ইংল্যান্ডকে হারানোর দিনটি আর্জেন্টিনার ‘জাতীয় ফুটবল দল দিবস’ ঘোষণা

২০২৬ বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। তবে ফাইনালে স্পেনের কাছে পরাজিত হয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যায় লিওনেল মেসিদের। এর আগে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে দারুণ এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছিল আলবিসেলেস্তেরা, যা দেশটির ফুটবল ইতিহাসে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।
সেই ঐতিহাসিক জয়কে স্মরণীয় করে রাখতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। সংস্থাটি ১৫ জুলাইকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জাতীয় ফুটবল দল দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এখন থেকে প্রতি বছর এই দিনে বিশেষ আয়োজনের মাধ্যমে জাতীয় দলের সেই স্মরণীয় সাফল্য উদযাপন করা হবে।
বুধবার অনুষ্ঠিত এএফএর নির্বাহী কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরে এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে শুরুতে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়লেও লিওনেল স্কালোনির দল এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্টিনেজের গোলে দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসে। ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ফাইনালের টিকিট কাটে আর্জেন্টিনা। সেই জয় উদযাপনে দেশজুড়ে লাখো সমর্থক রাস্তায় নেমে উৎসবে মেতে ওঠেন।
গত ১৫ জুলাই অনুষ্ঠিত সেই হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে ম্যাচের শেষ মুহূর্তের নাটকীয় দুই গোলই আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলে দেয়। তবে ম্যাচ-পরবর্তী উদযাপনের সময় একটি বিতর্কও সৃষ্টি হয়।
খেলা শেষে গ্যালারি থেকে ‘The Falklands are Argentine’ (ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার) লেখা একটি ব্যানার মাঠে ছুড়ে দেওয়া হয়। সেটি তুলে নেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার জিওভানি লো সেলসো। পরে ওই ব্যানার হাতে আর্জেন্টিনা খেলোয়াড়দের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনার জন্ম দেয়।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ১৯৮২ সালে এই দ্বীপকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে ৭৪ দিনব্যাপী যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ওই যুদ্ধে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন এবং ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা নিহত হন। শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে জয়ী হয় যুক্তরাজ্য।
বিতর্কিত ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তদন্ত শুরু করে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তবে আর্জেন্টিনার অনেক সমর্থকের কাছে ঘটনাটি জাতীয় গর্বের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই বিবেচিত হয়েছে। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারানোর পরও অনুরূপ আবেগের বহিঃপ্রকাশ দেখা গিয়েছিল। সূত্র : বিবিসি
ভোরের আকাশ/সু.পা