ব্যর্থ মৌসুমের পর কলকাতা বড় পরিবর্তনের পথে কেকেআর

আইপিএলের এবারের আসর শুরুর আগেই চোটের ধাক্কায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)। বিশেষ করে বোলিং বিভাগে ভোগান্তি ছিল সবচেয়ে বেশি। এর সঙ্গে বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে দলে নিয়েও শেষ পর্যন্ত না পাওয়ার প্রভাবও পড়েছে দলের পারফরম্যান্সে। শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট তালিকার সাত নম্বরে থেকে আসর শেষ করায় সন্তুষ্ট নয় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। তাই আগামী মৌসুমের আগে স্কোয়াডে বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে কেকেআর কর্তৃপক্ষ।
দুই মৌসুম ধরে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ৩৭ বছর বয়সী আজিঙ্কা রাহানে। তবে তাঁর অধীনে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি দল। গত আসরে আট নম্বরে থাকার পর এবার শেষ করেছে সপ্তম স্থানে। নেতৃত্বের ক্ষেত্রে রাহানের কৌশলগত দুর্বলতা বেশ কয়েকটি ম্যাচে স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছে দলটির ম্যানেজমেন্ট। বিশেষ করে বোলিং পরিবর্তন, ফিল্ডিং সেটআপ এবং ম্যাচ পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নেতৃত্বের কথা বিবেচনায় নিয়েই তাঁকে দলে নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেই জায়গাতেই তিনি ব্যর্থ হয়েছেন বলে ধারণা কেকেআর কর্তৃপক্ষের।
অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার ক্যামেরুন গ্রিনকে ২৫ কোটি রুপিতে দলে ভেড়ালেও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি তিনি। ব্যাট কিংবা বল—দুই বিভাগেই ছিলেন নিষ্প্রভ। ১৪ ম্যাচে করেছেন মাত্র ৩২২ রান। প্রথম চার ম্যাচে বলই করতে পারেননি, পরে ১০ ম্যাচে পেয়েছেন ৭ উইকেট। এত বড় অঙ্কের বিনিয়োগের তুলনায় তাঁর অবদানকে যথেষ্ট মনে করছে না কেকেআর। ফলে আগামী মৌসুমে তাঁকে ধরে রাখার সম্ভাবনা কম।
দলের আরেক হতাশার নাম বৈভব। টানা ব্যর্থতার কারণে শেষদিকে একাদশ থেকেই বাদ পড়তে হয় তাঁকে। হর্ষিত রানা ও মাথিশা পাথিরানাদের অনুপস্থিতিতে তাঁর ওপর আস্থা রেখেছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। কিন্তু সেই আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি তিনি।
শ্রীলঙ্কান পেসার মাথিশা পাথিরানাকে নিয়েও হতাশ কেকেআর। ১৮ কোটি রুপিতে দলে নেওয়া হলেও চোটের কারণে আইপিএলের প্রথম ভাগে মাঠেই নামতে পারেননি। পরে দলে ফিরলেও পুরোপুরি ফিট না থাকায় তাঁকে খেলানো কঠিন হয়ে পড়ে। গত ১৬ মে গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে নামলেও মাত্র ১.২ ওভার বল করার পর আবার চোটে পড়ে মাঠ ছাড়েন। এরপর আর মাঠে ফেরা হয়নি তাঁর।
ফিনিশার হিসেবে রিংকু সিংয়ের সঙ্গে রমনদীপের ওপরও ভরসা রেখেছিল কেকেআর। কিন্তু এবারের আইপিএলে উল্লেখযোগ্য কোনো ইনিংস খেলতে পারেননি তিনি। পুরো আসরে ৬৮ বল খেলে করেছেন মাত্র ৮টি চার ও ২টি ছক্কা। ইনিংসের শেষদিকে ব্যাট করতে নেমেও তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল মাত্র ১২০.৫৮, যা আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের মানদণ্ডে বেশ হতাশাজনক।
ভোরের আকাশ/সু.পা