সরকারের নিরপেক্ষতায় ইতিহাসের সেরা ভোট

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। স্বাধীনতার পর এই প্রথম নির্বাচন- যেখানে সংঘর্ষে প্রাণহানি হয়নি। মূলত সরকারের নিরপেক্ষ অবস্থানের কারণেই ইতিহাসের সেরা সুষ্ঠু ভোট হয়েছে। এই নির্বাচন উপহার দেওয়ার মধ্যদিয়ে জাতিকে দেওয়া কথা রেখেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। মূলত সরকারের নিরপেক্ষতার কারণে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীও কঠোর ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেছে। যেখানে তারা অনিয়ম পেয়েছেন সেখানেই ব্যবস্থা নিয়েছেন। এ কারণে ভোট বেচাকেনা, টাকা বিতরণসহ নানা অনিয়মে অন্তত ১৬ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার কারণে বেড়েছে ভোটার উপস্থিতি।
৯ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, এবারের নির্বাচন দেশের ইতিহাসে ‘ওয়ান অব দ্য বেস্ট ইলেকশন’ হবে। অন্তর্বর্তী সরকার যেসব লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছিল তা প্রায় ৯০ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম প্রধান উপদেষ্টার বরাত দিয়ে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, নির্বাচন হবে সুষ্ঠু ও শান্তিপূণ।
প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের পূর্ববর্তী পরিস্থিতি উল্লেখ করে বলেন, আগের নির্বাচনগুলো ছিল প্রকৃত অর্থে নির্বাচন নয় বরং এক ধরনের মুখি বা ‘ফেক ইলেকশন’। তবে এবারের নির্বাচন হবে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য। এবারের নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক কাঠামোতে অভূতপূর্ব পরিবর্তন আনবে বলেও আশা করেন প্রধান উপদেষ্টা। এর আগে নানা অনুষ্ঠানেও প্রধান উপদেষ্টা ইতিহাস সেরা নির্বাচন আয়োজনের কথা বলেন।
ওয়াদা রাখার দাবি সিইসির: প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন বলেছেন, জাতিকে যে ওয়াদা আমরা দিয়েছিলাম, সেই ওয়াদা পরিপূর্ণ করতে পেরেছি। আমরা সবাইকে দেখাতে চাই, আমাদের মধ্যে কোনো ধরনের কোনো লুকোচুরি নেই। আমরা সম্পূর্ণ ট্রান্সপারেন্ট একটা নির্বাচন দেওয়ার চেষ্টা করেছি। গত বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাচন কমিশনের ফলাফল ঘোষণা অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, সবাই মিলে অনেক দিনের একটি প্রত্যাশিত সুন্দর নির্বাচন হয়েছে। আমরা সবাই মিলে জাতিকে উপহার দিতে পেরেছি। পরম করুণাময়ের দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। আমাদের যে চেষ্টা, যে কষ্ট, সেটা সার্থক হয়েছে বলে আমরা মনে করি।
তিনি আরও বলেন, সকাল থেকে আমরা বিভিন্ন মিডিয়ায় দেখছিলাম মোটামুটিভাবে এদেশের ইতিহাসের নির্বাচনের ইতিহাসে যেকোনো মানদণ্ডে যদি আপনি বিচার করেন, এটাকে একটা বেশ ভালো নির্বাচন হিসেবে গণ্য করা যায়। আমার খুবই ভালো লেগেছে। আমরা ওয়াদা করেছিলাম যে, একটা উৎসবমুখর পরিবেশে একটা নির্বাচন আমরা উপহার দেব জাতিকে। নিরপেক্ষ একদম সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ এবং ক্রেডিবল একটা ইলেকশন উপহার দেব এবং আমরা বিশ্বাস করি, আমরা এটা পেরেছি উপহার দিতে পেরেছি। এটা সবাই স্বীকৃতি দিচ্ছে।
সিইসি বলেন, আমার খুবই ভালো লেগেছে। কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি সীমাবদ্ধতা থাকবেই। এটা ১৮ কোটি লোকের দেশ। ১২৭ মিলিয়ন ভোটারের দেশ। আর রেফারেন্ডামসহ যদি ধরি ২৫৪ মিলিয়ন ব্যালট আমাদেরকে ছাপাতে হয়েছে, বিলি করতে হয়েছে। আপনাদের সহযোগিতা না হলে কিন্তু আমরা এই সুন্দর নির্বাচনটা উপহার দিতে পারতাম না। আমরা আপনাদের কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। দেশবাসীর কাছে কৃতজ্ঞ। রাজনৈতিক নেতাদের কাছে কৃতজ্ঞ। রাজনৈতিক দলের কাছে কৃতজ্ঞ।
কঠোর অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী: টাকা বিতরণ, জাল ভোট প্রদান, ব্যালট পেপার ছিনতাইসহ নানা অনিয়মে গাজীপুর, কুষ্টিয়া, ঝালকাঠি, সিরাজগঞ্জ, শেরপুর, কিশোরগঞ্জ ও পঞ্চগড়ে ১২ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া ঢাকায় চারজনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণকালে এবং আগের দিন বুধবার রাতে তাদের সাজা দেওয়া হয়। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গাজীপুর-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে টাকা বিতরণের অভিযোগে এক যুবককে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত বৃহস্পতিবার গাজীপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসাদুজ্জামান এ সাজা দেন বলে জানান কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন। দণ্ড পাওয়া শামীমুল ইসলাম (৩৫) কুড়িগ্রাম সদর এলাকার মজিবুর রহমানের ছেলে। তিনি কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস কারখানায় চাকরি করেন।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, জামায়াতের প্রার্থী সালাহ উদ্দিনের পক্ষে বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার মাটিকাটা এলাকায় ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণের সময় শামীমুলকে আটক করে পুলিশে হস্তান্তর করে এলাকাবাসী। এ সময় তার কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। এদিকে, গাজীপুর-৪ আসনে একটি কেন্দ্রের বাইরে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় চারজনকে দুই বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
গত বৃহস্পতিবার বিকালে কাপাসিয়া উপজেলার ভাওয়াল চাঁদপুর উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের পাশে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান গাজীপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর হোসেন। দণ্ড পাওয়ারা হলেন- কাপাসিয়া উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের বিএনপি কর্মী ইলিয়াস, চাঁদপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি তারেক; একই উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ইফতেখার এবং ঝিনাইদহ সদর উপজেলার শিকারপুর গ্রামের জামায়াত কর্মী মেজবাহ।
আলমগীর হোসেন বলেন, কেন্দ্রের বাইরে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে উভয়দলের চার নেতাকর্মীকে আটক করেন।
এদিকে, কুষ্টিয়ার মিরপুরে ভোট চলাকালে ব্যালট পেপার বাক্সে না ফেলে বাইরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে এক যুবককে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত বৃহস্পতিবার সকালে মিরপুর উপজেলার ৩১ নম্বর তালবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হোসেন। দণ্ডপ্রাপ্ত শাহিন মালিথা (২৮) মিরপুর উপজেলার নওদা গোবিন্দপুর এলাকার মৃত আব্দুল মালিথার ছেলে। তবে শাহিনের হাতে পাওয়া ব্যালটে কোনো সিল ছিল না।
নাজমুল হোসেন বলেন, সকালে ভোটকেন্দ্রে একজন ভোটার কোনো প্রতীকে সিল না দিয়ে ব্যালট নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে আটক করে। পরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জান্নাতুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে অভিযুক্ত শাহিনকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করেন।
কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে এক নারীকে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
গত বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের ভরতকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র এ ঘটনা ঘটে বলে জানান ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা জজ মিস মুক্তা রানী। দণ্ড পাওয়া ছাবিনা বেগম (৩৪) ওই এলাকার শুক্কুর আলী হাওলাদারের মেয়ে। তিনি ওই কেন্দ্রের ভোটার ছিলেন। অতিরিক্ত জেলা জজ মুক্তা রানী বলেন, ছাবিনা ভরতকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে গেলে দায়িত্বপ্রাপ্তদের সন্দেহ হয়। পরে তাকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ছাবিনাকে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়; যা অনাদায়ে তাকে আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাবাসে থাকতে হবে বলে জানান অতিরিক্ত জেলা জজ। সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে জাল ভোট দিতে গিয়ে আটক হওয়ার পর এক যুবককে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার কয়ড়া ইউনিয়নের কয়ড়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে বলে সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান মো. সানু আকন্দ। দণ্ডিত ২২ বছর বয়সী রুবেল হোসেন উপজেলার কয়ড়া চরপাড়ার আলতাফ হোসেনের ছেলে।
সানু আকন্দ বলেন, রুবেল হোসেন নিজের ভোট দেওয়ার পর আবার এক প্রবাসী ব্যক্তির ভোট দেওয়ার জন্য কেন্দ্রে প্রবেশ করেছিল। এসব সেখানে কর্তব্যরতা তাকে আটক করেন। শেরপুর-১ সদর আসনের কেন্দ্র থেকে ব্যালট পেপার বই ছিনতাইয়ের অভিযোগে একজনকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় দিকে চরমোচারিয়া ইউনিয়নের নলবাইদ দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন প্রিজাইডিং অফিসার মো. শাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, সকালে কেন্দ্র থেকে তিনটি ব্যালট পেপার বই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এতে কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ কিছুক্ষণ বন্ধ থাকে। পরে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে ভোটগ্রহণ পুনরায় চালু করা হয়।
অন্যদিকে, কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে জাল ভোট দেওয়ায় এক যুবককে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার পিপলাকান্দি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে বলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক জেলা প্রশাসনের নির্বাহী হাকিম স্বাগত সাম্য জানান।
দুই বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত ইমরান মিয়া (২০) উপজেলার পিপলাকান্দি গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। আদালত জানায়, ইমরান মিয়া অন্য একজনের হয়ে ভোট দিতে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা তাকে আটক করেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাৎক্ষণিক বিচার শেষে তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে। এদিকে, পঞ্চগড়-১ আসনে আটোয়ারী উপজেলায় অবৈধ ব্যালট পেপারসহ এক এনসিপি নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। পরে তাকে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
গত বৃহস্পতিবার সকালে আটোয়ারী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র হতে তাকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন বিচারিক আদালতের বিচারক ও সহকারী জজ রানা পারভেজ। দণ্ডিত সুকুমার দাস বাবু এনসিপি যুবশক্তির আটোয়ারী উপজেলা শাখার আহ্বায়ক।
রানা পারভেজ বলেন, নিবাচন চলাকালীন ওই ব্যাক্তিকে ভোটকেন্দ্রে অবৈধ ব্যালট পেপারসহ আটক করা হয়। পরে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৩ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
প্রায় ৬১ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ঐতিহাসিক ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ৬১ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন অধ্যায়ের বার্তা বহন করছে। শুক্রবার ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি একথা বলেন।
শফিকুল আলম বলেন, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে নেত্র নিউজ জানিয়েছে, গতকালের বৃহস্পতিবার ঐতিহাসিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৬০ দশমিক ৬৯ শতাংশ। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই হার তাৎপর্যপূর্ণ ও সুস্থ অংশগ্রহণের প্রতিফলন। বাংলাদেশে ৭০ শতাংশের বেশি ভোটার উপস্থিতির পরিসংখ্যান প্রায়ই সংশয় সৃষ্টি করে এমন প্রেক্ষাপটে ৬১ শতাংশ উপস্থিতিকে অনেকেই বাস্তবসম্মত বলে মনে করছেন।
স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, ইতিহাসের তুলনায় দেখা যায় ১৯৯১ সালের গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫৫ শতাংশ। সেই মানদণ্ডে ২০০৮ সালের নির্বাচনে রেকর্ড করা ৮৭ শতাংশ উপস্থিতি; যা নিয়ে ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্সে (ডিজিএফআই) প্রভাব ও প্রকৌশলের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত পরিসংখ্যানগতভাবে অস্বাভাবিক ও প্রশ্নবিদ্ধ বলে সমালোচকদের অভিমত।
যা বলছেন বিশ্লেষকরা: সিনিয়র সাংবাদিক তারিক আল বান্না বলেন, এবারের নির্বাচন ইতিহাসের সেরা। কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে সব নির্বাচনেই প্রাণহানি হয়েছে। কিন্তু এবারের নির্বাচনে সংঘাতে কেউ মারা যায়নি। এটা অবশ্যই একটা ভালো দিক। ভোটার উপস্থিতি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবু হেনা রাজ্জাকী বলেন, নির্বাচনে বিজয়ী ও বিজিত— উভয় পক্ষকেই অভিনন্দন। দেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। আমাদের শক্তি বিভাজনে নয়, ঐক্যে। যাদের কাঁধে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব এসেছে, তারা ন্যায়, ইনসাফ ও সুশাসনের বাংলাদেশ উপহার দেবেন, এটাই প্রত্যাশা। বিগত নির্বাচনগুলোতে বেশি প্রাণহানি ও অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটলেও এবার তা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী স্পষ্ট বার্তা দেয়— তারা একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চায় এবং কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা বা নাশকতা বরদাস্ত করা হবে না। তিন বাহিনীর সমন্বিত অবস্থান সম্ভাব্য সহিংসতাকারীদের জন্য শক্ত সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করেছে। মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তা বাহিনীর দৃশ্যমান উপস্থিতি ভোটারদের মধ্যে আস্থা বাড়িয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে
তিনি বলেন, জনগণ, নির্বাচন কমিশন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত সদিচ্ছাই নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ রাখতে সহায়ক হয়েছে।
ভোটারদের উচ্ছ্বাস: রাজধানীর নারিন্দা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোট দেন অর্পনা দাস। তিনি বলেন, পরিবেশ চমৎকার। কোনো সমস্যা হয়নি। জীবনের প্রথম ভোট দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, নাগরিক দায়িত্ব পালন করেছি। এই ধারা অব্যাহত থাকবে। প্রত্যেক মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগ করা উচিত বলে তিনি মনে করেন। তার সঙ্গে ভোট দিতে এসেছিলেন সাথী দাস।
তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রের পরিবেশ খুবই ভালো। কেউ জোর করেনি কিংবা বাধা দেয়নি। রাজধানীর মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় (বালক শাখা) কেন্দ্রে ভোট দিতে এসেছিলেন রহিমা বেগম। অতীতের যেকোনো সময়ে চেয়ে ভালো নির্বাচন হয়েছে। ভোট দিতে সমস্যা হয়নি।
ভোরের আকাশ/এসএইচ