ঋতুপর্ণা-নিয়াজ মোর্শেদরা ক্রীড়া ভাতা পাবেন, তালিকায় নেই হামজা-সামিতরা

ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় ধাপে ১৭১ জন ক্রীড়াবিদের হাতে ক্রীড়া ভাতা কার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অডিটরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই কার্ড বিতরণ করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক। এর আগে প্রথম ধাপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন, যেখানে ১২১ জন ক্রীড়াবিদ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী মোট ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে এই ভাতার আওতায় আনার কথা থাকলেও ইতোমধ্যে ৩০০ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ক্রিকেটের বাইরে ফুটবল, হকি, সাঁতার, ভারোত্তোলন, টেবিল টেনিস, দাবা ও আর্চারিসহ বিভিন্ন খেলার জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়রা এই সুবিধা পাচ্ছেন।
প্রতি মাসে প্রতিটি ক্রীড়াবিদকে এক লাখ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে, যা আর্থিক অনিশ্চয়তায় থাকা অনেক খেলোয়াড়ের জন্য বড় সহায়তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। হকির খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলা হয়েছে, এতে খেলোয়াড়রা আরও মনোযোগ দিয়ে খেলার সুযোগ পাবেন।
টেবিল টেনিসের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের মতে, এই ভাতা ক্রীড়াবিদদের পেশাদার মানসিকতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একইভাবে ফুটবল দলের খেলোয়াড়রাও এটিকে সম্মান ও প্রয়োজনীয় সহায়তা হিসেবে দেখছেন।
তবে আলোচিত বিষয় হলো—প্রবাসী কয়েকজন ফুটবলারের নাম এই তালিকায় নেই। হামজা চৌধুরি, সামিত সোম, ফাহমিদুল ইসলামসহ কয়েকজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ জানিয়েছে, তাদের অনেকের দেশে ব্যাংক হিসাব না থাকা এবং স্কোয়াড সীমাবদ্ধতার কারণে আপাতত তারা বাদ পড়েছেন।
এছাড়া ভারোত্তোলনে ১০ জন খেলোয়াড় ভাতা পেলেও স্বর্ণজয়ী মাবিয়া আক্তার সীমান্ত ডোপ টেস্টে পজিটিভ হওয়ায় তালিকায় নেই। অন্যদিকে, অভিজ্ঞ দাবাড়ু রাণী হামিদ-কে বিশেষ সম্মান হিসেবে এই ভাতার আওতায় আনা হয়েছে।
ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগ ক্রীড়াবিদদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আরও পেশাদার কাঠামোর দিকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে। ভবিষ্যতে আরও ক্রীড়াবিদকে এই সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা