বিতর্কিত মন্তব্যে শাস্তির মুখে লা লিগা প্রধান

রেফারিদের সিদ্ধান্ত নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের সমালোচনার জবাবে ক্লাবটির প্রচারকৌশলকে নাৎসি জার্মানির প্রচারমন্ত্রী জোসেফ গোয়েবলসের কৌশলের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন স্প্যানিশ লা লিগার সভাপতি হাভিয়ের তেবাস।
তাঁর ওই মন্তব্যের জেরে এবার স্পেনের স্পোর্টস ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি খতিয়ে দেখে তেবাসের বক্তব্য ক্রীড়াঙ্গনের মর্যাদা ও শালীনতা রক্ষার বিধি লঙ্ঘন করেছে কি না, তা নির্ধারণের অনুরোধ জানিয়েছে ন্যাশনাল স্পোর্টস কাউন্সিল (সিএসডি)।
১৬ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তেবাস রিয়াল মাদ্রিদের যোগাযোগ ও প্রচারনীতির সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, রেফারিং নিয়ে ক্লাবটির বক্তব্যের ধরন নিজেদের অনুকূলে থাকা সিদ্ধান্ত বেছে নেওয়া, কথিত অবিচারের পুনরাবৃত্তি করা, সন্দেহ তৈরি করা এবং প্রতিপক্ষকে চিহ্নিত করার ওপর নির্ভরশীল।
তেবাস লেখেন, এই কৌশল তাঁকে গোয়েবলসের প্রচারপদ্ধতির কথা মনে করিয়ে দেয়। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, এই তুলনা আদর্শগত দিক থেকে নয় এবং রিয়াল মাদ্রিদের সমর্থকদের সঙ্গেও এর কোনো সম্পর্ক নেই বলে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন।
তেবাসের ওই মন্তব্যের পরই কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় রিয়াল মাদ্রিদ। ক্লাবটি লা লিগা সভাপতির পদত্যাগ দাবি করে। এর ধারাবাহিকতায় সিএসডি স্পেনের স্পোর্টস ট্রাইব্যুনালের (টিএডি) কাছে জানতে চেয়েছে, তেবাসের বক্তব্য দেশটির ক্রীড়া আইন ১০/১৯৯০-এর ৭৬.৪.বি অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করেছে কি না।
ওই অনুচ্ছেদে ক্রীড়াঙ্গনের মর্যাদা বা শালীনতা ক্ষুণ্ন করে এমন কর্মকাণ্ডকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনার বিধান রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তেবাস সতর্কবার্তা, জরিমানা কিংবা সাময়িক নিষেধাজ্ঞার মতো শাস্তির মুখে পড়তে পারেন। তবে অভিযোগ ওঠা মানেই তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে, এমন নয়।
নিজের বক্তব্যের পক্ষে আত্মপক্ষ সমর্থন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছেন তেবাস। তিনি বলেন, তাঁর মন্তব্যে প্রচারকৌশল ও মতাদর্শের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছিল। টিএডিকে তাঁর বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ বিষয়বস্তু ও প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। প্রয়োজনে আদালতও বিষয়টি মূল্যায়ন করতে পারে বলে উল্লেখ করেন লা লিগা সভাপতি।
তেবাস আরও অভিযোগ করেন, রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে বা ক্লাবটির টেলিভিশন চ্যানেলের মাধ্যমে রেফারিং ব্যবস্থা ও লা লিগা নিয়ে যেসব বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, সেগুলোর বিষয়ে ক্রীড়াবিষয়ক সচিব কিংবা সিএসডির শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তিনি নিন্দা শুনতে পাননি।
তাঁর প্রশ্ন, রেফারিং ব্যবস্থাকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলা কিংবা প্রতিযোগিতাকে জালিয়াতি হিসেবে তুলে ধরার অভিযোগগুলোও কি ক্রীড়াঙ্গনের মর্যাদা ও শালীনতার পরিপন্থী নয়? তেবাসের মতে, এ ধরনের বক্তব্য ক্লাব, রেফারি ও লাখো সমর্থকের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
রিয়াল মাদ্রিদ ও লা লিগার মধ্যে রেফারিং নিয়ে চলমান বিরোধের মধ্যেই তেবাসের মন্তব্য ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এখন স্পোর্টস ট্রাইব্যুনালের পর্যালোচনায় অভিযোগটি কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই নজর থাকবে স্প্যানিশ ফুটবল অঙ্গনের।
ভোরের আকাশ/সু.পা