আবুধাবি টেস্টে আফগান অধিনায়ক রহমত শাহ’র বিরল রেকর্ড

বাংলাদেশের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্টে ব্যাট হাতে দারুণ এক কীর্তি গড়েছেন আফগানিস্তানের অধিনায়ক রহমত শাহ। টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক ম্যাচেই প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি ও দ্বিতীয় ইনিংসে হাফসেঞ্চুরি করেছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে টেস্ট ইতিহাসে অভিষেক অধিনায়কত্বের ম্যাচে দুই ইনিংসে শতক ও অর্ধশতকের কীর্তি গড়া ক্রিকেটারদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন রহমত।
বাংলাদেশের দেওয়া ৪৭৯ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে একবার জীবন পেয়ে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন আফগান অধিনায়ক। প্রথম ইনিংসে ২১৬ বলে ১০৫ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসে ১২৪ বলে করেন ৫১ রান।
এর আগে টেস্ট অধিনায়কত্বের অভিষেক ম্যাচে এমন কীর্তি গড়েছিলেন আরও পাঁচ ক্রিকেটার। সর্বশেষ ২০১৪ সালে ভারতের অধিনায়ক হিসেবে প্রথম টেস্ট খেলতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেছিলেন বিরাট কোহলি। প্রথম ইনিংসে ১১৫ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪১ রান করেছিলেন তিনি।
কোহলির আগে এ তালিকায় ছিলেন ইংল্যান্ডের আরচি ম্যাকলারেন, নিউজিল্যান্ডের গফ রাবোন, অস্ট্রেলিয়ার গ্রেগ চ্যাপেল ও জিম্বাবুয়ের ব্রেন্ডন টেইলর। ১৮৯৭ সালে অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাকলারেন করেন ১০৯ ও অপরাজিত ৫০ রান। ১৯৫৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে রাবোনের সংগ্রহ ছিল ১০৭ ও ৬৮ রান। ১৯৭৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চ্যাপেল করেন ১২৩ ও অপরাজিত ১০৯ রান। আর ২০১১ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেইলর করেন ৭১ ও অপরাজিত ১০৫ রান।
তবে ব্যক্তিগত কীর্তির দিনেও আফগানিস্তানের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ রেখে দিয়েছে বাংলাদেশ। সোমবার দ্বিতীয় ইনিংসের ৪৩তম ওভারে এবাদত হোসেনের বলে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন রহমত।
চতুর্থ দিনের খেলা শেষে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ৫০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৩২ রান। জিততে হলে পঞ্চম দিনে তাদের আরও ৩৪৭ রান করতে হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রয়োজন বাকি ৭ উইকেট তুলে নেওয়া।
টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ সফল রান তাড়ার রেকর্ড ৪১৮ রানের। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেই লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফলে বাংলাদেশকে হারাতে হলে আফগানিস্তানকে শুধু বড় রানই করতে হবে না, গড়তে হবে টেস্ট ইতিহাসের নতুন রেকর্ডও।
ভোরের আকাশ/সু.পা