ক্রমেই বাড়ছে ভোটারের উপস্থিতি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন ভোটাররা।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সারাদেশে ভোটগ্রহণ চলছে; একটানা চলবে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। বেলা বাড়ার সঙ্গে-সঙ্গে ঢাকার বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়ছে।
প্রথমবার ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়ে মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি শেষ করা নুসাইবা বলেন, “এক্সাইটেড।”
নতুন সরকার নিয়ে তার প্রত্যাশা, “সৎ থাকা। অনেস্ট থাকা।”
এই কেন্দ্রে একজন ভোটার বলেন, ভোটের পরিবেশ স্বতস্ফূর্ত দেখছি, ভালো দেখছি। দীর্ঘ ১৭ বছর আমরা ভোট দিতে পারিনি, ভোটের পরিবেশও পাইনি। এখন ভোট দিচ্ছি।
এই কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা একজন বললেন, ১৬ বছর পর ভোট দিতে এলাম। আর কিছু বলার নেই।
ঢাকা-৬ আসনের অন্তর্ভুক্ত টিকাটুলির কামরুন্নেসা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোট দিয়ে উচ্ছ্বসিত অ্যাডভোকেট মাসুমা আক্তার বলেন, নতুন বাংলাদেশে ভোট দিয়ে অনেক ভালো লাগছে। আমাদের ত্যাগের বহিঃপ্রকাশ, এটাই চেয়েছিলাম। আশা করি, শেষ পর্যন্ত এমন থাকবে।
শেওড়াপাড়া থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী কামাল হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, খুব ভালো পরিবেশ। সবাই কো-অর্ডিনেট করছে। এবার প্রথমবার ভোট ভোট মনে হচ্ছে।
একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে কর্মরত মজিদ নিজের ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, "নিজের ভোট নিজে দিতে পেরেছি, এটাই ভালো লাগছে। তবে সময় একটু বেশি লাগছে।"
শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রে সকাল থেকে ভোটারদের ভিড় খুব বেশি ছিল না। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে ভোটার সংখ্যাও বাড়বে বলে কেন্দ্র সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ডিএমপির মোহাম্মদপুর জোনের এডিসি জুয়েল রানা মোহাম্মদপুরে সাংবাদিকদের বলেন, "নিরাপত্তাজনিত কোনো সংকট নেই।"
ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “কোথাও কোনো ধরনের গোলযোগের খবর পাওয়া যায়নি। শান্তিপূর্ণভাবে নির্বিঘ্ন পরিবেশ বজায় থাকবে শেষ পর্যন্ত-এটাই আশা করি।”
আরেক নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, “কোনোভাবে ভোটে কারচুপি বরদাশত করা হবে না, আইন শৃঙ্খলঅ বাহিনী সতর্কতার সাথে কাজ করছে। হেলিকপ্টার, ড্রোন, বডিওর্ন ক্যামেরা ও সিসি ক্যামেরা নিয়ে মনিটর করছি আমরা। আলহামদুলিল্লাহ। ছোটেখাটো ঘটনার বাইরে কোনো সমস্যা দেখছি না।”
এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, “মাঠ পর্যায়ে কোথাও কোথাও খবর অতিরিঞ্জত হচ্ছে। রিয়েলিটি হচ্ছে- আইন শৃঙ্খলাবাহিনী, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা সবাই দায়িত্ব নিয়ে সিনসিয়ারলি কাজ করছে।
“ভালো ভোট সবার প্রত্যাশা, ইনশাহআল্লাহ ভালো নির্বাচন হবে। আইন শৃঙ্খলাবাহিনী ও ম্যাজিস্ট্রেটরা টহলে রয়েছে; বিভিন্ন বিভিন্ন জেলায় আচরণ পরিপন্থি যারা কাজ করছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জালভোট, ভোটারদের বাধা দেওয়া এবং ভোট কেনাবেচার সাথে যারাই জড়িত হবে, তাদের ধরে আইনের আওতায় আনা হবে। নির্বাচনি সংস্কৃতি নতুনভাবে সাজাতে, পরিবর্তন আনতে আমরা সক্ষম হবো।”
এবারের নির্বাচনে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোট দিতে পারবেন। তাদের মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, আর নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন। এছাড়া এক হাজার ২৩২ জন হিজড়া ভোটার ভোট দিতে পারবেন।
ভোরের আকাশ/আ.র