আবাধাবি টেস্ট নাটকীয় ড্র, কায়েস আহমদের ‘ইনজুরি’ নিয়ে প্রশ্ন

অবিশ্বাস্য নাটকীয়তায় বাংলাদেশের সঙ্গে একমাত্র টেস্ট ম্যাচ ড্র করেছে আফগানিস্তান। যেখানে সেদিকউল্লাহ অটলের ম্যারাথন সেঞ্চুরি, লোয়ার অর্ডার ব্যাটারদের দৃঢ়তার বাইরে গিয়ে আলোচনায় কায়েস আহমদের ইনজুরির অভিনয়! সময় নষ্ট করতে তার মাঠে শুয়ে পড়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেরও চোখ এড়ায়নি। যাকে ম্যাচ চলাকালেই ‘কায়েসের ভান’ বলে ইঙ্গিত দেন ধারাভাষ্যকাররা।
সেদিকউল্লাহ ৩৩২ বলে যখন ১১১ রানে ফিরছেন, তখনও ২৩ ওভার বাকি ছিল বাংলাদেশের হাতে। ৭ উইকেট হারানো আফগানিস্তানের তখনও প্রয়োজন ছিল ১৯৮ রান। ফলে ম্যাচ ঝুঁকে ছিল শান্ত-হাসানদের দিকে। অটলের বিদায়ের পরও ক্রিজে ছিলেন কায়েস আহমেদ। যখন ১০ মিনিট টিকে থাকলেই ম্যাচ ড্র, তখনই তিনি ইনজুরির কথা জানান। বলা হচ্ছিল বাম হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়েছেন এই টেলএন্ডার।
একপর্যায়ে তিনি উঠে দাঁড়ান এবং পা সোজা রেখেই কিছুক্ষণ খুঁড়িয়ে হাঁটেন। যা দেখেই স্পষ্টতই অসন্তুষ্টি দেখান বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। কায়েসের এই ঘটনাটি ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময়কার বহুল আলোচিত এক বিতর্কের কথা মনে করিয়ে দেয়, ওই সময় বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে বৃষ্টির সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করছিলেন স্লিপে ফিল্ডিংরত আফগান অলরাউন্ডার গুলবাদিন নাইব। ক্র্যাম্পের কথা বলে তিনি চিকিৎসায় বেশ কিছুক্ষণ সময় ক্ষেপন করেছিলেন। পরে সেটি স্বীকারও করেছেন নাইব।
সর্বশেষ গতকাল যখন কায়েস আহমদ ইনজুরিজনিত কারণে সাহায্য চাচ্ছিলেন, আফগানিস্তানের ধারাভাষ্যকার আহমেদ ফরহাদ ফিদাই হেসে হেসে বলছিলেন, ‘কায়েস আহমদ আবারও সেটাই করল, যা আমাকে গুলবাদিন নাইবের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। আবারও এমন কিছু করো না…কী চলছে আমরা এখান থেকে বুঝতে পারছি! দুর্দান্ত, সত্যিই দুর্দান্ত। খুব ভালো, আশা করি সে ঠিক আছে।’
প্রায় পাঁচ মিনিট অতিক্রম হওয়ার পর ব্যাটিংয়ের জন্য প্রস্তুত হন কায়েস। এর আগে তিনি ৭ রানে থাকাবস্থায় রানআউট হতে পারতেন, বাংলাদেশ সেই সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেনি। পরে ৮০ বলের ইনিংসে ৬ চার ও ৩ ছক্কায় অপরাজিত ৪৯ রান করেন কায়েস। বাংলাদেশের ফিল্ডার তাকে ঘিরে ধরে চাপ সৃষ্টি করতে চাইলেও, তিনি উড়িয়ে ছয় হাঁকিয়ে সেটি ভালোভাবেই সামলেছেন।
শেষ ওভারে কায়েস যখন তাইজুল ইসলামকে পরপর ছয় হাঁকাচ্ছেন, তখন সাইডলাইনে বসে তা উপভোগ করছিলেন স্কোয়াডে না থাকা আফগান তারকা রশিদ খান। যা দেখে ধারাভাষ্যকার দেবেন্দ্র কুমার বলতে থাকেন, ‘আফগানিস্তান ক্রিকেটের ইতিহাসে এটিকে অন্যতম সেরা, সম্ভবত সর্বকালের সেরা পারফরম্যান্স হিসেবে গণ্য করা হবে। রশিদ খান হাসছেন। হাসছে পুরো আফগানিস্তান।’
ম্যাচে বাংলাদেশ ৪৭৯ রানের বড় লক্ষ্য দিয়ে যখন ইনিংস ঘোষণা করে, তখনও প্রায় দেড়দিনের মতো বাকি ছিল। রানতাড়ায় নামা আফগানরা চতুর্থ দিনের খেলা শেষে সংগ্রহ করেছিল ৩ উইকেটে ১৩২ রান। আর পঞ্চম দিন শেষে তাদের স্কোরলাইন ৮ উইকেটে ৩৪৬। ১৪২ ওভার ব্যাট করে বাংলাদেশের প্রায় নিশ্চিত জয় ছিনিয়ে নিলো রহমত শাহ’র দল।
ভোরের আকাশ/সু.পা