৫ কার্গো এলএনজি, ৭৫ হাজার টন সার কিনবে সরকার

সরকার দেশের জ্বালানি ও কৃষি খাতের চাহিদা মেটানোর জন্য পাঁচটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) চালান এবং ৭৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানি করার অনুমোদন দিয়েছে।
এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৪০ হাজার টন ইউরিয়া সার এবং রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার টন এমওপি সার আমদানি করা হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশীয় কৃষি উৎপাদন এবং জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্টিগ্লোব ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, ফার্টিগ্লোব থেকে জিটুজি (সরকার টু সরকার) চুক্তির আওতায় ২০০৭ সাল থেকে ইউরিয়া সার আমদানি করা হয়। আগের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির অনুমোদন নিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
ফার্টিগ্লোব ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি মোতাবেক প্রতি মেট্রিক টন ৪১০ মার্কিন ডলার হিসেবে মোট ১ কোটি ৬৪ লাখ ডলারে এই ৪০ হাজার টন সার কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ২০১ কোটি ২২ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক প্রস্তাবের ভিত্তিতে রাশিয়ার জেএসসি ‘ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন (প্রোডিনটর্গ)’ ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) চুক্তির আওতায় ৩৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১৫১ কোটি ৫৬ লাখ ৫৭ হাজার ৮৮৫ টাকা। প্রতি মেট্রিক টন সারের মূল্য ধরা হয়েছে ৩৫২.৯৩ মার্কিন ডলার।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সিঙ্গাপুরের আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড থেকে ২০২৬ সালে সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় পাঁচ কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। স্বল্পমেয়াদি এই চুক্তির মাধ্যমে জ্বালানি সংকট নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভোরের আকাশ/এনএস