বর্ণবাদ বিতর্কে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ান রেফারিকে বহিষ্কারের দাবি

মাঠের বাইরের এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্কে জড়িয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান রেফারি শন ইভান্স। ভিডিও রেফারি (ভিএআর) ইভান্সের বিতর্কিত ও বর্ণবাদী অঙ্গভঙ্গির জেরে তীব্র তোপের মুখে পড়েছে ফিফা।
প্রকাশ্যে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদের ‘প্রতীক’ দেখানোর অভিযোগে ওই অস্ট্রেলিয়ান রেফারিকে বিশ্বকাপ থেকে অবিলম্বে বহিষ্কারের দাবি তুলেছে বর্ণবাদবিরোধী আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো।
ঘটনার সূত্রপাত হিউস্টনে জার্মানি ও কুরাসাওয়ের মধ্যকার ম্যাচের ঠিক আগে।
অফিশিয়াল সম্প্রচার চলাকালীন ডালাসে অবস্থিত বিশ্বকাপের ভিএআর অপারেশন সেন্টারের দৃশ্য টিভিতে দেখানো হচ্ছিল। সেখানে কর্মরত অন্যান্যদের সঙ্গে স্ক্রিনে ভেসে ওঠেন চলতি আসরের জন্য ফিফা মনোনীত অস্ট্রেলিয়ান ভিডিও রেফারি শন ইভান্স।
সম্প্রচারিত ওই ফুটেজে ইভান্সকে হাতের আঙুল দিয়ে বহুল পরিচিত ‘ওকে’ চিহ্নটি উল্টো করে দেখাতে দেখা যায়।
মূলত বিতর্কের শুরু এই অঙ্গভঙ্গির স্থান ও ধরন নিয়ে।
ইভান্স চিহ্নটি দেখিয়েছিলেন তার কোমরের নিচে হাত রেখে এবং কিছুটা উল্টানো অবস্থায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বজুড়ে চরম ডানপন্থী ও শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী গোষ্ঠীগুলো ঠিক এই ভঙ্গিটিই নিজেদের গোপন বা সংকেতপূর্ণ প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।
এই ঘটনায় সবচেয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘ফেয়ার’। ফুটবলে বর্ণবাদ, বৈষম্য ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য রোধে ফিফা এবং উয়েফার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে এই সংস্থাটি। এক বিবৃতিতে ফেয়ার জানিয়েছে, বিশেষজ্ঞদের নিবিড় পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ইভান্সের ওই অঙ্গভঙ্গির সঙ্গে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী আন্দোলনের প্রতীকের সুস্পষ্ট মিল রয়েছে।
সংস্থাটি তাদের বিবৃতিতে জানায়, ‘আমাদের বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যবহৃত ওই অঙ্গভঙ্গিটি স্পষ্টতই একটি উল্টানো ‘ওকে’ চিহ্নের মতো। বিশ্বজুড়ে চরম ডানপন্থী মহলে এটি শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ফুটবলের মতো একটি বিশ্বজনীন মঞ্চে এমন ঘটনার কোনো স্থান নেই।’ এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর ওই রেফারিকে দ্রুত অপসারণের জোরালো দাবি তুলেছে ফেয়ার। সংস্থাটি ফিফার প্রতি আল্টিমেটাম দিয়ে তাদের বক্তব্যে আরও যোগ করে, ‘এটা একদম পরিষ্কার যে, এই রেফারির চলতি বিশ্বকাপে আর কোনোভাবেই কোনো দায়িত্ব পালন করা উচিত নয়।’
এই বিতর্কের পর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও বর্ণবাদবিরোধী সংস্থাগুলোর ক্রমবর্ধমান চাপে পড়েছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ঘটনাটির তদন্ত বা ইভান্সের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত ফিফার আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভোরের আকাশ/এনউব