নরওয়ের বিপক্ষে ইতিহাস বদলাতে হবে ব্রাজিলকে

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে হলে ব্রাজিলকে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হচ্ছে নরওয়ের বিপক্ষে। ইউরোপিয়ান দলটির বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত চার ম্যাচ খেলে ব্রাজিল জিততে পারেনি—দুটি হেরেছে এবং দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। এই পরিসংখ্যানই সেলেসাওদের সামনে মানসিক চাপ তৈরি করছে।
তবে দুই দলের মধ্যে সর্বশেষ সাক্ষাৎ হয়েছিল ২০০৬ সালের পর, অর্থাৎ দীর্ঘ সময় তারা একে অপরের মুখোমুখি হয়নি। ফলে বর্তমান প্রেক্ষাপটে পুরোনো রেকর্ডের প্রভাব কতটা থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
নরওয়ে শুধু পরিসংখ্যানেই নয়, বর্তমান প্রজন্মের শক্তিতেও আলোচনায়। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের পর এই দল এখন সবচেয়ে প্রতিভাবান সময় পার করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ম্যানচেস্টার সিটির তারকা আর্লিং হালান্ড, মার্টিন ওডেগার্ড, আলেক্সান্ডার সোরলোথ, অ্যান্তনিও নুসা ও অস্কার বব—সবাই মিলে গড়ে তুলেছেন এক শক্তিশালী আক্রমণভাগ।

হালান্ড ইতোমধ্যে জাতীয় দলের হয়ে দ্রুততম সময়ে ৬০ গোলের রেকর্ড গড়েছেন। সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে তার গোলসংখ্যা ও ধারাবাহিকতা নরওয়েকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
নরওয়ের এই আক্রমণভাগের পাশাপাশি দলটির ড্রিবলিং ও উইং আক্রমণও উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে, যা ৯০-এর দশকের তুলনায় অনেক বেশি আধুনিক ও গতিশীল।
ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১৯৯৮ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলকে হারানোর পর থেকে নরওয়ের ফুটবলে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এখন তারা ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলা খেলোয়াড়দের নিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও শক্তিশালী দল।
দুই দলের আগের চারটি ম্যাচের তিনটি প্রীতি ম্যাচ হলেও সেগুলো ইউরোপে এবং নরওয়ের ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে এবারের ম্যাচের ভেন্যু ও আবহাওয়াও বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে তীব্র গরম দুই দলের জন্যই বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। সব মিলিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলের সামনে শুধু পরিসংখ্যান নয়, এক নতুন শক্তিশালী ও সংগঠিত নরওয়ে—যারা ইতিহাস বদলাতে প্রস্তুত।
ভোরের আকাশ/সু.পা