৪০ বছর পর বিশ্বকাপ নকআউটে জয় পেল মেক্সিকো

ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে ৪০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে মেক্সিকো। এই জয়ের মাধ্যমে ১৯৮৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয় তুলে নিল সহ-আয়োজক দেশটি। ঐতিহাসিক আজটেকা স্টেডিয়ামে দাপুটে পারফরম্যান্সে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে মেক্সিকানরা।
ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টির কারণে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচটি প্রায় এক ঘণ্টা দেরিতে শুরু হয়। খেলা শুরু হওয়ার পর থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মেক্সিকো। শুরু থেকেই ইকুয়েডরের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে তারা।
ম্যাচের ২২তম মিনিটে রবার্তো আলভারাডোর পাস থেকে দুর্দান্ত শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন জুলিয়ান কুইনোনেস। এরপর ৩১তম মিনিটে কুইনোনেসের পাস থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাউল জিমিনেজ।
বিরতির পর ম্যাচে ফেরার জন্য একাধিক পরিবর্তন আনে ইকুয়েডর। তবে মেক্সিকোর সংগঠিত রক্ষণ এবং ধারাবাহিক আক্রমণের সামনে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি তারা। বরং স্বাগতিকরাই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে আরও কয়েকটি গোলের সুযোগ সৃষ্টি করে।
এই জয়ে আজটেকা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপে টানা ১০ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়েছে মেক্সিকো। শেষ ষোলোতে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড ও ডিআর কঙ্গোর মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী দল।
ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনার সঙ্গে তৃতীয় দল হিসেবে শতভাগ জয় নিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করেছে মেক্সিকো। একই সঙ্গে এই তিন দলই গ্রুপ পর্বে কোনো গোল হজম করেনি।
অন্যদিকে, ইকুয়েডর নিজেদের গ্রুপে তৃতীয় সেরা দল হিসেবে নকআউটে উঠলেও গোল করেছে মাত্র দুটি। শেষ পর্যন্ত মেক্সিকোর বিপক্ষে হেরে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়।
মেক্সিকোর মূল একাদশে সুযোগ পান ১৭ বছর বয়সী গিলবার্তো মোরা। ১৯৫৮ সালে Pelé-এর পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মূল একাদশে খেলা দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে নাম লেখান তিনি।
ম্যাচের শুরুতেই রাউল জিমিনেজ ও গিলবার্তো মোরা গোলের সুযোগ তৈরি করলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি। অন্যদিকে ইকুয়েডরের জন ইয়েবোয়ার শটও অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
বিরতির পর ইকুয়েডর কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাচে কৌশলগত পরিবর্তন আনলেও ম্যাচের চিত্র বদলাতে পারেননি। মেক্সিকোর সিজার মন্টেস দুটি ভালো সুযোগ নষ্ট করেন। আর ইকুয়েডরের বদলি খেলোয়াড় কেভিন রদ্রিগেজের একটি শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।
স্টপেজ টাইমে প্রতিপক্ষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের দায়ে ইকুয়েডরের ডিফেন্ডার পিয়েরো হিনকেপে লাল কার্ড দেখেন। মেক্সিকো আশা করেছিল শেষ ষোলোর ম্যাচটিও আজটেকা স্টেডিয়ামে খেলবে। তবে সূচি অনুযায়ী কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিশ্বকাপের সব ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে।
ভোরের আকাশ/সু.পা