বিপিএল বর্জনের হুমকি ঢাকা ক্যাপিটালসের!

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) মাঠের লড়াইয়ের বাইরে চাপের মুখে পড়েছে ঢাকা ক্যাপিটালস। টুর্নামেন্ট চলাকালীন কোনো পূর্বানুমতি ছাড়াই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের একাধিক পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ তারা। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে বিপিএলে থাকা কঠিন হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন ফ্র্যাঞ্চাইজিটির প্রধান নির্বাহী আতিক ফাহাদ।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সিলেটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের বিরুদ্ধে তার দলের ক্রিকেটারদের মানসিক অস্বস্তিতে ফেলার অভিযোগও তুলেছেন আতিক ফাহাদ। ফিক্সিং বন্ধে এবারের বিপিএলে যে কঠোরতার কথা জানিয়েছিল বিসিবি, তাতে ‘আইসিসির রেগুলেশন’ মানা হচ্ছে না বলে দাবি ঢাকা ক্যাপিটালসের প্রধান নির্বাহীর।
ঘটনার সূত্রপাত: গুরবাজের রুমে অনাহূত প্রবেশ
শুক্রবার সিলেটে এক সংবাদ সম্মেলনে আতিক ফাহাদ জানান, আফগান তারকা রহমানুল্লাহ গুরবাজের সাথে এসিইউ কর্মকর্তাদের আচরণে তারা চরম ক্ষুব্ধ। তিনি অভিযোগ করেন, গত শুক্রবার ভোরে কোনো প্রকার পূর্ব ঘোষণা বা ম্যানেজমেন্টকে না জানিয়েই গুরবাজের হোটেলের রুমে ঢুকে পড়েন কর্মকর্তারা।
ফাহাদ বলেন, "গুরবাজ সারারাত ঘুমাতে না পেরে ভোর ৭টা-৮টার দিকে মাত্র ঘুমিয়েছিলেন। হঠাৎ কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই তার দরজায় কড়া নেড়ে রুমে ঢুকে পড়ে কিছু লোক। ঘুম থেকে জেগেই এমন ঘটনায় গুরবাজ প্রায় ১৫ মিনিট হতভম্ব হয়ে ছিলেন। তিনি আমার কাছে এসে জানতে চেয়েছেন, এটা কী হচ্ছে?"
আইসিসি প্রোটোকল লঙ্ঘনের অভিযোগ
আতিক ফাহাদ আরও জানান, গুরবাজ বিষয়টি আফগানিস্তান অ্যান্টি-করাপশন ইউনিটকে জানিয়েছেন। সেখান থেকে জানানো হয়েছে যে, আইসিসি প্রোটোকল অনুযায়ী কোনো খেলোয়াড়ের মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে আগে টিম ম্যানেজারকে অবহিত করা বাধ্যতামূলক। এই ঘটনার পর গুরবাজ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে তিনি আর বিপিএল খেলতে আসবেন না।
সিইও-র ফোন জব্দ ও ক্ষোভ
শুধু খেলোয়াড় নয়, খোদ ফ্র্যাঞ্চাইজি সিইও-র সাথেও অশোভন আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এর আগে ইনটেগ্রিটি ইউনিটের এক সদস্য আতিক ফাহাদের মোবাইল ফোন জব্দ করেছিলেন, যা তাকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে।
আতিক ফাহাদ বলেন, "গত বছর অনেক সমস্যা ছিল, তাই এবার বিসিবি কড়াকড়ি করছে—সেটিকে আমি সাধুবাদ জানাই। কিন্তু কড়াকড়ি করার মানে এই নয় যে আপনি নিয়মবহির্ভূত কাজ করবেন। সবকিছু আইসিসি গাইডলাইনের মধ্যে হওয়া উচিত। এখন যা হচ্ছে তা তদন্তের নামে সীমা ছাড়িয়ে গেছে।"
বিপিএল ছাড়ার হুঁশিয়ারি
আর্থিক ক্ষতি স্বীকার করেও বিপিএলে বিনিয়োগ করার পর এমন 'অসম্মান' মেনে নেওয়া সম্ভব নয় বলে জানান ঢাকার সিইও। তিনি প্রশ্ন তোলেন: "আমরা প্রতি বছর ২-৩ কোটি টাকা লোকসান দিয়ে বিপিএল চালাচ্ছি। এর ওপর যদি এভাবে মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে হয়, তবে আমাদের আর টুর্নামেন্টে থাকার সাহস থাকবে না। এভাবে অপমানিত হয়ে কেউ ফ্র্যাঞ্চাইজি চালাতে পারে না।"
ভোরের আকাশ/মো.আ.