প্রতিপক্ষ আলজেরিয়াকে হালকাভাবে নিচ্ছে না আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে আরও ছয় দিন অপেক্ষা করতে হলেও প্রস্তুতিতে কোনো ধরনের আত্মতুষ্টির সুযোগ রাখছে না আর্জেন্টিনা। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের কোচ লিওনেল স্কালোনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, আলজেরিয়াকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। বিশেষ করে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে হারের অভিজ্ঞতা এখনও তাদের মনে রয়েছে।
আগামী বুধবার ভোর ৭টায় কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বলেন, প্রতিপক্ষের আক্রমণভাগে বেশ কয়েকজন দ্রুতগতির ফুটবলার রয়েছে, যারা যেকোনো সময় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
তিনি বলেন, “আলজেরিয়া খুবই সংগঠিত একটি দল। তাদের প্রতি যথাযথ সম্মান দেখাতে হবে এবং সতর্ক থাকতে হবে। তারা আমাদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে সক্ষম।”
আলজেরিয়ার খেলার ধরনে মরক্কোর সঙ্গে কিছুটা মিল খুঁজে পাচ্ছেন আর্জেন্টাইন কোচ। চলতি আসরে মরক্কো তাদের প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে ইতোমধ্যে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। পাশাপাশি আলজেরিয়ার কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচ ও দলটির খেলোয়াড়দেরও প্রশংসা করেন স্কালোনি।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ নিয়ে বাড়তি চাপ না নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। স্কালোনির ভাষ্য, “গত বিশ্বকাপ আমাদের শিখিয়েছে যে প্রথম ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটিই সবকিছু নির্ধারণ করে না। আমরা মানসিকভাবে স্বস্তিতে আছি এবং জানি প্রথম ম্যাচেই ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায় না।”
কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার যাত্রা শুরু হয়েছিল হতাশা দিয়ে। লিওনেল মেসির পেনাল্টি গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরও সৌদি আরবের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে যায় দলটি। তবে সেই ধাক্কা সামলে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছিল আলবিসেলেস্তেরা।
এবারের টুর্নামেন্টের আগে একাধিক খেলোয়াড়ের চোট নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় ছিল আর্জেন্টিনা শিবির। তবে অ্যাঙ্কলের চোট কাটিয়ে হুলিয়ান আলভারেজ এবং আঙুলের চোট থেকে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ প্রথম ম্যাচেই ফিরতে পারেন বলে আশাবাদী স্কালোনি। যদিও ডিফেন্ডার নিকোলাস তালিয়াফিকোকে নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।
অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দিও প্রতিপক্ষকে সমীহ করার পক্ষে মত দিয়েছেন। ৩৮ বছর বয়সী এই সেন্টার-ব্যাক বলেন, “বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার কারণে সবাই আমাদের হারাতে চাইবে। কাতার বিশ্বকাপেই আমরা তার উদাহরণ দেখেছি। যেকোনো দলই বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। তাই নিজেদের খেলায় মনোযোগী থাকার পাশাপাশি রক্ষণভাগকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।”
ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নামার আগে তাই সতর্কতা, আত্মবিশ্বাস এবং বাস্তবতাকে সমান গুরুত্ব দিচ্ছে আর্জেন্টিনা।
ভোরের আকাশ/সু.পা