সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: মরদেহ কোথায়, ঢাকাকে এখনো জানায়নি রিয়াদ

সৌদি আরবে গত ১৪ অক্টোবর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি—নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সুইটি আক্তারের মরদেহ বর্তমানে কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও কিছুই জানতে পারেনি তাদের পরিবার। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কারণ ও বিস্তারিত জানতে চেয়ে বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো কূটনৈতিক নোটের বিপরীতে রিয়াদ থেকে এখনও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে রোববার (১ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এর আগে জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল জানায়, দুই নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ পূর্বে তাদের কোনো তথ্য দেয়নি। সৌদি প্রেস এজেন্সিতে প্রকাশিত দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি দেখেই কেবল কনস্যুলেট বিষয়টি জানতে পারে। পরবর্তীতে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ, আদালতের রায়, আইনি সহায়তা এবং মরদেহের পরিণতি সম্পর্কে জানতে চেয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক নোট পাঠায় বাংলাদেশ।
অন্যদিকে ভিয়েনা কনভেনশনের অনুচ্ছেদ ৩৭ অনুযায়ী, কোনো বিদেশি নাগরিকের মৃত্যু হলে বিলম্ব না করে সংশ্লিষ্ট দেশের কনস্যুলেটকে অবহিত করার নিয়ম রয়েছে। নজরুলের পরিবার ও সুইটির বাবার আকুল আবেদন, তাদের সন্তানের মরদেহ বা দেহাবশেষ যেন অন্তত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এদিকে ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে আটক থাকা ওই দুই নাগরিক মৃত্যুদণ্ডাদেশের মুখে ছিলেন—এ কথা তাদের পরিবার বা বাংলাদেশ মিশন পূর্বাহ্নে জানত না বলে যে তথ্য এসেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। এ ঘটনায় বাংলাদেশ মিশনের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি ওঠার পাশাপাশি গত ২৮ অক্টোবর হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে, যেখানে আটক, বিচার ও কনস্যুলার সহায়তার বিবরণ সংক্রান্ত সব নথিপত্র প্রকাশের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
ভোরের আকাশ/ এনউব