ছোট পরিবর্তনেই বড় উন্নয়নের স্বপ্ন দেখছেন তামিম

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অন্তর্বর্তী সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নানা উদ্যোগ গ্রহণ করছেন তামিম ইকবাল। সম্প্রতি ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশের ক্রিকেট নিয়ে নিজের পরিকল্পনা ও ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন সাবেক এই অধিনায়ক।
তামিমের মতে, জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব ও বোর্ড সভাপতির দায়িত্বের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। অধিনায়ক হিসেবে যেখানে মূলত দল ও খেলার দিকেই মনোযোগ দিতে হয়, সেখানে বোর্ড সভাপতি হিসেবে পুরো কাঠামো—খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম—সবকিছুই বিবেচনায় রাখতে হয়।
এ প্রসঙ্গে তামিম বলেন, “এখানে আবেগ দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই, দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়।” নিজের খেলোয়াড়ি অভিজ্ঞতা বর্তমান দায়িত্ব পালনে সহায়ক বলেও মনে করেন তিনি। ড্রেসিংরুমে থাকাকালীন বোর্ড নিয়ে খেলোয়াড়দের প্রত্যাশা সম্পর্কে তার স্পষ্ট ধারণা রয়েছে, যা এখন উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করছে। তিনি বলেন, “আমি জানি খেলোয়াড়রা বোর্ডের কাছ থেকে কী চায়। অতীতে খেলোয়াড় ও বোর্ডের মধ্যে যে দূরত্ব ছিল, তা কমিয়ে আনাই এখন গুরুত্বপূর্ণ।”
তামিম আরও জানান, তার হাতে সময় খুব বেশি নেই, কারণ সামনে নির্বাচন রয়েছে। তাই বড় সিদ্ধান্তের পাশাপাশি ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমেও ইতিবাচক প্রভাব আনার চেষ্টা করছেন তিনি।
বোর্ডের অন্যতম তরুণ সভাপতি হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনেও সক্রিয় হতে চান তামিম। আইসিসি ও অন্যান্য দেশের বোর্ডগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করে বাংলাদেশের ক্রিকেটের লক্ষ্য ও প্রয়োজন তুলে ধরার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
তার ভাষায়, “আমি সবার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। যদি আমরা আমাদের ভিশন সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারি, তাহলে অন্য বোর্ডগুলো অবশ্যই তা মূল্যায়ন করবে। বিশ্ব ক্রিকেটে এগিয়ে যেতে আমাদের সবার সহযোগিতা দরকার।”
দর্শকদের অভিজ্ঞতা উন্নয়নেও গুরুত্ব দিচ্ছেন তামিম। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “২০০ টাকার টিকিট কিনে আসা একজন দর্শক কীভাবে ২৫০ টাকার খাবার কিনবেন?” স্টেডিয়ামে বিনামূল্যে পানি সরবরাহ, উন্নত টয়লেট সুবিধা এবং অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর জোর দেন তিনি। বিশেষ করে মিরপুর স্টেডিয়ামের দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
নারী ক্রিকেট নিয়েও তার অবস্থান স্পষ্ট। উন্নয়নের আগে নারী ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। “একজন অভিভাবকের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তার সন্তানের নিরাপত্তা—এটা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রথম কাজ,” বলেন তামিম।
জাতীয় দলের পারফরম্যান্সে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে চান না তামিম। পেশাদার কাঠামো বজায় রেখে নির্বাচক ও কোচদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পক্ষে তিনি। তবে সার্বিক পর্যবেক্ষণ থাকবে বলেও জানান।
বাংলাদেশে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা কিছুটা কমে যাওয়ার বিষয়টিও স্বীকার করেছেন তামিম। তার মতে, একসময়কার জনপ্রিয় কয়েকজন ক্রিকেটারের বিদায়ের পর এই প্রভাব দেখা গেছে। তাই নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের সামনে নিয়ে আসা এবং তাদের নিয়ে ইতিবাচক প্রচারণা চালানো জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
ভোরের আকাশ/সু.পা