শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রসঙ্গ-জুলাই সনদ ও গণভোট

সরকার এখন কী করবে

মো. রেজাউর রহিম

প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০২৫, ১১:১২ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছেই না। বড় রাজনৈতিক দলগুলোর অনৈক্যে এ অনিশ্চয়তা আরো প্রলম্বিত হচ্ছে। এদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রধমার্থে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।  

এ অবস্থায় গত ২৮ অক্টোবর জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উপায় সম্পর্কিত সুপারিশ অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জমা দেয়। যেখানে ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে প্রস্তাবিত গণভোট ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের দিনই হবে- নাকি তার আগেই অনুষ্ঠিত হবে, সে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে গত ৩ নভেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে সাত দিনের মধ্যে এ ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোকে সমঝোতায় যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। সেই হিসেবে গতকাল সোমবার সাত দিন শেষ হলেও সমাধান এখনো আসেনি। আগামী ১৩ নভেম্বর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এসব বিষয় চূড়ান্ত হবে বলে সরকারি একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

আর ১৫ নভেম্বরের মধ্যে সরকার ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’ এবং ‘গণভোট’ আয়োজনের জন্য ‘অধ্যাদেশ’ জারি করবে। অবশ্য এখনও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বিষয়গুলো নিয়ে সরকারের অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে।

সূত্র জানায়, এ অবস্থায় সরকার জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট দুটোই একই দিনে আয়োজনের জন্য বড় রাজনৈতিক দল-বিশেষ করে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।

জানা গেছে, বিদ্যমান বাস্তবতায় দুইটি ভিন্ন দিনে ‘জাতীয় নির্বাচন’ ও ‘গণভোট’ আয়োজন কিছুটা জটিল বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়টিকেও ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বলে মনে করছে সরকার। তবে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের সময়সূচি নিয়ে বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীর ভিন্ন অবস্থান এবং কৌশলী অবস্থানে রয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এ অবস্থায় নির্বাচন নিয়ে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর ভিন্ন অবস্থান সার্বিকভাবে জনমনে নানান প্রশ্নেরও জন্ম দিয়েছে।

এদিকে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট নিয়ে সরকার দ্রুতই সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরের সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা জানান। 

উপদেষ্টা বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট প্রশ্নে মতভিন্নতার কারণে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আর সমঝোতার দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর ছেড়ে দিয়েছিল সরকার। সেজন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে আলোচনায় বসে মতৈক্যে পৌঁছাতে সাত দিন সময় দেওয়া হয়েছিল।

সমঝোতার সময়সীমা শেষ হয়েছে- এ বিষয়ে সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সরকারের অবস্থানটা সরকার স্পষ্ট করেছে। অনেকগুলো ক্ষেত্রেই তো রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে। যে বিষয়গুলোতে ঐকমত্য হয়নি সেগুলোর বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো যাতে নিজেরা একসঙ্গে বসে একটা ঐকমত্যে এসে সরকারকে জানায়। আমরা জেনেছি, রাজনৈতিক দলগুলো এখনো সেই প্রক্রিয়ায় যায়নি।

আমরা বলেছিলাম, রাজনৈতিক দলগুলো যদি নিজেরা সমাধান করতে না পারে তবে সরকার অবস্থান নেবে। যেহেতু সাত দিন পার হয়ে গেছে, এখন সরকার বসবে। সরকার অভ্যন্তরীণভাবে আলোচনা করে যেটা ভালো মনে হয় সরকার সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

তিনি বলেন, সরকার একটা সম্ভাব্য সমাধান মাথায় রেখেই সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথা বলে একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হবে, সেটা খুব দ্রুতই আপনাদের জানিয়ে দেওয়া হবে।

সরকার সিদ্ধান্ত আরোপ করছে কি না- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কেউ তো বলেনি যে সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। যদি শুনতাম সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না- তারপরও যদি সরকার সিদ্ধান্ত নিত তাহলে বলা যেত যে আমরা আরোপ করছি, তা তো নয়। সরকারের তো একটা দায়িত্ব আছে,  এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে অচলাবস্থাকে কাটিয়ে আনতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, তবে সিদ্ধান্ত দিতে খুব বেশি সময় আমরা নেব না। আমরা নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে।

সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটি যদি রাজনৈতিক দলগুলো না মানে- এ প্রশ্নের জবাবে সৈয়দা রিজওয়ানা বলেন, ‘যদি’ ‘দিয়ে’ আর এখন প্রশ্ন কইরেন না, সরকার সিদ্ধান্ত নিক। কেউ তো বলেনি সরকারের সিদ্ধান্ত আমরা মানবো না। কেউ যদি সিদ্ধান্ত না নিতে পারে, তবে সিদ্ধান্ত তো মানতে হবে। আমাদের যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেই দায়িত্ব তো পালন করতে দিতে হবে।

উপদেষ্টা আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে সরকার ‘যেটা ভালো’ মনে করে সেই সিদ্ধান্ত নেবে।

১৩ নভেম্বর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে চূড়ান্ত হচ্ছে
সূত্র জানায়, রাজনৈতিক দলগুলোর দাবিদাওয়ার মধ্যে কিছুটা সমন্বয় করে সরকার একটা সমাধান বের করার চেষ্টা করছে। এ ক্ষেত্রে প্রধান তিনটি দল (বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি) তাদের নিজস্ব দাবি থেকে কিছুটা হলেও ছাড় দেবে বলে আশা করছে সরকার।

সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, ১৩ নভেম্বর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ সবকিছু চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে। আর চূড়ান্ত হলে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে সরকার ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন আদেশ এবং গণভোট আয়োজনের বিষয়ে ‘অধ্যাদেশ’ জারি করবে। ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এসব বিষয়ে সরকারের অনানুষ্ঠানিক আলোচনাও চলছে।

জানা গেছে, কয়েকজন উপদেষ্টা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তারা রাজনৈতিক দলগুলোকে সরকারের মনোভাব এবং বাস্তব পরিস্থিতি বোঝানোর চেষ্টাও করছেন। 

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন উপদেষ্টা পরিষদের এমন একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভোরের আকাশ’কে বলেন, সব রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে বড় রাজনৈতিক দল-বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দাবি সমন্বয় করে সরকার সমাধানের উদ্যোগ নিচ্ছে। জনআকাক্সক্ষা ও সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে সরকার নিজের এ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গণভোট প্রশ্নে বিএনপি, জামায়াতসহ তাদের সমমনা দলগুলোর অবস্থান ঠিক বিপরীত অবস্থানে রয়েছে। জামায়াতের দাবি, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের আয়োজন করতে হবে। আর বিএনপি জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে চায়। সরকার জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের পক্ষে। এ বিষয়ে জামায়াত ছাড় দেবে বলে আশা করছে সরকার। অন্যদিকে পিআর পদ্ধতিতে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়টি এসেছে জুলাই সনদে। এতে আপত্তি থাকলেও বিএনপি এ বিষয়ে ছাড় দেবে বলে সরকার আশা করছে।

জানা গেছে, ‘ফ্যাসিস্ট’ ও ‘স্বৈরাচারী সরকার’ ব্যবস্থা যাতে দেশে আর কখনো প্রতিষ্ঠিত হতে না পারে সেজন্য সরকার বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী জাতীয় এবং জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ‘গুরুত্বপূর্ণ’ সরকার। তবে নিজে দলের দাবির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ না হওয়ায় এনসিপি এখনো ‘জুলাই সনদে’  স্বাক্ষর করেনি।

অবশ্য, সরকারের সূত্রগুলো বলছে, গণভোটের সময় নিয়ে এনসিপি এখন অনেকটা নমনীয় হয়েছে। জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে হলেও তারা মেনে নেবে এমনটি ভাবছে সরকার। আর জাতীয় নির্বাচনের আগে ‘গণভোট’ অনুষ্ঠিত হলেও আপত্তি নেই এনসিপি’র।

তবে এনসিপির দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করতে হবে। সরকার এনসিপির এই দাবির বিষয়ে মানার বিষযে দলটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করছে। তবে দলটি ইতোমধ্যে তাদের নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে ‘শাপলা কলি’ মেনে নিয়েছে। তারা জুলাই সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়েও সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করবে না- বলেই ধারণা করছে সরকারের নীতিনির্ধারকরা।

উল্লেখ্য, গণভোট অনুষ্ঠানের, বিশেষ করে- গণভোটের সময়সূচি নিয়ে বিএনপি, জামায়াত ইসলামীসহ তাদের সমমনা দলগুলোর অবস্থান এখনও সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী। জামায়াতে ইসলামীর দাবি, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের আয়োজন করতে হবে। আর বিএনপি জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে চায়। আর দলগুলোর এই পরস্পরবিরোধী অবস্থানের একটি যথাযথ সমন্বয় করতে চাচ্ছে সরকার।  

৭ দিনের সময় শেষ
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র মতভেদের প্রেক্ষাপটে ৩ নভেম্বর উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি সভায় সরকার এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। সভা থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজের উদ্যোগে আলোচনা করে দ্রুততম সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে ঐক্যবদ্ধ দিকনির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এ জন্য সাত দিন সময় দেওয়া হয় রাজনৈতিক দলগুলোকে। নতুবা সরকার নিজে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানায়।

সরকারের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা গতকাল সোমবার শেষ হেেয়ছে। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে কোনো বৈঠক বা আলোচনার আয়োজন এখনও করেনি বলে জানা গেছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব এখন সরকারের ওপরই চলে এসেছে।

সূত্র বলছে, গণভোটের সময় নিয়ে এনসিপি অনেকটাই নমনীয়। জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে হলেও তারা মেনে নেবে। অবশ্য সব রাজনৈতিক দল সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নেবে কিনা- সেই শঙ্কা এখনো আছে।

এদিকে গত রোববার ঠাকুরগাঁওয়ে এক মতবিনিময় সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেন, ওপরতলার কিছু শিক্ষিত লোক যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসে ঘাড়ের ওপর গণভোট ও সনদের মতো বিষয় চাপিয়ে দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের দিনই গণভোট হতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ভোরের আকাশ’কে বলেন, জুলাই সনদে সবাই স্বাক্ষর করেছে। এর মধ্যে সব বিষয়ে দলের মত-ভিন্নমত রয়েছে। এখন সমাধান করার দায়িত্ব সরকারের।

তিনি বলেন, জুলাই সনদ যেভাবে সই হয়েছে, সেভাবে বাস্তবায়ন হলে কারও ‘খুশি’ বা ‘বেজার’ হওয়ার বিষয় থাকবে না।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ যেভাবে এসেছে, সেভাবেই বাস্তবায়ন করতে হবে। গণভোট আগে করতে হবে।

সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে করার বিষয়ে তিনি বলেন, এটা অযৌক্তিক। এ ধরনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা রাজপথে কর্মসূচি নিয়ে আছেন।

এদিকে, চলতি নভেম্বর মাসেই গণভোট এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারিসহ পাঁচ দফা দাবিতে আজ মঙ্গলবার জামায়াতে ইসলামীসহ আন্দোলনরত আটটি ইসলামী দল ঢাকায় মহাসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

আদেশ ও অধ্যাদেশ
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন বিষয়ে একটি আদেশ জারি করা হবে। এর অধীনে গণভোট নিয়ে আরেকটি অধ্যাদেশ জারি করতে হবে। কারণ, বর্তমান সংবিধানে গণভোটের বিধান নেই। গণভোট নিয়ে ১৯৯১ সালের যে আইন রয়েছে, তা দিয়ে এবারের গণভোট আয়োজন করা যাবে না। ১৯৯১ সালের আইনটি কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর গণভোট আয়োজনের জন্য করা হয়েছিল।

এবারের প্রস্তাবিত গণভোটের দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ এবং এর তফসিলে থাকা ৪৮টি সংবিধানসম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাব অনুমোদন করা। আদেশ ও অধ্যাদেশ পরপর দুই দিনে হতে পারে। এরপর গণভোটের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করে তা প্রকাশ করা হবে।

সরকার উচ্চকক্ষে ‘পিআর’ চায়
এদিকে, সংসদের উচ্চকক্ষ পিআর পদ্ধতিতে গঠিত হবে- জুলাই সনদে এমনটাই বলা হয়েছে। অর্থাৎ, সংসদ নির্বাচনে দলগুলো যে ভোট পাবে, তার অনুপাতে উচ্চকক্ষে আসন পাবে। জামায়াত ও তাদের সমমনা দলগুলোও এটা চায়। তবে বিএনপি চায় নিম্নকক্ষে যে দল যত আসন পাবে, সেই আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষেও আসন পাবে।

সূত্র জানায়, সরকারের ভেতরের একটা বড় অংশ মনে করছে, বিএনপির চাওয়ামতো উচ্চকক্ষ গঠিত হলে খুব একটা লাভ হবে না। কারণ, এটা অনেকটা সংসদের নারী আসন বণ্টনের মতোই হবে। আর সংসদ নির্বাচনের ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন হলে সংসদের ভারসাম্য রক্ষা হবে। ক্ষমতাসীন দলকে কিছুটা হলেও চাপে রাখা যাবে। আর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষা অনুযায়ী যতটা সম্ভব সংসদকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা সম্ভব হবে। সরকারি দলকে একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী হওয়া থেকেও নিবৃত্ত রাখা যাবে।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারের একজন উপদেষ্টা ভোরের আকাশ’কে বলেন, বিএনপি উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি মেনে নিলে জামায়াতসহ অন্যরা একই দিনে গণভোট ও সাধারণ নির্বাচন মেনে নেবে- এমন একটা ধারণা পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, আগামী বছর ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নিজ নিজ দলের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। অন্যদলগুলোও প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তবে এখনও ‘জুলাই সনদ’ অনুসারে সংস্কার বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া বাকি আছে।

এ বিষয়ে সরকার আদেশ জারি করলে দলগুলো পুরোপুরি নির্বাচনমুখী হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক দলের নেতারা। সরকারও এ বিষয়টি মাথায় নিয়ে এগোচ্ছে বলে জানা গেছে।

ভোরের আকাশ/এসএইচ

গণভোটজুলাই সনদপিআর

শেয়ার করুন: