সাংবাদিকদের অ্যাক্রেডিটেশন বাতিল, আইসিসির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে বিসিবি

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কাভার করতে আবেদন করা শতাধিক বাংলাদেশি গণমাধ্যমকর্মীর অ্যাক্রেডিটেশন বাতিল করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থার এমন সিদ্ধান্তে দেশের মিডিয়া অঙ্গনে ব্যাপক অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন।
মঙ্গলবার পূর্বাচলের ন্যাশনাল ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সিসিডিএম চ্যালেঞ্জ কাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে আইসিসির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। আমজাদ হোসেন বলেন, সিদ্ধান্তটি সোমবার জানানো হয়েছে এবং তা পাওয়ার পরপরই বিষয়টি নিয়ে আইসিসির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। তবে এটি সংস্থার অভ্যন্তরীণ বিষয় হওয়ায় বিস্তারিত জানানো হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশ ১৯৯৯ সাল থেকে নিয়মিত বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করে আসছে। তবে তারও আগে, এমনকি বাংলাদেশ দল অংশ না নিলেও—যেমন ১৯৯৬ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও ২০১৩ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে—বাংলাদেশি সাংবাদিকরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আসর কাভার করেছেন।
সেই কথা মনে করিয়ে দিয়ে আমজাদ বলেছেন, ‘গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ নয় যে (দেশ) অংশগ্রহণ করতেই হবে। (২০১৩) চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশ অংশ নেয়নি, তারপরও আমাদের সাংবাদিকরা সেখানে কাভার করতে গিয়েছিলেন। এছাড়া ফিফা বিশ্বকাপে আমাদের দল কখনো অংশ নেয়নি কিন্তু সাংবাদিকরা নিয়মিত যান কাভার করতে।’
বাংলাদেশের সাংবাদিকরা বিশ্বকাপ কাভার করার জন্য আবেদন করলেও সেটা গ্রহণ করা হয়নি। সোমবার দুপুরের পর থেকে ফিরতি মেইলে প্রত্যেকের আবেদন প্রত্যাখ্যানের খবর জানায় আইসিসি।
আমজাদ হোসেন এই বিষয়ে জানান, ‘পূর্ণ সদস্য দেশ হিসেবে এটা (কাভার) করতে পারলে ভালো হতো। কিন্তু এটা তাদের সিদ্ধান্ত, আমাদের আসলেই কিছু করার নেই। তবে আমরা মনে করি, গণমাধ্যমকর্মীদের সেই সুযোগটা দেওয়া উচিত ছিল। আমরা তৃতীয় সর্বোচ্চ ভিউয়ার, আমরা না খেললেও বিশ্বকাপ তো হচ্ছে। সেক্ষেত্রে আমাদের গণমাধ্যমকর্মীরা সেটা আমাদের দর্শকদের কাছে উপস্থাপন করতে পারতেন।’
বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপে না খেলার সঙ্গে সংবাদকর্মীদের অ্যাক্রিডিটেশনের বিষয়টি না মেলানোর কথা বলে বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আরও বলেছেন, ‘আমরা বিশ্বকাপে শর্ত দিয়েছি নিরাপত্তা ইস্যুতে যে একটা নির্দিষ্ট ভেন্যুতে (দেশ) খেলতে পারবো না, এমন নয় পুরো বিশ্বকাপেই খেলবো না। আমাদের বিকল্প অনুরোধ ছিল, যা পূরণ করা হয়নি। এরপর সেখান থেকে আমরা সরে এসেছি। এর সঙ্গে অন্য কিছু মেলানো ঠিক হবে না।’
ভোরের আকাশ/এনএস