শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ভারতীয় উগ্রতার শিকার ‘ফিজ’

বিশ্বকাপে ভারতে দল পাঠাবে না বিসিবি

তারিক আল বান্না

প্রকাশ : ৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:০৩ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

উগ্র হিন্দুবাদী ভারত সরকার ক্রিকেটকে নিয়ে ন্যাক্কারজনক কাণ্ড ঘটালো। বাংলাদেশের একটি সাধারণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে যা করলো, তাতে সকল প্রকার অভদ্রতাকে ছাপিয়ে এক কালো অধ্যায় সৃষ্টি হয়েছে। যেই আইপিএল উপভোগ করে বাংলাদেশের লাখ লাখ দর্শক, সেই আসরে কাটারমাস্টার মোস্তাফিজকে দলে নিয়েও ভারত সরকারের একেপেশে নীতিতে আবার বাদও দিল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)।

শনিবার ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইয়ের নির্দেশে মোস্তাফিজকে দল থেকে বাদ দিয়েছে কেকেআর। উগ্রপন্থীদের দাবির মুখে ভারতীয় বোর্ডের এমন সিদ্ধান্তের পর বাংলাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়েছে, যা টি- টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও আইসিসি পর্যন্ত গড়িয়েছে। সবমিলে বাংলাদেশের জনপ্রিয় ক্রিকেট তারকা ‘ফিজ’ ভারতীয় উগ্রবাদিতার শিকারে পরিনত হলেন।

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে দশম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। প্রথম দিনই শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় খেলবে পাকিস্তান-নেদারল্যান্ডস। একই দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশের। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের পরের তিনটি ম্যাচের দুটিও কলকাতায়, অন্যটি মুম্বাইয়ে। ‘সি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে আছে ইংল্যান্ড, ইতালি ও নেপাল।

যেভাবে দলভুক্ত ও বাদ এবং প্রতিক্রিয়া: গত ১৬ ডিসেম্বর আবুধাবিতে আইপিএল নিলামে মোস্তাফিজুর রহমানকে কেনে কলকাতা। চেন্নাই সুপার কিংস, দিল্লি ক্যাপিটালসও তাঁকে কিনতে আগ্রহী হওয়ায় কাড়াকাড়ির শেষ পর্যায়ে মোস্তাফিজের দাম ওঠে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপি। ১৮ ডিসেম্বর বিসিসিআইর অনুরোধে মোস্তাফিজকে আইপিএলে খেলার অনাপত্তিপত্র দেওয়ার কথা জানায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

বোর্ডের ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমূল আবেদীন জানান, এপ্রিলের মাঝামাঝিতে ৮ দিন বাদে আইপিএলের পুরো সময়ের জন্য ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। ২৭ ডিসেম্বর মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার দাবি করেন মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীর রিনমুক্তেশ্বর মহাদেব মন্দিরের প্রধান উপাসক মহাবীর নাথ। বাংলাদেশের খেলোয়াড়কে খেলালে পিচ নষ্ট করে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি। ৩০ ডিসেম্বর নিলাম থেকে মোস্তাফিজকে দলে নেওয়ায় শাহরুখ খানকে ‘গাদ্দার’ বা দেশদ্রোহী আখ্যা দেন উত্তর প্রদেশের শাসক দল বিজেপির নেতা সঙ্গীত সোম।

তিনি বলেন, ‘মোস্তাফিজের মতো খেলোয়াড় যদি ভারতে খেলতে আসেন, তাহলে বিমানবন্দরের বাইরে পা রাখতে পারবেন না। আমি প্রতিজ্ঞা করে বলছি। এই কথাটা শাহরুখ খানের মতো গাদ্দারদের বুঝে নেওয়া উচিত। উনি দেশদ্রোহিতা করছেন।’ সঙ্গীত সোমের সুরে কথা বলেন আধ্যাত্মিক গুরু দেবকীনন্দন ঠাকুরও।

এক অনুষ্ঠানে তিনি শাহরুখ খান ও কেকেআর ম্যানেজমেন্টের উদ্দেশে বলেন, মোস্তাফিজুর রহমানকে যেন না খেলানো হয়। তবে তাঁর এই মন্তব্যের সমালোচনা করেন উত্তর প্রদেশ বিধানসভার বিরোধী নেতা মাতা প্রসাদ পান্ডে ও কংগ্রেস নেতা সুরেন্দ্র রাজপুত। তাঁরা বলেছেন, শাহরুখ খানকে গাদ্দার বা দেশদ্রোহী বলা হচ্ছে মুসলিম বলে। বিজেপি দলটাই দেশদ্রোহী। বিজেপির শরিক দল সুহেলদেব ভারতীয় সমাজ পার্টির নেতা ওম প্রকাশ রাজভরও সঙ্গীত সোমের সমালোচনা করেন।

গুয়াহাটিতে বিসিসিআইয়ের সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআইকে বলেন, ‘সাম্প্রতিক ঘটনার কারণে বিসিসিআই কেকেআর ফ্র্যাঞ্চাইজিকে তাদের দলে থাকা বাংলাদেশের খেলোয়াড় মোস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তারা যদি খেলোয়াড় বদলাতে চায়, বিসিসিআই সেই অনুমতিও দেবে।’ সাইকিয়ার ঘোষণার ঘণ্টা দুয়েক পরই কলকাতা নাইট রাইডার্সের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে।

এক বিবৃতিতে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজকে দল থেকে ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেয়। কারণ হিসেবে বিসিসিআইয়ের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে কেকেআর। 

বিবৃতিতে দলটি লিখেছে, ‘কলকাতা নাইট রাইডার্স নিশ্চিত করেছে যে আইপিএলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বিসিসিআই/আইপিএল আসন্ন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) মৌসুমের আগে দল থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়া ও পরামর্শ অনুসরণ করে, বিসিসিআই’র নির্দেশে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।’

আমিনুল হকের প্রতিক্রিয়া: মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার পর আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের ভারত সফর ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ও দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক দল বিএনপির ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক আমিনুল হক। নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে আমিনুল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। মোস্তাফিজ ইস্যুতে যা হলো, এরপর আমাদের ক্রিকেটাররা ভারতে গিয়ে খেললে বড় একটা শঙ্কার জায়গা থেকে যাবে।’

উগ্রপন্থীদের দাবির মুখে মোস্তাফিজকে খেলতে না দেওয়ার প্রেক্ষিতে আগামী মাসে বাংলাদেশ দলের ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা নিরাপদ কি না প্রশ্নে সিলেটে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘টুর্নামেন্ট (বিশ্বকাপ) আয়োজন করছে আইসিসি, ভারত হচ্ছে স্বাগতিক। আমাদের কিছু যোগাযোগ করার দরকার হলে আইসিসিতে করব।’

মোস্তাফিজকে নিয়ে ঘটনা ন্যক্কারজনক, বললেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা:  বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলের ২০২৬ আসর থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তিনি বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তটিকে ‘ন্যক্কারজনক’ বলে অভিহিত করেছেন।

শনিবার রাতে ফারুকী এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আইপিএলে মোস্তাফিজকে নিয়ে যা হয়েছে, সেটা ন্যক্কারজনক। এর মধ্যে বাংলাদেশের নাগরিকেরা ঘৃণার রাজনীতি দেখতে পেয়েছেন এবং ব্যথিত হয়েছেন।’

ভারতে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের যেসব অভিযোগ আছে, বাংলাদেশি খেলোয়াড়-বিরোধিতাও একই সূত্রে গাঁথা থাকতে পারে বলে সন্দেহ তাঁর। এ বিষয়ে সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা লিখেছেন, ‘আপনারা জানেন গত কিছুদিন ধরে ভারতে সংখ্যালঘু মানুষের ওপর নির্যাতনের বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে উদ্বেগ জানিয়েছে। এই ঘটনাও একই মোটিভ দ্বারা প্রভাবিত কি না, সেটা নিশ্চয়ই সংশ্লিষ্ট মহল খতিয়ে দেখবে। ভবিষ্যতে আমাদের ক্রিকেট বা ফুটবল টিম সেখানে কতটা নিরাপদ, এটাও দেখা হবে নিশ্চয়ই।’

মোস্তাফিজকে আইপিএলে নিরাপত্তা দিতে না পারলে ভারত সরকার সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পুরো বাংলাদেশ দলকে নিরাপত্তা দিতে পারবে কি না, এমন প্রশ্ন এরই মধ্যে তুলেছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি বিসিবিকে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে আইসিসির কাছে বাংলাদেশের জন্য বিশ্বকাপের ভেন্যু শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। আগামী মাসে ভারত ও শ্রীলঙ্কা যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করবে। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের চারটি ম্যাচ পড়েছে ভারতের কলকাতা ও মুম্বাইয়ে। ক্রীড়া উপদেষ্টা আগামী মার্চ-মে মাসে অনুষ্ঠেয় আইপিএলের সম্প্রচার বাংলাদেশে বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাকে জানিয়েছেন বলে লিখেছেন তাঁর ফেসবুক পোস্টে। একই বিষয় তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টাকে জানাবেন বলেছেন ফারুকীও।

ভারতে প্রতিক্রিয়া: মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান ভারতের কয়েকজন রাজনীতিবিদ ও ধর্মীয় নেতা।

বিজেপি নেতা সংগীত সোম বার্তা সংস্থা এএনআইকে বলেন, ‘১০০ কোটি সনাতনী ভারতীয়দের প্রতি লক্ষ রেখে বিসিসিআইয়ের এই সিদ্ধান্তের জন্য ধন্যবাদ। আমরা গতকাল বলেছিলাম, এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে, কারণ ১০০ কোটি মানুষের আবেগ-অনুভূতিকে হেলাফেলা করা যায় না। এটি গোটা দেশের হিন্দুদের জয়।’

উত্তর প্রদেশের মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা নরেন্দ্র কাশ্যপ বলেন, ‘আমরা বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই, কারণ তাঁরা দেশের আবেগ-অনুভূতি বুঝেছেন এবং বাংলাদেশি খেলোয়াড়টিকে সরিয়ে দিয়েছেন, যেহেতু বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার চলছে- এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং সরকার প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।’ দেবকীনন্দনও বিসিসিআইকে ধন্যবাদ জানান।

তবে মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে বিপরীত প্রতিক্রিয়াও আছে কারও কারও। তাদের একজন কংগ্রেস নেতা শশী থারুর। পুরোনো একটি একটি ভিডিও শেয়ার করে তিনি ক্যাপশনে একটি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘এ বিষয়ে আমার মতামত আবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি- বিশেষ করে এখন, যখন বিসিসিআই নিন্দনীয়ভাবে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি খেলোয়াড়টি যদি লিটন দাস বা সৌম্য সরকার হতেন, তাহলে কী হতো? এখানে আমরা আসলে কাকে শাস্তি দিচ্ছি- একটি দেশকে, একজন ব্যক্তিকে নাকি তাঁর ধর্মকে? খেলাধুলাকে এভাবে নির্বিচার রাজনৈতিক রঙে রাঙানো আমাদের শেষ পর্যন্ত কোথায় নিয়ে যাবে?’

বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধ নিয়ে পদক্ষেপ: আইনগত ভিত্তি পর্যালোচনা এবং প্রক্রিয়া যাচাই-বাছাইয়ের পর ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) সম্প্রচার বাংলাদেশে বন্ধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

সচিবালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) সদস্যদের সঙ্গে রবিবার মতবিনিময়কালে এ কথা জানান তিনি। সচিবালয়ের গণমাধ্যমকেন্দ্রে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। বিএসআরএফের সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।

আইপিএল থেকে মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আইন উপদেষ্টা আইপিএলের সম্প্রচার বাংলাদেশে বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘বিষয়টা হচ্ছে যে- খেলাটা যদি খেলার জায়গায় আমরা রাখতে পারতাম খুবই ভালো হতো। কিন্তু আনফরচুনেটলি (দুর্ভাগ্যবশত) খেলাটার মধ্যে রাজনীতি নিয়ে আসা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘অন্যান্য সময় আমরা কী বলি? দুইটা দেশের মধ্যে যদি রাজনৈতিক টেনশন থাকেও- যে কোনো দুটি দেশ, আমি বাংলাদেশ-ভারত, বাংলাদেশ-নেপাল এরকম বলছি না, ভারত-নেপাল, ভারত-মালদ্বীপ এটা বলছি না, বলছি দুইটা দেশের মধ্যে যদি রাজনৈতিক টেনশন থাকেও- বলে যে সাংস্কৃতিক এক্সচেঞ্জ, খেলাধুলা, এগুলোর মাধ্যমে এটা কমিয়ে আনা যায়। এখানে দেখা গেল সম্পূর্ণ উল্টো কাজটা (মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়া) করা হয়েছে।’

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা আরও বলেন, বাংলাদেশের একজন খেলোয়াড়কে নিশ্চিত করার পরে, তাকে রাজনৈতিক যুক্তিতে...যেটা আমরা পত্র-পত্রিকায় দেখেছি, বলা হচ্ছে যে, ওকে নেওয়া হবে না। তো এরকম সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের দেশের জনগণেরও তো মনে একটা আঘাত লাগে। তাদের মধ্যেও একটা প্রতিক্রিয়া হয়।’
তিনি বলেন, ‘সেরকম জায়গায় আমাদেরও একটা অবস্থান নিতে হবে। আমরা সেই অবস্থানের আইনগত ভিত্তি পর্যালোচনা এবং প্রক্রিয়া যাচাই-বাছাই করছি। এটি করার পরে আমরা একটা পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’

খেলাধুলায় কেন এত রাজনীতি ঢুকছে, জিজ্ঞাসা মদন লালের: আইপিএলের মিনি নিলামের টেবিলে অনেক কাড়াকাড়ি শেষে মোস্তাফিজকে দলে টেনেছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে দামের রেকর্ড গড়ে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে তাকে দলে নেয় কেকেআর। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মোস্তাফিজের আর খেলা হচ্ছে না আইপিএলে। বিষয়টি নিয়ে ইন্ডিয়া টুডেকে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ১৯৮৩ বিশ্বকাপজয়ী মদন লাল।

মদন লাল ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, খেলাধুলার ভেতরে রাজনীতির এই অনধিকার প্রবেশ মোটেও ভালো লক্ষণ নয়। তার মতে, পরিস্থিতির চাপে বিসিসিআই অনেকটা একতরফাভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মদন লাল সোজাসাপ্টা বলেছেন, ‘বিসিসিআই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কারণ, তাদের চ্যালেঞ্জ করার ক্ষমতা কারও নেই। এমনকি শাহরুখ খানেরও না; কিন্তু খেলাধুলায় কেন এত রাজনীতি ঢুকছে? আমি জানি না ক্রিকেট কোন দিকে যাচ্ছে।’

মদন লাল মনে করেন, এখানে মোস্তাফিজ পরিস্থিতির শিকার। তিনি সরাসরি বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই ওপর মহল থেকে চাপ ছিল। বাংলাদেশে যা ঘটছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক, কিন্তু খেলোয়াড়দের কেন এর মাঝখানে টেনে আনা হচ্ছে? এখানে শাহরুখ খানের দোষ কোথায়? নিলামে তো একটা কমিটি বসে খেলোয়াড় নির্বাচন করে।’

তবে ভারতের মতো ক্রিকেটপাগল দেশে জাতীয় আবেগ যে অনেক বড় বিষয়, তা-ও মানছেন এই সাবেক তারকা। তার মতে, দেশ সবার আগে- এই ভাবনা থেকেই হয়তো বোর্ড এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। তার কথা, ‘দেশের মানুষের আবেগ সব সময়ই বড়। কোটি কোটি মানুষ ক্রিকেট ভালোবাসে বলেই আজ এসব ঘটছে। দিন শেষে দেশই সবার আগে, আর সেই জায়গা থেকে এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়তো ভুল নয়।’

মোস্তাফিজ ইস্যুতে বিসিবিকে সাহস দেখাতে বললেন আকরাম খান: কলকাতা দল মোস্তাফিজকে দলে নিয়েও বাদ দেওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক এবং সাবেক বিসিবি পরিচালক আকরাম খান। একটি জাতীয় দৈনিকের সঙ্গে আলাপে তিনি এই ঘটনাকে মোস্তাফিজের প্রতি ‘অন্যায়’ হিসেবে অভিহিত করেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘এর ফলে কেবল ক্রিকেটার নন, দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরাও বড় সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।’

মোস্তাফিজের কেকেআরে সুযোগ পাওয়া নিয়ে শুরুতে বেশ উচ্ছ্বসিত ছিলেন আকরাম, ‘আমি এই ঘটনায় খুবই অবাক হয়েছি। মোস্তাফিজ ৯ কোটি টাকার বেশি মূল্যে কেকেআরে খেলবে শুনে আমি এবং দেশের ৮০ শতাংশ সমর্থক অনেক খুশি হয়েছিলাম। কলকাতা বাঙালি প্রধান জায়গা, সেখানে সাকিব আগে খেলেছে এবং এটি শাহরুখ খানের দল। আমি নিজেও একটা ম্যাচও মিস না করার পরিকল্পনা করেছিলাম। ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ভারত আমাদের অনেক সহযোগিতা করেছিল। ভেবেছিলাম মোস্তাফিজের মাধ্যমে দুই দেশের বর্তমান দূরত্ব ঘুচে যাবে। কিন্তু তাকে বাদ দেওয়াটা তার প্রতি অন্যায়, কারণ ৯ কোটি টাকা অনেক বড় অংক।’

বিদ্যমান সংকটে বিসিবির জোরালো ভূমিকা দেখতে চান আকরাম, ‘বিসিবির উচিত ছিল অনেক আগে থেকেই এসব বিষয়ে কাজ করা। এখন আমাদের নিজেদের কথাগুলো অনেক জোরালোভাবে বলতে হবে। ভারতকে ভয় পেয়ে পিছিয়ে থাকলে চলবে না, বরং সাহসের সাথে আমাদের দাবিগুলো উপস্থাপন করতে হবে। আইসিসি চুপ থাকলেও আমাদের নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় কথা বলতে হবে।’

বিশ্বকাপে ভারতে দল পাঠাবে না বাংলাদেশ: আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। গতকাল রোববার দুপুরে বিসিবির ১৭ জন বোর্ড পরিচালককে নিয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় সর্বসম্মতভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের তারকা পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার রাতেও বোর্ড পরিচালকেরা অনলাইনে বৈঠকে বসেছিলেন। ওই বৈঠকে অধিকাংশ পরিচালক শুরুতে কঠোর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার পক্ষে মত দেন। তবে পরবর্তীতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বোর্ডের অবস্থানে পরিবর্তন আসে।

এরই ধারাবাহিকতায় গতকালের সভায় সিদ্ধান্ত হয়, বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ দলের ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলা নিরাপদ ও সম্মানজনক হবে না। ফলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ দল ভারতে যাবে না বলে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বিসিবি। বিশ্বকাপ সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্ত দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ক্রীড়াগত অধিকার নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তারই প্রতিফলন এই সিদ্ধান্ত।

বিশ্বকাপ ম্যাচ সরাতে চায় বাংলাদেশ, মুখ খুলল ভারতীয় বোর্ড:  মোস্তাফিজ  আইপিএলে খেলতে পারছেন না। ভারতে চলমান বাংলাদেশ বিরোধী মনোভাবের কারণে পরিস্থিতি ক্রমেই বৈরী হয়ে পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ তাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ ভারত থেকে সরানোর কথা ভাবছে।  এবার এই খবরের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। বিসিসিআই বলেছে, এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে। তারা একে ‘লজিস্টিক দুঃস্বপ্ন’ বলে উল্লেখ করেছে।

এবারের বিশ্বকাপ হবে ভারত ও শ্রীলঙ্কায়। বর্তমান সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচ কলকাতায়। আর একটি ম্যাচ মুম্বাইয়ে। তবে বিসিসিআই মনে করে, এখন সূচি বদলানো প্রায় অসম্ভব। সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বিসিসিআইয়ের একটি সূত্র বলেছে, ‘কারও ইচ্ছেমতো ম্যাচ বদলানো যায় না। এটা লজিস্টিক দুঃস্বপ্ন। প্রতিপক্ষ দলের কথা ভাবুন। তাদের বিমান টিকিট, হোটেল সব বুক করা।’ ওই সূত্র আরও বলেছে, ‘প্রতিদিন তিনটি করে ম্যাচ আছে। তার একটি শ্রীলঙ্কায়। সম্প্রচার দলও জড়িত। তাই বিষয়টি বলা যত সহজ, করা তত সহজ নয়।’

আসিফ নজরুলের প্রতিক্রিয়া: শনিবার রাতে জরুরি বৈঠক করে বিসিবি। জানা গেছে, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নির্দেশেও আইসিসির কাছে বিষয়টি তোলা হচ্ছে। সরকারের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ফেসবুকে লেখেন, ‘ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা হিসেবে আমি ক্রিকেট বোর্ডকে নির্দেশ দিয়েছি পুরো বিষয়টি লিখিতভাবে আইসিসিকে জানাতে।’
তিনি আরও লেখেন, ‘চুক্তির আওতায় থেকেও যদি কোনো বাংলাদেশি ক্রিকেটার ভারতে খেলতে না পারেন, তাহলে জাতীয় দল বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে গেলে নিরাপদ বোধ করবে না। তাই আমি বোর্ডকে অনুরোধ করতে বলেছি, বাংলাদেশের বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো যেন শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হয়।’

মোস্তাফিজ বিতর্কে উত্তাল ভারতীয় রাজনীতি: তারকা পেসার মোস্তাফিজকে আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে ভারতজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র আকার নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এবার প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুললেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। তার মন্তব্যে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে খেলাধুলা ও রাজনীতির সীমারেখা।

কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ‘আমরা এখানে কাকে শাস্তি দিচ্ছি একজন ক্রিকেটারকে না একটি দেশকে না তার ধর্মকে। তার মতে খেলাধুলাকে এভাবে রাজনৈতিক রঙে রাঙানো অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রবণতা। থারুর আরও বলেন মোস্তাফিজ কোনও ঘৃণা ছড়াননি তিনি কোনও হিংসাত্মক ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নন তিনি একজন পেশাদার ক্রীড়াবিদ। একটি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বা সামাজিক সমস্যার দায় একজন খেলোয়াড়ের ঘাড়ে চাপানো অন্যায্য।’

থারুর আরও প্রশ্ন তোলেন, ‘মোস্তাফিজের জায়গায় যদি বাংলাদেশের কোনও হিন্দু ক্রিকেটার থাকতেন তাহলে কি একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো। তার এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই ধর্মীয় বৈষম্যের অভিযোগ নতুন করে উঠে এসেছে।’

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে থারুর বলেন, ‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। ভারত সরকারের উচিত কূটনৈতিক স্তরে এই বিষয়টি তুলে ধরা এবং ঢাকা সরকারের উপর চাপ বজায় রাখা। কিন্তু সেই চাপ দেওয়ার পথ কখনওই খেলাধুলা হতে পারে না।’

মোস্তাফিজ ইস্যুতে ভারতকে নিয়ে যা বললেন আসিফ মাহমুদ:  আইপিএল আসন্ন আসরে বাংলাদেশ দলের তারকা পেসার মোস্তাফিজকে দলে নেয় বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানের দল কলকাতা। কিন্তু আসর শুরুর আগে নিরাপত্তার অযুহাতে মোস্তাফিজকে আসর থেকে বাদ দেয় বিসিসিআই।

এ ব্যাপারে সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া  ফেসবুকে লিখেছেন, ‘এরকম একটা উগ্র রাষ্ট্রকে কোনোপ্রকার আন্তর্জাতিক ইভেন্ট আয়োজনের সুযোগ দেওয়া উচিত না। সরকার এবং বিসিবির যৌথ উদ্যোগে অপরাপর ক্রিকেট খেলুড়ে দেশের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ভারতকে আন্তর্জাতিক ইভেন্ট আয়োজনের অনুপযুক্ত হিসেবে ঘোষণা করা উচিত। ৫ আগস্টের পরেও বাংলাদেশে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের অসংখ্য টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়েছে যেখানে ভারতীয়রা সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং প্রতিযোগিতা পূর্ণ পরিবেশে অংশগ্রহণ করেছে।’

মোস্তাফিজ হতাশ: ঘটনাটি নিয়ে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে মুস্তাফিজ সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘ছেড়ে দিলে কী আর করার।’ ঘনিষ্ঠ সূত্রের ভাষ্য, আইপিএল থেকে বাদ পড়ার খবরে তিনি ‘স্পষ্টতই হতাশ’। ফর্মের দিক থেকেও সময়টা ছিল মুস্তাফিজের অনুকূলে। জাতীয় দলের পাশাপাশি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে ছিলেন তিনি। আইএলটি-টোয়েন্টিতে দুবাই ক্যাপিটালসের হয়ে তাঁর বোলিং নজর কেড়েছিল। এমন অবস্থায় আইপিএলে, বিশেষ করে ইডেন গার্ডেনসের সহায়ক কন্ডিশনে, তাঁর কার্যকারিতা নিয়ে প্রত্যাশা ছিল বড়।

বাদ পড়েও কি টাকা পাবেন মোস্তাফিজ?: রেকর্ড ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে তাকে দলে নিয়েছিল কলকাতা। কিন্তু মাঠের লড়াই শুরুর আগেই বিসিসিআই’র নির্দেশে দল থেকে বাদ পড়েছেন মোস্তাফিজ। এরপর থেকেই ক্রিকেট প্রেমীদের মনে বড় প্রশ্ন- চুক্তি অনুযায়ী এই বিশাল অংকের পারিশ্রমিক কি পাবেন বাংলাদেশের এই তারকা পেসার? বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই অর্থ মোস্তাফিজের হাতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ধারণা করা হচ্ছে, ৩০ বছর বয়সী এই পেসার চুক্তির কোনো অংশই পাবেন না।

আইপিএল নিলামের নীতিমালা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মোস্তাফিজের এই পরিস্থিতিটি ‘ফোর্স মেজিউর’ বা ‘অনিবার্য কারণ’ সংক্রান্ত ধারার আওতায় পড়ে। এটি এমন একটি চুক্তিভিত্তিক বিধান, যেখানে কোনো পক্ষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির কারণে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে বিসিসিআই’র সরাসরি নির্দেশে মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাই কেকেআর তাকে অর্থ পরিশোধ করতে আইনত বাধ্য নয়।

আইপিএলের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনো খেলোয়াড় নিলামে বিক্রি হওয়ার পর ব্যক্তিগত কারণে টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ান, তবে তাকে পরবর্তী দুই মৌসুমের জন্য নিষিদ্ধ করা হয় এবং তিনি কোনো অর্থ পান না। যেমনটি ঘটেছিল ইংলিশ ব্যাটার হ্যারি ব্রুকের ক্ষেত্রে। আবার নিলামের পর চোটের কারণে কেউ মাঠের নামতে না পারলেও কোনো পারিশ্রমিক পান না। কিন্তু মোস্তাফিজের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। তিনি খেলার জন্য প্রস্তুত ছিলেন এবং নিজে থেকে সরেও দাঁড়াননি। ফলে আইপিএলের প্রচলিত নিয়মগুলো এখানে সরাসরি খাটছে না, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আইনি লড়াই বা ক্ষতিপূরণের প্রশ্নটি সামনে আসলেও এর সম্ভাবনা ক্ষীণ। ‘ফোর্স মেজিউর’ ধারার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অ-ক্রিকেটীয় কারণে কোনো খেলোয়াড়কে বাধ্যতামূলকভাবে সরিয়ে দেওয়া হলে খেলোয়াড়ের বদলে ফ্র্যাঞ্চাইজিই বরং বিসিসিআই’র কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য হয়।

লিগের পরিচালনা নির্দেশিকা বলছে, বিসিসিআই যখন অ-ক্রিকেটীয় কারণে কোনো খেলোয়াড়কে স্কোয়াড থেকে সরিয়ে দেয়, তখন ফ্র্যাঞ্চাইজি ওই খেলোয়াড়ের নিলাম মূল্যের সম্পূর্ণ অর্থ রিফান্ড পায়। সেই হিসেবে মোস্তাফিজের ৯ কোটি ২০ লাখ রুপি কেকেআর-এর খরচযোগ্য তহবিলে (পার্সে) ফেরত যাওয়ার কথা। এই রিফান্ড ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে তারা তাদের আর্থিক শক্তি বজায় রেখে ‘রেজিস্টার্ড অ্যাভেইলেবল প্লেয়ার পুল’ থেকে মোস্তাফিজের বিকল্প খেলোয়াড় ড্রাফট করতে পারবে। রাজনৈতিক কারণে নিলাম থেকে কেনা খেলোয়াড়কে বাদ দেওয়ার ঘটনা আইপিএলে আগে কখনো ঘটেনি। ফলে মোস্তাফিজ যদি কেকেআর বা বিসিসিআই-এর কাছে তার পাওনা দাবি করেন, তবে সেটি কোন দিকে গড়াবে তা এখন পর্যন্ত পুরোপুরি অনিশ্চিত।

তোপের মুখে শাহরুখ খানের কলকাতা: মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে উত্তাল ক্রিকেটপাড়া। বাংলাদেশ তো বটেই, খোদ ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ও ভক্তদের তোপের মুখে পড়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেকেআর-এর ওপর চলছে নেটিজেনদের গণহারে ক্ষোভ প্রকাশ।

বাংলাদেশ সময় শনিবার দুপুর ২টা ২২ মিনিটে নিজেদের অফিশিয়াল পেজে মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার ঘোষণা দেয় কেকেআর। এরপর থেকেই শুরু হয় প্রতিক্রিয়ার ঝড়। গত ২১ ঘণ্টায় সেই পোস্টে প্রতিক্রিয়া জমা পড়ে ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি। এর মধ্যে ১ লাখ ১৬ হাজারই ‘অ্যাংরি’ রিঅ্যাকশন, আর ৩৩ হাজার ‘হাহা’। মন্তব্যের ঘরে ভক্তরা আইপিএল বয়কটের ডাক দেওয়ার পাশাপাশি ভারতের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট নিয়ে তীব্র শ্লেষাত্মক মন্তব্য করছেন। মোস্তাফিজকে নিয়ে করা পোস্টের পর কেকেআর আরও আটটি পোস্ট করলেও ভক্তদের রোষানল থেকে রেহাই পায়নি তারা। বরুণ চক্রবর্তীর পারফরম্যান্স কিংবা ভারতের ওয়ানডে দল-বিষয় যাই হোক না কেন, প্রতিটি পোস্টেই নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। নিউজিল্যান্ড সিরিজের ভারতীয় দল ঘোষণার পোস্টে ৫১ হাজার প্রতিক্রিয়ার মধ্যে ৩১ হাজারই ‘হাহা’ এবং ১৫ হাজার ‘অ্যাংরি’ রিঅ্যাকশন দেখা গেছে। কেকেআরের প্রতিটি পদক্ষেপেই এখন ছায়া হয়ে দাঁড়িয়েছে মোস্তাফিজ ইস্যু।

মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ায় হতাশ বাফুফে সভাপতি: উগ্রপন্থীদের হুমকির মুখে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলের ২০২৬ আসর থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় তীব্র হতাশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, জাতীয়তার কারণে মোস্তাফিজকে লক্ষ্যবস্তু করা অসহিষ্ণুতার চরম বহিঃপ্রকাশ।

তাবিথ আউয়াল লিখেছেন, কলকাতা নাইট রাইডার্স মোস্তাফিজকে দলভুক্ত করেছিল তাঁর দক্ষতা ও পারফরম্যান্স বিবেচনা করেই। তাঁর ভাষায়, ‘মোস্তাফিজ একজন বিশ্বমানের অ্যাথলেট, যিনি নিজের পারফরম্যান্স দিয়েই সেখানে জায়গা করে নিয়েছিলেন। কেবল জাতীয়তার কারণে তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করা একজন খেলোয়াড়ের প্রতি চরম অবিচার এবং অসহিষ্ণুতার বহিঃপ্রকাশ।’

তাবিথ আউয়াল তাঁর পোস্টে আরও লেখেন, খেলাধুলার রয়েছে বিভেদ ভুলে মানুষকে এক করার অসীম শক্তি। সেটিকে বিভাজনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও শ্রদ্ধা তৈরির মাধ্যম হিসেবে কাজে লাগানো উচিত। পোস্টের শেষ অংশে মোস্তাফিজের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তাবিথ আউয়াল লেখেন, ‘শক্ত থাকো মোস্তাফিজ। পুরো জাতি আজ তোমার পাশে আছে।’

ভোরের আকাশ/এসএইচ

বিশ্বকাপবিসিবিভারত

শেয়ার করুন: