকে স্পিনার দিয়ে বল করিয়ে প্রথম ৩ ওভারে ২০ রান দিয়ে ২ উইকেট তুলে নেয় তারা। কিন্তু পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে মুস্তাফিজকে আক্রমণে আনেন লিটন। সেই ওভারেই ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন সাইম আইয়ুব।
মুস্তাফিজের প্রথম দুই বলেই টানা দুটি ছক্কা হাঁকান আইয়ুব। অবশ্য ওভারের শেষ বলে স্লোয়ারে তাকে ফিরিয়ে দেন মুস্তাফিজ। এরপর দলীয় ৫৩ রানে উসমান খান আউট হলে আবারও ম্যাচে ফিরে আসে বাংলাদেশ।
রিশাদ হোসেন ও শেখ মেহেদী দুই প্রান্ত থেকে রান নিয়ন্ত্রণে রাখছিলেন। কিন্তু দশম ওভারে আবার মুস্তাফিজের হাতে বল তুলে দেন অধিনায়ক লিটন। সেই ওভারেই কার্যত ম্যাচ বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ৬ বলে ২৩ রান দেন মুস্তাফিজ। আব্দুল সামাদ দ্বিতীয় বলেই ছক্কা হাঁকানোর পর টানা চারটি চার মারেন।
ফলে শেষ তিন ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন দাঁড়ায় মাত্র ১৩ রান। শেষ পর্যন্ত ১১.৩ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১১২ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান।
আব্দুল সামাদ ১৫ বলে ৩০ রান করে অপরাজিত থাকেন। সাইম আইয়ুব করেন ১২ বলে ২১ রান। নাসান নেওয়াজের ব্যাট থেকে আসে ২২ বলে ২৭ রান। বাংলাদেশের হয়ে নাসুম আহমেদও ৩ ওভারে ৩৩ রান দিয়ে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি।
এর আগে বৃষ্টির কারণে সোয়া এক ঘণ্টা দেরিতে শুরু হওয়া ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটাররা বড় সংগ্রহ গড়তে পারেননি। ম্যাচ ১৩ ওভারে নেমে আসায় পাওয়ার প্লে ছিল ৪ ওভারের। অথচ সেই সময়েই ৩ উইকেট হারিয়ে মাত্র ২৩ রান করে বাংলাদেশ।
পাকিস্তানও বোলিংয়ে স্পিনের ওপরই বেশি নির্ভর করে। স্পিনার সাইম আইয়ুব ২ ওভারে মাত্র ৩ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন। সুফিয়ান মুকিম ৩ ওভারে ২৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করেন।
বাংলাদেশের হয়ে তাওহীদ হৃদয় সর্বোচ্চ ২৫ বলে ৪২ রান করেন। হৃদয়, সাইফ হাসান ও মোসাদ্দেক সৈকত ছাড়া আর কেউ দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। সবচেয়ে হতাশ করেন অধিনায়ক লিটন দাস। মাত্র ৩ বলে ২ রান করে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে বোল্ড হন তিনি।
একপর্যায়ে ৬.৩ ওভারে ৪৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। এরপর তাওহীদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক সৈকতের জুটিতে আসে ৪৩ রান। তবে দুজনই দুই রানের ব্যবধানে আউট হওয়ায় বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়।
পাকিস্তানের অনভিজ্ঞ বোলিং আক্রমণের বিপক্ষেও বাংলাদেশের ব্যাটাররা রান তুলতে ধীরগতির ব্যাটিং করেন। অবশ্য পাকিস্তান ১৫টি ওয়াইড না দিলে বাংলাদেশের সংগ্রহ আরও কম হতে পারত। টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে আউটফিল্ডও ছিল কিছুটা ধীরগতির।
ফলে ১১১ রান নিয়েই লড়াই করতে হয় বাংলাদেশকে। শেষ পর্যন্ত মুস্তাফিজের ব্যয়বহুল দুই ওভারের বোলিংয়ে পাকিস্তান সহজেই লক্ষ্য পেরিয়ে ফাইনালে উঠে যায়। বাংলাদেশের সামনে এখন ব্রোঞ্জ পদক জয়ের লড়াই।
ভোরের আকাশ/সু.পা