পিরোজপুরে চলছে রমরমা কোচিং বাণিজ্য!

পিরোজপুরে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের টাকার বিনিময়ে কোচিং করানোর অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশ্যে কিংবা অপ্রকাশ্যে বিভিন্ন স্থানে এসব শিক্ষক কোচিং করালেও বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২’-এর ৩ নম্বর বিধিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, “কোনো শিক্ষক তার নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীকে কোচিং করাতে পারবেন না।”
তবে সরকারি নীতিমালায় এমন স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও পিরোজপুরের কয়েকটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে কোচিং করানোর অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
এ নিয়ে সচেতন অভিভাবকদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—সরকারি নীতিমালা কি কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ, নাকি বাস্তবেও এর যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে?
অভিভাবকদের অভিযোগ, একজন শিক্ষার্থী কোনো শিক্ষকের কাছে কোচিং না করলে সে যেন বিদ্যালয়ে কোনো ধরনের বৈষম্য, অবহেলা কিংবা মানসিক চাপের শিকার না হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত কোচিংনির্ভরতা কমিয়ে বিদ্যালয়কেন্দ্রিক পাঠদান নিশ্চিত করাও জরুরি।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কাছে জ্ঞান, নৈতিকতা ও আদর্শের প্রতীক। তাই নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে কোচিং করানোর অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু নীতিমালা লঙ্ঘনের বিষয় নয়, শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ বিষয়ে পিরোজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোঃ আলাউদ্দিন ভূঁইয়া জনি বলেন, কোচিং বাণিজ্যের বিষয়ে ইতোমধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করা হয়েছে। সরকারি নীতিমালা যথাযথভাবে মেনে চলার ক্ষেত্রে দ্রুত আইন বাস্তবায়ন করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোচিং বাণিজ্য বন্ধে জেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে নীতিমালার বাস্তবায়ন কতটা নিশ্চিত হয়, সেটিই দেখার বিষয়। সচেতন অভিভাবকদের প্রত্যাশা—অভিযোগগুলো যাচাই করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বৈষম্যহীন ও স্বচ্ছ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
ভোরের আকাশ/ এনউব