এমবাপ্পের ঝলক : ১০ জন নিয়েও ব্রাজিলকে হারাল ফ্রান্স

৪৬ দিন পর মাঠে নেমে গোল করে ফিরলেন ফরাসি তারকা, আর তার সেই এক মুহূর্তের ঝলকেই ছিটকে গেল দিশাহীন ব্রাজিল। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয়ে প্রীতি ম্যাচ জিতেছে ফ্রান্স, তবে স্কোরলাইনের চেয়েও বড় গল্প ছিল দুই দলের মানসিকতা ও প্রস্তুতির পার্থক্য।
গিলেট স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুটা ছিল ধীরগতির, ছন্দহীন। দুই দলই যেন নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় ছিল বেশি, আক্রমণে ধার কম। কিন্তু এমন ম্যাচেই পার্থক্য গড়ে দেন বড় খেলোয়াড়রা—এবং সেটাই করলেন এমবাপ্পে। মাঝমাঠ থেকে বল কাড়ার পর দ্রুত আক্রমণে একা এগিয়ে গিয়ে নিখুঁত চিপে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন তিনি। ৪৬ দিন পর গোল পেয়ে যেন নিজের ছন্দে ফেরার বার্তাও দিয়ে দিলেন।
অন্যদিকে, ব্রাজিলের চিত্র ছিল একেবারেই ভিন্ন। কোচ কার্লো আনচেলত্তির পরিকল্পনা মাঠে কার্যকর হয়নি। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে স্ট্রাইকার হিসেবে খেলানোর সিদ্ধান্তে আক্রমণে ধার হারায় দলটি। রাফিনিয়াও ছিলেন নিষ্প্রভ, শেষ পর্যন্ত চোটের কারণে বিরতির পর আর নামেননি। আক্রমণে পরিকল্পনার ঘাটতি যেমন ছিল, তেমনি রক্ষণেও দেখা গেছে অস্থিরতা।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে নাটকীয়তা আসে। ডায়োট উপামেকানোর লাল কার্ডে ১০ জনে নেমে পড়ে ফ্রান্স। সংখ্যায় এগিয়ে যাওয়ার পর ব্রাজিলের সামনে ম্যাচে ফেরার বড় সুযোগ তৈরি হয়। কিছু সময়ের জন্য চাপও সৃষ্টি করে তারা।
কিন্তু ঠিক এই জায়গাতেই ধরা পড়ে তাদের অগোছালো অবস্থা। সুযোগ কাজে লাগানোর বদলে উল্টো দ্রুত পাল্টা আক্রমণে দ্বিতীয় গোল হজম করে বসে ব্রাজিল। গোছানো বিল্ডআপ থেকে হুগো একিতিকের সহজ ফিনিশিং ব্যবধান বাড়িয়ে দেয়।
শেষ দিকে ব্রেমারের গোলে ব্যবধান কমালেও ততক্ষণে ম্যাচ অনেকটাই হাতছাড়া। যোগ করা সময়ে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুসের শেষ শটটিও লক্ষ্যে থাকেনি।
ম্যাচ শেষে স্পষ্ট—ফ্রান্স খুব বেশি ঝলমলে না খেলেও সংগঠিত, আত্মবিশ্বাসী এবং কার্যকর। অন্যদিকে ব্রাজিল এখনো খুঁজছে নিজেদের পরিচয়। ব্যক্তিগত তারকা থাকলেও দলগত সমন্বয় ও কৌশলে ঘাটতি রয়ে গেছে স্পষ্টভাবেই।
বিশ্বকাপ দরজায় কড়া নাড়ছে। এই সময়ে এসে ফ্রান্স নিজেদের প্রস্তুতির বার্তা দিয়ে দিল দৃঢ়ভাবে। আর ব্রাজিলের জন্য এই ম্যাচ যেন সতর্ক সংকেত—সময় খুব বেশি নেই, গুছিয়ে ওঠার কাজটা এখনই করতে হবে।
ভোরের আকাশ/আ.র