ভূমিকম্পে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে আহতদের ঢল

ভূমিকম্পের পর রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগীর চাপ বেড়েছে। আতঙ্কে দৌড়াদৌড়ি, নিরাপদ স্থানে ছুটতে গিয়ে পড়ে গিয়ে কিংবা ধাক্কাধাক্কিতে আহত হয়ে সবচেয়ে বেশি রোগী গেছেন ঢাকার জাতীয় পঙ্গু হাসপাতালে।

শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ভূমিকম্প অনুভূত হলে রাজধানীজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই বাড়ি-অফিস, মার্কেট এবং উঁচু ভবন থেকে মানুষ রাস্তার দিকে ছুটতে থাকে। কোথাও কোথাও ভবন হেলে পড়েছে। ভূমিকম্পের পর বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পঙ্গু হাসপাতালে বাড়তে থাকে আহত রোগীদের ভিড়।
সরেজমিনে জরুরি বিভাগে দেখা যায়, নতুন বাজার বেড়াইতের তানজিমা ফেরদৌস ভূমিকম্পের সময় মাথা ঘুরে পড়ে কোমরে গুরুতর আঘাত পান, ভেঙে গেছে তার একটি হাত।
কালাচাঁদপুরের ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামার সময় পড়ে কোমরের হাড়ে মারাত্মক আঘাত পান।
আরেকজন আব্দুল্লাপুরের ইয়াসিন আরাফাত জানান, অফিসে কাজ করার সময় ভূমিকম্পে একটি আলমারি পড়ে তার ডান হাত ভেঙে যায়।

মিরপুর ৬-এর মনিম হোসেনও আতঙ্কে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে বাম পা ভেঙে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
আব্দুল্লাহপুরের ইয়াসিন আরাফাত দুপুর ২টায় হাসপাতালে ভর্তি হন; অফিসে ভূমিকম্পের সময় আলমিরা পড়ে তার ডান হাত ভেঙে যায়।
নতুন বাজার বেড়াইদের তানজিমা ফেরদৌস (৪০) মাথা ঘুরে পড়ে যান মেঝেতে এবং কোমরের নিচে আঘাত পান।
মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, বসুন্ধরা, রামপুরা, হাতিরঝিল এবং পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও অনেক আহত ব্যক্তি চিকিৎসা নিতে পঙ্গু হাসপাতালে এসেছেন।
এক চিকিৎসক বলেন, ঝাঁকুনির চেয়ে আতঙ্কই মানুষের বেশি ক্ষতি করেছে। বেশিরভাগ রোগীই দৌড়ে পালাতে গিয়ে আঘাত পেয়েছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, শুক্রবার রাত ১০টা পর্যন্ত পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ১২০ জন। ভর্তি হয়েছেন ১৯ জন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
শুধু পঙ্গু হাসপাতাল নয়, ঢাকার অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালেও একই চিত্র। দীর্ঘ লাইন, চিকিৎসা নিতে ভিড় এবং স্বজনদের ব্যস্ততা। রাজধানীর বাইরে বিভিন্ন জেলা হাসপাতালেও ভূমিকম্প-আতঙ্কে আহত রোগী বৃদ্ধির খবর পাওয়া গেছে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগে সচেতনতা ও প্রশিক্ষণের অভাবই আতঙ্ক বাড়িয়ে দেয়, যার প্রভাব সরাসরি হাসপাতালে গিয়ে পড়ে। তাই ভবিষ্যতে এমন দুর্যোগে ক্ষতি কমাতে প্রস্তুতি জোরদারের ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞেরা।
ভোরের আকাশ/এসএইচ