রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সরকার-বিরোধী জোট স্বচ্ছ ভোট প্রক্রিয়ায় ঐকমত্য

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর দেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী ২০ আগস্টের নির্বাচনকে ঘিরে সরকারি দল ও বিরোধী জোট মুখোমুখি অবস্থানে থাকলেও অবাধ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে উভয় পক্ষ ঐকমত্যে পৌঁছেছে। ভোটগ্রহণ থেকে শুরু করে গণনা ও চূড়ান্ত ফল প্রকাশ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মণি ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
ভোটে পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা ও রাষ্ট্রপতির ভোটদানসহ ভোট গণনা এবং চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বলে জানানো হয়।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর নাম প্রধানমন্ত্রী পরবর্তী সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবেন। অন্যদিকে, ১১ দলীয় বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
নির্বাচনের আইনি কাঠামো এবং সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কার্যকারিতা নিয়েও সরকারি ও বিরোধী দলের চিফ হুইপ নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।
চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মণি বলেন, বিদ্যমান সংবিধানে কোনো সংশোধন আনা হয়নি। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ পুরোপুরি কার্যকর থাকবে। এ কারণে সংসদ সদস্যরা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন না।
ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া তুলে ধরে তিনি বলেন, ব্যালটে প্রার্থীর নামের পাশে ভোটদানকারী সংসদ সদস্যকে নিজের নাম ও আসন নম্বর লিখতে হবে। তার মতে, এ প্রক্রিয়া পরোক্ষভাবে প্রকাশ্য ভোটেরই রূপ দেয়।
জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন প্রসঙ্গে নুরুল ইসলাম মণি বলেন, স্বাধীন দেশে নতুন করে সংবিধান লেখার কিংবা পৃথক কোনো সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রয়োজন নেই। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সময়ের প্রয়োজনে বিভিন্ন দেশে সংবিধান একাধিকবার সংশোধন করা হলেও এর মূল কাঠামো অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি বিষয় আগামী সংসদ অধিবেশনে নতুন বিল উত্থাপনের মাধ্যমে হুবহু বাস্তবায়ন করা হবে।
অন্যদিকে, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম জুলাই সনদের মূল চেতনা এবং ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, প্রায় ৩৫ বছর পর দেশে প্রতিযোগিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক চর্চা আরও দৃশ্যমান হবে।
তবে জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার এবং গোপন ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকলে নির্বাচিত পদের মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়ত বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে উন্মুক্ত ভোটের পরিবর্তে আইন পরিবর্তনের মাধ্যমে গোপন ব্যালট চালুর সুযোগ থাকলেও বর্তমান নির্বাচনে তা করা সম্ভব হয়নি।
তবে দীর্ঘ আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে বিরোধী দল রাজপথ ও সংসদে তাদের ইতিবাচক ভূমিকা অব্যাহত রাখবে বলেও জানান নাহিদ ইসলাম।
ভোরের আকাশ/সু.পা