আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড মহারণের রেফারি ইসমায়েল এলফাত

চলতি বিশ্বকাপে অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে ম্যাচ রেফারি। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে ছিল বাড়তি আলোচনা। তাই সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব কারা পাচ্ছেন, তা নিয়ে আগ্রহ ছিল ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত ফিফা এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের প্রধান রেফারি হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ইসমায়েল এলফাতকে।
আগামীকাল (বুধবার) দিবাগত রাত ১টায় আটালান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ম্যাচটিতে প্রধান রেফারির দায়িত্ব পালন করবেন এলফাত। তার সহকারী হিসেবে থাকবেন যুক্তরাষ্ট্রের কোরি পার্কার ও কাইল অ্যাটকিনস। এছাড়া ইতালির মাউরিজিও মারিয়ানি চতুর্থ রেফারি এবং দানিয়েলে বিনদোনি রিজার্ভ সহকারী রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
৪৪ বছর বয়সী এলফাত যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) বর্ষসেরা রেফারির পুরস্কার পেয়েছেন দুইবার। ২০১২ সাল থেকে তিনি এমএলএসে ম্যাচ পরিচালনা করছেন। ২০১৬ সালে জায়গা পান ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারির তালিকায়। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ওই আসরের ফ্রান্স-আর্জেন্টিনা ফাইনালে তিনি ছিলেন চতুর্থ রেফারি।
চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তিনটি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন এলফাত। গ্রুপপর্বে নেদারল্যান্ডস-জাপান এবং উরুগুয়ে-স্পেন ম্যাচে দায়িত্ব পালনের পর শেষ ষোলোয় ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচ পরিচালনা করেন তিনি।
বর্তমানে টেক্সাসে বসবাসকারী এলফাতের জন্ম মরক্কোয়। ২০০১ সালে ১৮ বছর বয়সে ডাইভারসিটি ভিসা লটারির মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান বলে জানিয়েছে ইউএসএ টুডে।
বড় ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতায় উত্তর আমেরিকার অন্যতম সেরা রেফারি হিসেবে পরিচিত এলফাত। তিনি ২০২২ সালের এমএলএস কাপ ফাইনাল এবং ২০২৬ সালের কনক্যাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপ ফাইনালের দায়িত্বও পালন করেছেন। এবার তার সামনে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের মতো ঐতিহাসিক এক ম্যাচ পরিচালনার বড় চ্যালেঞ্জ।
ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার এই দুই জায়ান্ট দল সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছিল ২১ বছর আগে। ২০০৫ সালে এক প্রীতি ম্যাচে ইংল্যান্ড ৩-২ গোলে জয় পাওয়ার পর আর দেখা হয়নি তাদের। আর প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দীর্ঘ ২৪ বছর পর। দুই দলের ফুটবল ইতিহাসে রয়েছে অসংখ্য স্মরণীয় ও বিতর্কিত অধ্যায়।
ভোরের আকাশ/সু.পা