বাংলাদেশের আগে যেসব দেশে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল যে ৬ দেশ

ক্রিকেট বিশ্বকাপ মানেই কোটি ভক্তের উত্তেজনা। তবে এই মহাযজ্ঞে নিরাপত্তা উদ্বেগ অনেক সময়ই বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। রাজনৈতিক অস্থিরতা, সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা কিংবা কূটনৈতিক টানাপোড়েনে অতীতেও বহুবার ভেন্যু বদল, ম্যাচ স্থানান্তর এমনকি পুরো ম্যাচ বাতিলের ঘটনা ঘটেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সেই আলোচনায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়ে আইসিসির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করেছে, ভারতে নির্ধারিত বাংলাদেশের ম্যাচগুলো যেন শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়া হয়।
বিসিবির দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়। এর আগেও একাধিক দেশ এমন পদক্ষেপ নিয়েছে। চলুন, ইতিহাস টেনে দেখি কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড (২০০৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ)
২০০৩ বিশ্বকাপ দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও কেনিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়। ইংল্যান্ড জিম্বাবুয়েতে রবার্ট মুগাবের শাসনামলে রাজনৈতিক অস্থিরতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নিরাপত্তা শঙ্কা (ডেথ থ্রেট সহ) দেখিয়ে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে অস্বীকার করে। আইসিসি ভেন্যু দক্ষিণ আফ্রিকায় সরানোর অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে, ফলে ম্যাচ ফরফেইট হয় এবং জিম্বাবুয়ে ৪ পয়েন্ট পায়। কেনিয়ায় সন্ত্রাসী হামলার শঙ্কা (মোম্বাসা বোমা হামলার পর) দেখিয়ে নাইরোবিতে কেনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে অস্বীকার করে। আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ নাকচ করে, ম্যাচ ফরফেইট হয় এবং কেনিয়া ৪ পয়েন্ট পায়।
অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ (১৯৯৬ ওয়ানডে বিশ্বকাপ)
শ্রীলঙ্কায় গৃহযুদ্ধের কারণে কলম্বোতে সন্ত্রাসী হামলার পর অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ নিরাপত্তা শঙ্কায় শ্রীলঙ্কায় খেলতে অস্বীকার করে। তাদের গ্রুপ ম্যাচ ফরফেইট হয়, শ্রীলঙ্কা পয়েন্ট পায়। এটি বিশ্বকাপে নিরাপত্তা উদ্বেগে ম্যাচ বয়কটের উদাহরণ।
২০০৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
ইংল্যান্ডের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি না হওয়ায় ২০০৯ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায় জিম্বাবুয়ে। তাদের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
পাকিস্তান (২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপ)
২০০৯ সালে লাহোরে শ্রীলঙ্কান দলের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ছড়ায়। ফলে ২০১১ ওডিআই বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক পাকিস্তানের সব ম্যাচ সরিয়ে নেওয়া হয়। ১৪টি ম্যাচ ভারত, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশে স্থানান্তরিত হয়। এটি ছিল নিরাপত্তা কারণে পুরো একটি দেশের আয়োজক ভূমিকা বাতিলের সবচেয়ে বড় উদাহরণ।
ভারত (২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ও ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ)
ভারত রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কারণে পাকিস্তানে খেলতে অস্বীকার করে। ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে (পাকিস্তান আয়োজিত) ভারতের সব ম্যাচ নিরপেক্ষ ভেন্যুতে (দুবাই) খেলানো হয়েছে। একই নিয়মে ২০২৪-২৭ চক্রে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিরপেক্ষ ভেন্যুতে। এছাড়া ২০২৩ এশিয়া কাপে ভারতের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরানো হয়েছিল।
এছাড়া ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কোভিড উদ্বেগে (যা নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত) ভারত থেকে সরিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে নেওয়া হয়। এবং ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ভারতে পাকিস্তানের ম্যাচ নিয়ে নিরাপত্তা পরীক্ষা হয়, কিছু ম্যাচের তারিখ বদল হয়।
ভোরের আকাশ/মো.আ.