এনএসসির পুরনো ভবনে হবে আধুনিক ইনডোর কমপ্লেক্স : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

‘তোমরা আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দেব’- ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্টের বিখ্যাত উক্তি এটি। তিনশত বছর পুরনো নেপোলিয়নের সেই উক্তিটিই যেন কাল আবারও ফিরে এসেছে; বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের বক্তব্যের মাধ্যমে। গতকাল ছিল ফেডারেশন কাপ তায়কোয়ান্দো প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমিনুল হক তায়কোয়ান্দোসহ সমস্ত ইভেন্টের ক্রীড়াবিদদের উদ্দেশ্য বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে আমি সব ধরনের সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু আমরা এখন আর অংশগ্রহণের জন্য কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চাই না, আমরা পদক চাই।‘
বাংলাদেশের একটি সম্ভাবনাময় এবং জনপ্রিয় ইভেন্ট তায়কোয়ান্দো। এই ফেডারেশনের রয়েছে অভূতপূর্ব সাফল্য। ২০০৬ সালে শ্রীলংকায় অনুষ্ঠিত এসএ গেমসে স্বর্ণ জিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের প্রতিভার জানায় দেয় তায়কোয়ান্দো। সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ২০১০ ঢাকা এসএ গেমস এবং ২০১৯ নেপালে অনুষ্ঠিত এসএ গেমসে স্বর্ণ জেতে লাল-সবুজের দল। মাঝে কিছুটা সময় তায়কোয়ান্দো তার দিক হারালেও, বর্তমান অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব নেয়ার পর পরই আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে এই খেলায়। ফেডারেশন কাপের জমকালো আয়োজনই তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। সেই আয়োজনের সমাপনী মঞ্চে সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম রানা সরকারের কাছে খেলাটির উন্নয়ন এবং খেলোয়াড়দের উন্নতির স্বার্থে কিছু দাবি উত্থাপন করেন। যার মধ্যে ছিল অনুশীলনের উপযুক্ত একটি স্থান।
ফেডারেশন কাপ আয়োজন করে আয়োজকরা প্রশংসা কুঁড়ালেও, আয়োজন স্থান জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের জিমনেশিয়াম হলের পরিবেশ নিয়ে বেশ সমালোচনা শুনতে হয়। বিশেষ করে সেখানকার দমবন্ধ পরিবেশ, গরমে খেলোয়াড়দের নাভিশ্বাস অবস্থা- এ নিয়ে অভিভাবকরাও বিরক্তি প্রকাশ করেন। খেলোয়াড়দের জন্য আরও উন্নতমানের পরিবেশের দাবি জানান তারা। ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক আমিনুল হক তাদের এ দুরাবস্থা দূরের আশ্বাস দিয়েছেন। এ ব্যাপারে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পুরোনো পাঁচতলা ভবনটি ভেঙে সেখানে আন্তর্জাতিক মানের ইনডোর সুবিধাসম্পন্ন একটি আধুনিক বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে এ নিয়ে কার্যক্রমও শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ভবনটি নতুন করে গড়ে তুলতে দেশি ও বিদেশি কয়েকজন বিনিয়োগকারীর সঙ্গে আলোচনা চলছে। তাদের আগ্রহের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আন্তর্জাতিক মানের সব ধরনের ইনডোর ক্রীড়া সুবিধা ও প্রয়োজনীয় ফ্যাসিলিটিজ রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, দ্রুতই পুরোনো ভবনটি ভেঙে সেখানে একটি বড় হাইরাইজ ভবন নির্মাণের লক্ষ্য রয়েছে। সেই ভবনে আন্তর্জাতিক মানের ইনডোর সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় সব ফ্যাসিলিটি রাখা হবে। এর মাধ্যমে আধুনিক ও উন্নত পরিবেশে ক্রীড়াবিদদের প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে। তার আগ পর্যন্ত এনএসসির জিমন্যাশিয়ামটি জিমন্যাস্টিকস ও তায়কোয়ান্দো সমানভাগে অনুশীলনের জন্য ব্যবহার করবে।’ এছাড়া দেশ-বিদেশে নানান সময় সাফল্য বয়ে আনা তায়কোয়ান্দো খেলোয়াড়দের ক্রীড়াভাতায় যুক্তেরও ঘোষণা দেন আমিনুল হক। সমাপনী অনুষ্ঠানে ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম রানা ছাড়াও ফেডারেশনের সভাপতি ও বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ফেডারেশন সদস্য, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বিএনপির মিডিয়া সেল সদস্য এবং সময়ের আলো পত্রিকার উপদেষ্টা সম্পাদক শায়রুল কবির খান, সহ-সভাপতি আব্দুস সাকুর চৌধুরী, মুসলিম মিয়া, সদস্য মাসুম কবিরসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে ফেডারেশন কাপ তায়কোয়ান্দোর সিনিয়র বিভাগে ছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জয়জয়কার। সিনিয়র পুরুষ বিভাগে সেনাবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। দুদলই চারটি করে স্বর্ণ ও রৌপ্য এবং আটটি ব্রোঞ্জপদক জিতেছে। রানার্সআপ চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা জিতেছে চারটি ব্রোঞ্জ। অন্যদিকে সিনিয়র মহিলা বিভাগে চারটি স্বর্ণ ও ২টি রৌপ্য জিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সেনাবাহিনী। দুইটি স্বর্ণ ও একটি ব্রোঞ্জ জিতে রানার্সআপ হয়েছে বিজিবি। তিন দিনব্যাপী আয়োজিত এবারের প্রতিযোগিতায় ২৮টি দল ও সংস্থার ৪৫০ জন খেলোয়াড় মোট ৩৪টি ওজন ক্যাটাগরিতে অংশগ্রহণ করেন।
ভোরের আকাশ/এনএস