ডেনমার্ক পরিকল্পনা বাতিল
তেহরানে রাষ্ট্রদূত হচ্ছেন ঢাবি উপাচার্য

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খানকে ডেনমার্কে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে অন্তর্বর্তী সরকার। সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে তাঁর নাম তেহরানে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের জন্য প্রস্তাব (এগ্রিমো) পাঠানো হয়েছে।
ঢাকার একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ইরান সরকার ইতোমধ্যে ওই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে। সম্প্রতি তেহরান থেকে নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগে সম্মতির বার্তা (গ্রিন সিগন্যাল) ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, এগ্রিমো এতদিনে পাওয়ার কথা। সম্ভবত প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হওয়ার পথে রয়েছে।
কথিত আছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০তম উপাচার্যকে রাষ্ট্রদূত পদে পুরস্কৃত করার জন্য একটি রাজনৈতিক দল সরকারকে অনুরোধ করে। সেই আবদার রক্ষার্থে উপাচার্যকে ইউরোপের দেশ ডেনমার্কে রাষ্ট্রদূত করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। নিয়াজ আহমদের জন্য এগ্রিমো পাঠানো হয় কোপেনহেগেনে। অন্যদিকে, ডেনমার্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত একেএম শহীদুল করিমকে ঢাকায় ফেরানোর প্রস্তুতি নেয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডেনমার্কে রাষ্ট্রদূত হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা ছিল না নিয়াজ আহমদের। নিয়োগের প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন। শুধু অপেক্ষা ছিল কোপেনহেগেনের গ্রিন সিগন্যালের। সেই অপেক্ষার প্রহর শেষ হওয়ার আগেই আসে বাধা, গনেশ যায় উল্টে। পরে কোপেনহেগেনের বিকল্প চিন্তা করে সরকার। পদ শূন্য থাকা ইরানে নিয়াজ আহমদকে রাষ্ট্রদূত করার সিদ্ধান্ত হয়। তেহরানে পাঠানো হয় নিয়োগ প্রস্তাব।
সম্প্রতি ইরানে সরকারবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। সেই বিক্ষোভে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তবে, দেশটির শাসনব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রায়ই পশ্চিমাদের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার শঙ্কায় থাকে ইরান। রাজনৈতিক অস্থিরতা লেগে থাকা তেহরান পছন্দ নয় নিয়াজ আহমদের। ইতোমধ্যে বিষয়টি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কথা রয়েছে। নতুন সরকারে যারা আসবেন তাদের চাওয়া-পাওয়ার ওপর নির্ভর করবে উপাচার্যকে তারা কোথায় দেখতে চান।
এদিকে, সংসদ নির্বাচনের দুদিন আগে উপাচার্য পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা বলেছেন অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারাবাহিকতা রক্ষায় যেন কোনো অসুবিধা না হয়, সেজন্য সরকার চাইলে আরও কিছুদিন দায়িত্ব চালিয়ে যেতেও রাজি আছেন বলে জানান।
উল্লেখ্য, বর্তমানে তেহরান চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স দিয়ে অফিসিয়াল কাজ চলছে। কমার্শিয়াল কাউন্সেলর রাবেয়া সুলতানা এ দায়িত্বে রয়েছেন।
ভোরের আকাশ/এনএস