আঙুল ভাঙা নিয়েই ইউরোপা লিগ শিরোপা জিতালেন মার্টিনেজ

ফাইনালের মঞ্চ যেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজের জন্যই লেখা। চাপ, ব্যথা কিংবা প্রতিকূলতা—কিছুই যেন থামাতে পারে না আর্জেন্টিনার এই গোলরক্ষককে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ম্যাচ শুরুর আগের ওয়ার্ম-আপেই আঙুলে চোট পান তিনি, তবুও পুরো ম্যাচ খেলেছেন এবং শেষ পর্যন্ত অ্যাস্টন ভিলাকে এনে দিয়েছেন দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান।
ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত ইউরোপা লিগ ফাইনালে এসসি ফ্রাইবার্গকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে অ্যাস্টন ভিলা। ম্যাচের আগে ওয়ার্ম-আপের সময়ই আঙুলে আঘাত পান মার্টিনেজ। ব্যথা নিয়ে মাঠের একপাশে তাকে চিকিৎসা নিতে দেখা যায়। পরে আঙুলে টেপ পেঁচিয়ে আবারও মাঠে নামেন তিনি।
চোটের মধ্যেও আত্মবিশ্বাস হারাননি এই বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক। পুরো ম্যাচে গোলপোস্টে দৃঢ় অবস্থানে থেকে ফ্রাইবার্গের একাধিক আক্রমণ রুখে দিয়ে ক্লিন শিট নিশ্চিত করেন তিনি।
ম্যাচ শেষে মার্টিনেজ বলেন, “ওয়ার্ম-আপের সময়ই আমার আঙুল ভেঙে যায়। তবে আমি বিশ্বাস করি, খারাপ কিছুর মধ্যেও ভালো কিছু থাকে। এভাবেই আমি এগিয়ে যাই।”
তিনি আরও জানান, “এর আগে কখনো আঙুল ভাঙেনি। বল ধরতে গেলেই আঙুলটা অস্বাভাবিকভাবে সরে যাচ্ছিল। তবুও অ্যাস্টন ভিলার হয়ে খেলাটা আমার জন্য গর্বের।”
অ্যাস্টন ভিলার হয়ে ম্যাচে গোল করেন ইউরি তিলেমানস, এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া ও মরগান রজার্স। এই জয়ে দীর্ঘদিনের ট্রফি খরা কাটাল ইংলিশ ক্লাবটি। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ফুটবলে নিজেদের শক্ত অবস্থানও জানান দিল উনাই এমেরির দল।
শেষ বাঁশি বাজার পর ব্যথা ভুলে সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপনে মাতেন মার্টিনেজ। সমর্থকদের দিকে ছুটে যান, এমনকি কোচ উনাই এমেরিকেও কাঁধে তুলে নেন তিনি।
আর্সেনালের সাবেক এই গোলরক্ষকের ক্যারিয়ারে ফাইনাল মানেই যেন সাফল্যের গল্প। বিশ্বকাপ, দুটি কোপা আমেরিকা ও এফএ কাপের পর এবার যোগ হলো ইউরোপা লিগ শিরোপা।
আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তার চোট নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও, ম্যাচ শেষে বড় কোনো শঙ্কার ইঙ্গিত দেননি মার্টিনেজ। তিনি বলেন, “আজ উদযাপনের রাত। এখন আনন্দ করার সময়, এরপর মনোযোগ বিশ্বকাপে।”
ভোরের আকাশ/সু.পা