শিক্ষাব্যবস্থায় খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হবে : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক। বুধবার (৬ মে) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আয়োজিত জেলা প্রশাসক সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয় ইতোমধ্যে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং খেলাধুলাকেও সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই এটি কার্যকর করা হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের যুবসমাজকে দক্ষ, কর্মক্ষম ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। যুবসমাজ ও খেলাধুলার মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে, যা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।
যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে ফ্রিল্যান্সিং, কেয়ারগিভিং, মোবাইল সার্ভিসিংসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণভিত্তিক কর্মসূচি চালু করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে এর পরিধি আরও বাড়ানো হবে। এসব কর্মসূচি সফল করতে মাঠপর্যায়ে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে তৃণমূল পর্যায়ে যুবকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে হবে, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণরাও এসব সুযোগ-সুবিধা পায়।
ক্রীড়া খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, দেশের ৬৪টি জেলা স্টেডিয়ামে নতুন করে ক্রীড়া কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। সেখানে আটটি ভিন্ন ইভেন্টে প্রতিযোগিতা চলছে এবং বিশেষ করে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য।
স্টেডিয়াম ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, অতীতে অনেক ক্ষেত্রে স্টেডিয়াম মেলার জন্য ব্যবহৃত হওয়ায় খেলাধুলার পরিবেশ ব্যাহত হয়েছে। ভবিষ্যতে স্টেডিয়াম মেলার জন্য ব্যবহার না করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া দীর্ঘদিন অব্যবস্থাপনায় অকার্যকর হয়ে পড়া স্টেডিয়াম ও ক্রীড়া কমপ্লেক্স সংস্কারে সমন্বিত প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় সুইমিং কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্রীড়া অবকাঠামো আধুনিকায়ন করা হবে।
তিনি আরও জানান, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন খেলার মাঠগুলো সংরক্ষণ ও উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে পরিদর্শন করেছে এবং যেসব মাঠ খেলার উপযোগী, সেগুলো অন্য কাজে ব্যবহার না করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা