বিশ্বকাপে হাইড্রেশন ব্রেকে দর্শকদের ক্ষোভ

তীব্র গরম ও আর্দ্রতা থেকে স্বস্তি দিতে চলমান ফিফা বিশ্বকাপে এবার চালু করেছে বাধ্যতামূলক তিন মিনিটের হাইড্রেশন ব্রেক। তবে ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে এই নিয়ম চালুর কথা বলা হলেও এর পেছনে সম্প্রচারকদের বিশাল বিজ্ঞাপনী বাণিজ্য দেখছেন ফুটবলভক্তরা।
আর এই ক্ষোভ থেকেই ম্যাচ চলাকালে গ্যালারি থেকে ভেসে এসেছে দর্শকদের তীব্র ভুয়াধ্বনি। ভক্তদের দাবি- বিরতির সময়ে এই বিজ্ঞাপনী বাণিজ্য ফুটবলের চিরায়ত ছন্দকে স্রেফ খুন করছে।
গতকাল ডালাস স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘এল’ এর হাইভোল্টেজ ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। তবে ম্যাচের ২২ মিনিটে রেফারি ক্লেমন্ত তুরপিন যখন বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন ব্রেকের বাঁশি বাজান, তখনই ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়া—দুই দলের সমর্থকরাই একসাথে তীব্র ভুয়াধ্বনি দিয়ে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অপ্রয়োজনীয় বিরতি মাঠের ছন্দের ব্যাপক ক্ষতি করছে। গত মঙ্গলবার বোস্টনে নরওয়ে বনাম ইরাকের মধ্যকার গ্রুপ ‘আই’-এর ম্যাচেও এর প্রমাণ মিলেছে। যখন ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস মৃদু তাপমাত্রার মধ্যেই প্রথমার্ধে প্রথম হাইড্রেশন ব্রেকের বাঁশি বাজানো হয়, তখন দর্শকরা ভুয়াধ্বনি দেয়।
সেই বিরতির আগ পর্যন্ত ইরাক দারুণ খেলে নরওয়েকে ০-০ গোলে আটকে রেখেছিল। কিন্তু বিরতি থেকে ফেরার মাত্র ৪ মিনিটের মাথায় তারা গোল হজম করে বসে এবং শেষ পর্যন্ত ৪-১ ব্যবধানে ম্যাচটি হেরে যায়।
ফুটবলপ্রেমীদের মতে, ফুটবল তার নিজস্ব ৯০ মিনিটের গতিময় ছন্দের জন্যই জনপ্রিয়। সেখানে আমেরিকার গ্রীষ্মের দোহাই দিয়ে এমন বাণিজ্যিক বিরতি খেলাটির প্রাণ নষ্ট করা হচ্ছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা