ফ্রান্স-ইরাক ম্যাচে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এমবাপে

বিশ্বের প্রায় সব ডিফেন্ডার ও কোচের কাছেই এক ধরনের ধাঁধার নাম কিলিয়ান এমবাপে। তার গতি, গোল করার ক্ষমতা এবং বড় ম্যাচে জ্বলে ওঠার অভ্যাস প্রতিপক্ষের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ। তাকে থামাতে নানা কৌশল সাজানো হলেও কার্যকর সমাধান খুঁজে পাওয়া সহজ নয়।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই একের পর এক রেকর্ড গড়ে সেই বাস্তবতাকে আরও স্পষ্ট করেছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক। ইতোমধ্যে বিশ্বকাপ ইতিহাসে গোলসংখ্যার হিসেবে পেছনে ফেলেছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলেকে। একই সঙ্গে টুর্নামেন্টের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকার দিকেও দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ফরাসি জাতীয় দলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও এখন তার দখলে।
আজ বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় গ্রুপ ‘আই’-এর দ্বিতীয় ম্যাচে ইরাকের মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। আর ম্যাচটিকে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে যথারীতি এমবাপে।
ফ্রান্সের আক্রমণভাগ, বিশেষ করে এমবাপেকে কীভাবে থামানো যায়—এ প্রশ্নের জবাবে সংবাদ সম্মেলনে রসিকতাই করেন ইরাকের কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড। হাসতে হাসতে তিনি বলেন, “আমি তো জিজ্ঞেস করেছিলাম, আমরা গোলপোস্টে একসঙ্গে তিনজন গোলকিপার খেলাতে পারি কি না! কিন্তু ওরা না করে দিল।”
আর্নল্ডের এই মন্তব্যেই যেন ফুটে উঠেছে এমবাপেকে ঘিরে প্রতিপক্ষের অসহায়ত্ব। ইরাকের অবস্থাও খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। নরওয়ের বিপক্ষে ৪-১ গোলের হারের ম্যাচে অধিনায়ক ও গোলরক্ষক জালাল হাসান চারটি গোলই হজম করেন। ফলে ফ্রান্সের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গোলপোস্টের নিচে কাকে দেখা যাবে, সে সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত করেননি আর্নল্ড।
তবে প্রতিপক্ষ যত শক্তিশালীই হোক, নিজের দলকে আত্মবিশ্বাসী রাখার চেষ্টা করছেন ইরাক কোচ। আর্নল্ড বলেন, “ফ্রান্স কীভাবে খেলবে, সেটা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। তবে আমরা নিজেদের খেলাটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। আমি নিশ্চিত, আমার খেলোয়াড়রা মাঠে নেমে বিশ্বকে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত থাকবে।”
অন্যদিকে ফ্রান্স শিবিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে শুধু এমবাপের গোল কিংবা রেকর্ড নয়, অপেক্ষা করছে আরেকটি বিশেষ মাইলফলকও। ইরাকের বিপক্ষে মাঠে নামলেই জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের ১০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলবেন তিনি।
ক্যারিয়ারের এই বিশেষ মুহূর্ত নিয়ে এমবাপে বলেন, “জাতীয় দলের হয়ে খেলতে পারাটা সবসময়ই আনন্দের। জাতীয় দলের চেয়ে বড় আর কিছুই হতে পারে না। দেশের হয়ে ১০০টি ম্যাচ খেলা সত্যিই একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আর সেটা যদি বিশ্বকাপের মঞ্চে হয়, তাহলে তো কথাই নেই।”
ভোরের আকাশ/সু.পা