নারী ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানির রিপোর্ট ১০ মাসেও প্রকাশ হয়নি

ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের অন্যতম বড় সাফল্য এসেছে নারী ক্রিকেট দলের হাত ধরে। আট বছর আগে এশিয়া সেরা হয়েছিলো বাংলার মেয়েরা। একদিকে দেশজুড়ে নারী অগ্রযাত্রার আহবান অন্যদিকে মেয়েদের জন্য কতটা নিরাপদ খেলার মাঠ সে প্রশ্ন সামনে এসেছে।
যা প্রথম প্রকাশ্যে আনেন নারী জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলম। নিজেসহ নারী ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানির অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এরপরই তোলপাড় হয় ক্রিকেটাঙ্গন। তদন্ত কমিটি গঠন করে বিসিবি। যার দায়িত্বে ছিলেন আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতিসহ ৫ জন।
চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয় নারী ক্রিকেট দলের সাবেক নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামকে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় ১০ মাসেও সেই রিপোর্ট প্রকাশ করেনি বিসিবি।
৭০ পাতার সেই প্রতিবেদনটি হাতে এসেছে চ্যানেল 24 এর। যেখানে জাহানারা যে ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিলেন তারমধ্যে ৪ জনের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ পায়নি কমিটি। তবে মঞ্জুরুল যে নারী ক্রিকেটারদের পেছন থেকে জড়িয়ে ধরতেন, করতেন বাজে ব্যবহার তার প্রমাণ মিলেছে। এই রিপোর্ট হাইকোর্টে এরই মধ্যে একটি মামলায় পড়ে শুনানো হয়েছে।
বিসিবির আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহিন এম রহমান বলেছেন, ‘অশালীন স্পর্শ এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও রুক্ষ আচরণের প্রমাণ পেয়েছে। আর জাহানারা আলম যিনি অভিযোগ করেছিলেন, তার আরও কিছু অভিযোগ করেছিলেন সেগুলো তদন্ত কমিটি প্রমাণ পায়নি। মঞ্জুরুলের বিরুদ্ধে যে দুইটি জিনিস প্রমাণ পেয়েছে তা যৌন হয়রানির সজ্ঞায় পড়ে। সে কারণে আমরা তাইকে আজীবন নিষিদ্ধ করেছি।’
তদন্ত দলের সদস্য ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা বলেছেন, ‘কমিটি তার রিপোর্ট তৎকালীন প্রেসিডেন্টের হাতে বুঝিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে দায়িত্ব থেকে সমাপ্তি ঘোষণা করে। পরবর্তীতে এই প্রতিবেদন কেন আলোর মুখ দেখেনি বা আপনাদের হাতে কেন আসেনি তা আসলে আমার দায়িত্বের ভেতরে পড়ে না।’
তবে প্রশ্ন থেকে যায় ৭০ পাতার প্রতিবেদনে যৌন হয়রানির প্রমাণ মিললেও কেন মামলা হলো না মঞ্জুরুলের বিরুদ্ধে। বিসিবি বলছে, মামলা করতে হবে ভুক্তভোগীকে। আর তদন্ত কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার শুক্লা বলছেন, তাদের সেই ক্ষমতাই ছিলো না। ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা দাবি করেন, ‘আমাদের কার্যপরিধি অনুযায়ী এই কমিটি কোনো শাস্তি নির্ধারণ বা প্রদানের ক্ষমতা রাখে না। সেটা সম্পূর্ণভাবে বোর্ডের দায়িত্ব।’
ব্যারিস্টার মাহিন এম রহমানও একই কথা বলেন, ‘বিসিবি প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই কাজ করতে পারে না। আমরা জাহানারা এবং তার আইনজীবীকে ই-মেইল পাঠিয়েছি। তারা যদি চায় তারা ফৌজদারী মামলা করতে পারবেন। ভিক্টিম অভিযোগপত্র দাখিল করলে বিসিবি অভিভাবক হিসেবে সব ধরণের সহযোগিতা করবে।'
এই কমিটির যৌন হয়রানির রিপোর্টের পর হাইকোর্টের রায়ের আলোকে গেলো আগস্টে নারী ক্রিকেটারদের অভিযোগ শুনতে আলাদা করে উইং খুলেছে বিসিবি। তবে এখন পর্যন্ত সেখানে কোনো অভিযোগ জমা পড়েনি।
ভোরের আকাশ/এনএস