কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ৮ম জাতীয় সার্ফিং টুর্নামেন্ট শুরু

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ৮ম জাতীয় সার্ফিং টুর্নামেন্ট শুরু হয়েছে। চৈত্রের প্রচণ্ড উত্তাপে প্রায় শতাধিক সার্ফার সার্ফিং বোট নিয়ে উর্মি-তরঙ্গে চ্যালেঞ্জে মেতে উঠেছে। প্রতিযোগিতায় ২৫ জন নারী সার্ফার রয়েছেন।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকাল ১১টায় লাবনী পয়েন্টে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, সরকার খেলাধুলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। সারাদেশে নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতার মাধ্যমে জনপ্রিয় সাতটি ইভেন্টে মেধা অন্বেষণ করা হবে।
তিনি বলেন, জাতীয় শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে একটি সুস্থ ও সবল জাতি গঠন সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করার মানসিকতা গড়ে তুলতে অভিভাবকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতোমধ্যে সরকার খেলোয়াড়দের জন্য ক্রীড়া ভাতা চালু করেছে এবং ক্রীড়া কার্ড প্রদান শুরু করেছে, এর মাধ্যমে খেলোয়াড়রা বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, কক্সবাজারে সার্ফিং খেলার সঙ্গে যুক্ত তরুণরা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সুনাম বয়ে আনবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, সার্ফিং ফেডারেশনের সভাপতি মেজর জেনারেল (অবঃ) এ কে এম মুজাহিদ উদ্দিন, ওয়ার্ল্ড আর্চারীর এশিয়া সভাপতি কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সার্ফিং এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী রোকন।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন বিএসপিএর কক্সবাজার সভাপতি সাংবাদিক এম আর মাহবুব।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সার্ফিং দলের হয়ে এশিয়া সার্ফিংয়ে অংশ নেওয়া সাত সার্ফারকে সংবর্ধিত করা হয়। পরে প্রধান অতিথি বেলুন উড়িয়ে দু’দিনের সার্ফিং টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন করেন।
এদিকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী কক্সবাজার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম, বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়াম (ফুটবল) এবং রামু বিকেএসপি কক্সবাজার আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
এ সময় মন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, এখনই কক্সবাজার ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ইভেন্ট সম্ভব নয়।কারণ স্টেডিয়াম খুবই জরাজীর্ণ। আগে সংস্কার করতে হবে।তিনি বলেন ঘাসের উপর বসে বা শোয়ে যাতে বিদেশি স্ট্যাইলে খেলা দেখার মতো পরিচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরি করার পরিকল্পনা সরকারের আছে।শুধু তাই নয়, কক্সবাজারকে ক্রীড়া বান্ধব জোনে পরিনত করতে হবে।খেলোয়াড়দের হাতে থাকবে ক্রীড়া কার্ড।আর চতুর্থ শ্রেণী থেকে বিভিন্ন ইভেন্টের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও বাধ্যতামূলক ক্রীড়া চর্চা। যে যেখানে দক্ষতায় কৃতিত্ব রাখতে পারবে পর্যাক্রমে জাতীয় পর্যায়ে খেলার সুযোগ থাকবে।
ভোরের আকাশ/এনউব