আফগানিস্তানের কাছে হেরে ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে বাংলাদেশের বিদায়

ফাইনালে ওঠার আশা আগেই শেষ হয়েছিল বাংলাদেশের। বাকি ছিল সান্ত্বনার জয় নিয়ে সিরিজ শেষ করার সুযোগ। তবে সেটিও কাজে লাগাতে পারেনি টাইগাররা। ব্যাটারদের ব্যর্থতায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাত্র ১৬০ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। জবাবে ৮৭ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটের জয় তুলে নেয় আফগানিস্তান। ফলে ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে শূন্য হাতেই ফিরতে হচ্ছে শান্ত-তাসকিনদের।
দুবাইয়ের শারজাহ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। তবে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় সেই সিদ্ধান্ত কাজে আসেনি। পারভেজ হোসেন ইমনের ৭০ রানের ইনিংসে ভর করে ৪২তম ওভারে অলআউট হওয়ার আগে ১৬০ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতে কিছুটা চাপে পড়ে আফগানিস্তান। ৩৯ রানের মধ্যেই দুই উইকেট হারায় তারা। ইনিংসের তৃতীয় ওভারের পঞ্চম বলে রহমানউল্লাহ গুরবাজকে ৬ রানে বোল্ড করেন তাসকিন আহমেদ। সপ্তম ওভারে সেদিকউল্লাহ অটলকে ৪ রানে বোল্ড করে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন এই পেসার।
তবে তৃতীয় উইকেটে ইব্রাহিম জাদরান ও রহমত শাহর ৫৬ রানের জুটি বাংলাদেশের জয়ের আশা অনেকটাই শেষ করে দেয়। মুস্তাফিজুর রহমানের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ইব্রাহিম বিদায় নিলে ভাঙে এই জুটি। মিডউইকেটে পেছনের দিকে লাফিয়ে দুর্দান্ত ক্যাচটি নেন নাজমুল হোসেন শান্ত।
এরপর হাশমতউল্লাহ শহীদিকে সঙ্গে নিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন রহমত শাহ। ৬৬ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩৪তম অর্ধশতক পূর্ণ করেন আফগান অধিনায়ক। শেষ পর্যন্ত ৬৭ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন তিনি। অন্যদিকে হাশমতউল্লাহ শহীদি অপরাজিত থাকেন ৩৬ রানে।
৮৭ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে আফগানিস্তান। বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ দুটি এবং মুস্তাফিজুর রহমান একটি উইকেট নেন। এই জয়ে ফাইনালে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে আফগানরা।
এর আগে বাংলাদেশের ব্যাটিং ইনিংসে একমাত্র উজ্জ্বল ছিলেন পারভেজ হোসেন ইমন। চোটে পড়া নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাসের বদলি হিসেবে দলে সুযোগ পাওয়া এই ব্যাটার ৯৬ বলে পাঁচটি চার ও দুটি ছক্কায় ৭০ রান করেন। তাঁকে কিছুটা সঙ্গ দেন সাইফ হাসান। ৮২ বলে দুটি চার ও একটি ছক্কায় ৪১ রান করেন তিনি।
পঞ্চম উইকেটে ইমন ও সাইফের ৯৩ রানের জুটি বাংলাদেশকে লড়াই করার মতো সংগ্রহের আশা দেখিয়েছিল। তবে এই জুটি ভাঙার পর আবারও ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে দল। নাজমুল হোসেন শান্তর ১৫ রান ছাড়া আর কেউ দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। চার ব্যাটার ফিরেছেন শূন্য রানে।
আফগানিস্তানের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন রশিদ খান। তিনি চারটি উইকেট শিকার করেন। এ ছাড়া ইয়ামিন আহমদজাই ও আজমতউল্লাহ ওমরজাই দুটি করে উইকেট নেন।
ভোরের আকাশ/সু.পা