বিতর্কে ভিএআর, সেনেগালের হৃদয়ভাঙা হার

স্টপেজ টাইমে বিতর্কিত ভিএআর সিদ্ধান্তে বেলজিয়ামের কাছে হেরে যায় সেনেগাল। নির্ধারিত সময়ের ৮৬ মিনিট পর্যন্ত দুই গোলে এগিয়ে ছিল আফ্রিকান দলটি। তবে শেষ দিকে লুকাকু ও ইউরি টিয়েলম্যানসের গোলে সমতায় ফেরে বেলজিয়াম, আর অতিরিক্ত সময়ে পেনাল্টি থেকে পাওয়া গোলেই জয় নিশ্চিত করে ইউরোপিয়ানরা।
ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তটি আসে অতিরিক্ত সময়ে। বেলজিয়ামের টিয়েলম্যানস সেনেগালের বক্সে বল নিয়ন্ত্রণে নিতে গেলে ডিফেন্ডার লামিনে কামারার সঙ্গে সংঘর্ষে পড়ে যান। প্রথমে রেফারি সাইদ মার্টিনেজ কোনো ফাউল দেননি এবং বেলজিয়ামের আবেদনও নাকচ করেন।

তবে পরে ভিএআর পর্যালোচনায় পেনাল্টির সুপারিশ করা হয়। রেফারিকে মাঠের পাশের মনিটরে দীর্ঘ সময় রিপ্লে দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। প্রায় সাত মিনিটের পর্যালোচনার পর তিনি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন। ১২৫তম মিনিটে সেই পেনাল্টি থেকে গোল করে বেলজিয়াম ম্যাচ জিতে নেয়।
ম্যাচের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। সেনেগালের কোচ ও পাপ থিয়াও সরাসরি রেফারির বিষয়ে মন্তব্য না করলেও হতাশা প্রকাশ করেন।
এদিকে সাবেক তারকা জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ বলেন, সেনেগাল ‘ডাকাতির’ শিকার হয়েছে। তার মতে, এমন সিদ্ধান্ত আধুনিক ফুটবলে ভিএআরের অপব্যবহারকে আবারও সামনে এনেছে।

সাবেক নাইজেরিয়ান মিডফিল্ডার জন ওবি মিকেলও সমালোচনা করে বলেন, বড় দল ও ছোট দলের ক্ষেত্রে নিয়মের প্রয়োগে বৈষম্য দেখা যায়। একই সঙ্গে কানাডিয়ান ধারাভাষ্যকার ক্রেইগ ফরেস্টও সিদ্ধান্তটিকে কঠোর হিসেবে উল্লেখ করেন।
এর আগে আফ্রিকান কাপ অব নেশনসের ফাইনালেও বিতর্কিত রেফারিং সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছিল, যেখানে সেনেগাল ম্যাচ থেকে সাময়িকভাবে ওয়াকআউট করেছিল।
সব মিলিয়ে বেলজিয়ামের বিপক্ষে এই ম্যাচে ভিএআর সিদ্ধান্ত আবারও ফুটবলের ন্যায্যতা ও প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা